February 20, 2026, 1:31 pm

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
রোজার মধ্যেই ঈদের আগেই দেশের হতদরিদ্র, প্রতিবন্ধী, বিধবা ও পশ্চাৎপদ প্রায় পাঁচ কোটি পরিবারের কাছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ শুরু করার ঘোষণা দিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এ মাস থেকেই পর্যায়ক্রমে কর্মসূচির বাস্তবায়ন শুরু হবে। সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি কেবল একটি নতুন কর্মসূচি নয়; বরং সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও বিস্তৃত ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ। পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে যে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল—ভাতা কর্মসূচি, ডিজিটাল ডাটাবেইজ, সরাসরি আর্থিক সহায়তা—তারই একটি পরিপূরক ও সমন্বিত সংস্করণ হিসেবে দেখা হচ্ছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচিকে।
নারী-কেন্দ্রিক অন্তর্ভুক্তির ওপর জোর/
ঘোষণা অনুযায়ী, দেশের প্রতিটি পরিবারের নারী সদস্যকে পর্যায়ক্রমে এই কার্ডের আওতায় আনা হবে। সরকারের দৃষ্টিতে, পরিবারভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থায় নারীকেই প্রধান অংশীদার হিসেবে যুক্ত করা হলে সহায়তার সুফল সরাসরি পরিবারে পৌঁছায় এবং শিশুদের শিক্ষা, পুষ্টি ও স্বাস্থ্য ব্যয়ে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, টাকার অঙ্ক এখনো নির্ধারিত হয়নি; তবে বাস্তবায়নযোগ্য কাঠামো গড়ে তুলে ধাপে ধাপে সুবিধা সম্প্রসারণই এখন অগ্রাধিকার। অর্থাৎ, প্রথম ধাপে একটি জাতীয় নেটওয়ার্ক তৈরি—পরবর্তী ধাপে আর্থিক ও সেবাভিত্তিক সুবিধা বৃদ্ধি।
সমন্বিত উদ্যোগ: আন্তঃমন্ত্রণালয় কাঠামো/
ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমকে বাস্তবভিত্তিক ও টেকসই করতে অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি ছোট কমিটি গঠন করা হবে। তারা অগ্রাধিকার এলাকা নির্ধারণ, উপকারভোগী তালিকা প্রণয়ন এবং অর্থায়নের রূপরেখা তৈরি করবে।
এভাবে আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের মাধ্যমে কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে—যা প্রশাসনিক দক্ষতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পূর্ববর্তী উদ্যোগের ধারাবাহিকতা/
পূর্ববর্তী সরকারের সময় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা বৃদ্ধি, ডিজিটাল পরিচিতি ও ভাতা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনয়নের যে ভিত্তি তৈরি হয়েছিল, বর্তমান উদ্যোগ সেটিকে আরও সম্প্রসারিত করবে।
ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে যদি একটি একক, সমন্বিত ডাটাবেইজ তৈরি করা যায়, তাহলে ভবিষ্যতে খাদ্য সহায়তা, নগদ ভাতা, স্বাস্থ্যসেবা, এমনকি দুর্যোগকালীন সহায়তাও দ্রুত ও লক্ষ্যভিত্তিকভাবে দেওয়া সম্ভব হবে। এতে পুনরাবৃত্তি কমবে, অপচয় কমবে এবং প্রকৃত উপকারভোগীরা অগ্রাধিকার পাবেন।
ঈদকে সামনে রেখে মানবিক বার্তা/
ঈদের আগে কর্মসূচি শুরুর ঘোষণা সামাজিক সহমর্মিতারও একটি প্রতীকী বার্তা বহন করে। উৎসবের সময়ে সহায়তা পৌঁছালে তা শুধু আর্থিক নয়, মানসিক স্বস্তিও এনে দেয়। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এটি নির্বাচনী অঙ্গীকারের বাস্তবায়নের পাশাপাশি একটি মানবিক দায়িত্বও।
সামনে পথচলা/
প্রায় পাঁচ কোটি পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করা একটি বিশাল কর্মযজ্ঞ। ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে একটি কার্যকর, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং প্রযুক্তিনির্ভর সামাজিক সুরক্ষা কাঠামো গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।
সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে পরিবারভিত্তিক ও নারী-কেন্দ্রিক রূপ দেওয়ার এই উদ্যোগ সফল হলে তা দারিদ্র্য হ্রাস, আর্থসামাজিক স্থিতিশীলতা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে উঠতে পারে। এখন নজর বাস্তবায়নের গতির দিকে—ঘোষণা থেকে প্রয়োগে কত দ্রুত ও কার্যকরভাবে সরকার এগোতে পারে, সেটিই নির্ধারণ করবে এই উদ্যোগের দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য।