September 19, 2026, 7:24 pm

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন পোর্টাল
সংবাদ শিরোনাম :
নবম পে-স্কেলের গেজেট জারি, কার্যকর ১ জুলাই থেকে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে সদ্য নিযুক্ত উপাচার্যদের ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ইউট্যাবের সংবর্ধনা চার বছর পর গড়াইতে ঐতিহ্যের পুনরুজ্জীবন, আজ দ্বিতীয় দিন—কাল সমাপনী ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে IIER-এর ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত ১৩ বছর বয়সে ভারতে, এক বছর পর ফিরল সন্তান কোলে মৈত্রী পাইপলাইনে ভারত থেকে এলো ৪৭ লাখ লিটার ডিজেল, এ বছরে আমদানি ৬২ হাজার টন ছাড়াল জুলাই গণঅভ্যুত্থান বিরোধী অপরাধ/ ওবায়দুল কাদের, বাহাউদ্দিন নাছিম ও আরাফাতসহ সাত নেতার মৃত্যুদণ্ড উষ্ণ আলিঙ্গনের আড়ালে ব্রিকসের শীতল হিসাব জালিয়াতির অভিযোগে কুষ্টিয়া ইসলামিয়া কলেজের অনার্স পরীক্ষা কেন্দ্র বাতিল ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের পঞ্চম সমাবর্তন ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে

কুষ্টিয়ায় আধ্যাত্মিক সাধুগুরু হত্যাকাণ্ড/ মামলার আসামি তালিকা নিয়ে প্রশ্ন, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে আধ্যাত্মিক সাধুগুরু হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামি তালিকা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী, স্থানীয় বাসিন্দা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষের বক্তব্যে ঘটনার বর্ণনায় ভিন্নতা থাকায় বিষয়টি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
মামলাটি দায়ের করেছেন নিহতের ভাই ফজলুর রহমান। এতে জামাত ও ইসলামপন্থী কয়েকটি দলের কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ১৮০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। তবে স্থানীয়দের একাংশের দাবি, ঘটনাস্থলে উপস্থিত এবং বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজে শনাক্ত হওয়া কিছু ব্যক্তির নাম এজাহারে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। অন্যদিকে, যাদের আসামি করা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
ঘটনার সময় ধারণ করা একটি ভিডিও ফুটেজ—যার দৈর্ঘ্য প্রায় ১৮ মিনিট ৫৫ সেকেন্ড—নিয়ে আলোচনা চলছে। স্থানীয়দের মতে, ওই ভিডিওতে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের কর্মীদের উপস্থিতি দেখা গেলেও মামলার তালিকায় সেই উপস্থিতির প্রতিফলন পুরোপুরি নেই। তাদের দাবি বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিএনপির ও এর অংগ সংগঠনের অসংখ্য নেতাকর্মী ঐ ঘটনার প্রথমসাড়িতে ছিলেন। যাদের নাম এজাহারে আসেনি। তবে এই ভিডিওর সত্যতা ও প্রেক্ষাপট যাচাই এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন হয়নি।
এ বিষয়ে বাদী ফজলুর রহমান সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, আসামি তালিকা নিয়ে প্রশ্নের জবাব দিতে তিনি অপারগ।
অন্যদিকে, মামলার প্রধান আসামি হিসেবে যাকে উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি দাবি করেছেন—ঘটনার আগে সম্ভাব্য উত্তেজনার বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো হয়েছিল এবং পরিস্থিতি শান্ত রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল।
রাজনৈতিক অঙ্গনেও এ নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দেখা গেছে। একটি পক্ষের দাবি, প্রকৃত ঘটনার সঙ্গে অসামঞ্জস্য রেখে মামলাটি রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত হতে পারে। অন্যদিকে, আরেকটি পক্ষ বলছে, তাদের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জড়ানোর চেষ্টা চলছে।
স্থানীয় বিএনপির এক নেতা বলেন, ঘটনাটি খুব অল্প সময়ের মধ্যে সংঘটিত হয়েছে এবং সেখানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশা ও মতের মানুষ উপস্থিত ছিল। তার মতে, এটিকে নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে দেখা সঠিক হবে না।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের কেউ কেউ মনে করছেন, এটি ছিল একটি তাৎক্ষণিক জনতার প্রতিক্রিয়া, যা পরবর্তীতে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। আবার অন্যরা বলছেন, ঘটনার আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু আহ্বান ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল, যা পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করতে পারে।
জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মামলার আসামি নির্ধারণের বিষয়টি মূলত বাদীর এখতিয়ার। তবে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হবে। কেউ নির্দোষ প্রমাণিত হলে তার নাম বাদ দেওয়া হবে এবং নতুন কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
সামগ্রিকভাবে, ঘটনাটি এখনো তদন্তাধীন থাকায় নিশ্চিতভাবে দায় নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। তাই সংশ্লিষ্টরা নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.

পুরোনো খবর এখানে,তারিখ অনুযায়ী

© All rights reserved © 2024 dainikkushtia.net
Maintenance By DainikKushtia.net