March 3, 2026, 3:34 pm

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
পাইলট প্রকল্পের আওতায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমে প্রথম ধাপেই অন্তর্ভুক্ত হয়েছে পাংশা উপজেলা। সরকারের এই নতুন সামাজিক সুরক্ষা উদ্যোগকে ঘিরে ইতোমধ্যে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। আগামী ১০ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে এই কর্মসূচির উদ্বোধন হওয়ার কথা রয়েছে।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পাইলট কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধনের দিন থেকেই নির্বাচিত সুবিধাভোগী পরিবারগুলো সরাসরি তাদের মোবাইল ওয়ালেট অথবা ব্যাংক হিসাবে প্রথম মাসের জন্য ২ হাজার ৫০০ টাকা করে নগদ সহায়তা পাবেন। ডিজিটাল কিউআর কোড সংবলিত স্মার্ট ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ব্যবহার করে এ সহায়তা বিতরণ করা হবে, যা ভবিষ্যতে সরকারি সেবা গ্রহণেও কাজে লাগবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. হারুন-অর-রশিদ রাজবাড়ী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের আম্রকানন চত্বরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, দেশের ৪৯২টি উপজেলার মধ্যে প্রথম পর্যায়ে মাত্র ১৩টি এলাকা পাইলটিংয়ের জন্য বাছাই করা হয়েছে, যার মধ্যে পাংশা উপজেলার একটি ওয়ার্ডও রয়েছে।
জানা গেছে, প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মোট ৬ হাজার ৫০০ পরিবার এ কার্ড পাবেন। সরকারের দাবি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ডিজিটাল পদ্ধতিতে কিউআর কোড সংবলিত স্মার্ট কার্ড চালু করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে ভর্তুকি বা নগদ সহায়তা সরাসরি উপকারভোগীর কাছে পৌঁছানো সম্ভব হবে, মধ্যস্বত্বভোগী বা অনিয়মের সুযোগ কমবে।
পাইলট প্রকল্পের জন্য নির্বাচিত ১৩টি স্থানের মধ্যে রয়েছে রাজধানীর কড়াইল বস্তি এলাকা, চট্টগ্রামের পটিয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর, বান্দরবানের লামা, খুলনার খালিশপুর, ভোলার চরফ্যাশন, সুনামগঞ্জের দিরাই, কিশোরগঞ্জের ভৈরব, নাটোরের লালপুর, ঠাকুরগাঁও সদর এবং দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ। এসব এলাকার নির্ধারিত ওয়ার্ডে প্রথম ধাপে কার্ড বিতরণ করা হবে।
এ প্রসঙ্গে এমপি মো. হারুন-অর-রশিদ বলেন, বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার ও রাষ্ট্র কাঠামো সংস্কারের ৩১ দফা প্রস্তাবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর অঙ্গীকার ছিল। সেই প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবেই সরকার এখন পরীক্ষামূলকভাবে এটি চালু করছে। তার ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে প্রকৃত সুবিধাভোগীরা অনেক সময় বঞ্চিত হয়েছেন। ডিজিটাল স্মার্ট কার্ড ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে এ ধরনের সমস্যা কমবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
স্থানীয়ভাবে পাংশা উপজেলাকে অন্তর্ভুক্ত করা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই মনে করছেন, এটি দরিদ্র ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর জন্য তাৎক্ষণিক স্বস্তি বয়ে আনবে। বিশেষ করে নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বমুখী বাজারদর এবং কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে মাসিক নগদ সহায়তা পরিবারগুলোর ব্যয় ব্যবস্থাপনায় সহায়ক হতে পারে।
তবে সুশীল সমাজের কয়েকজন প্রতিনিধি বলেছেন, প্রকৃত উপকারভোগী নির্বাচনই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তালিকা প্রণয়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে প্রকল্পের উদ্দেশ্য ব্যাহত হতে পারে। তারা স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সতর্ক ভূমিকার আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কার্ডধারীদের তথ্য জাতীয় পরিচয়পত্র ও মোবাইল নম্বরের সঙ্গে সমন্বয় করে ডাটাবেজে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। পর্যায়ক্রমে সফলতা মূল্যায়ন করে এ কর্মসূচি সারা দেশে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
সব মিলিয়ে পাংশা উপজেলায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির সূচনা স্থানীয় উন্নয়ন ও সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থায় একটি নতুন অধ্যায়ের সূচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়—পাইলট উদ্যোগ কতটা সফলভাবে বাস্তবায়িত হয় এবং তা ভবিষ্যতে সারাদেশে বিস্তৃত করার পথে কতটা কার্যকর দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।