June 2, 2026, 10:19 am

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে দেশের সব শপিং মল, মার্কেট ও দোকানপাট আজ থেকে পুনরায় সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত খোলা রাখার সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছে সরকার। একই সঙ্গে বিলবোর্ডের আলোকসজ্জা এবং বিভিন্ন মেলা, বাণিজ্য মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে সরকার কার্যকর করলেও বিষয়টি প্রতিপালনে ব্যবসায়ীরা এখনও পুরোপুরিভাবে কার্যকর করেনি। গতকাল সোমবার এ সিদ্ধান্ত কার্যকরের প্রথম দিনে এমন চিত্র দেখা গেছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের সমন্বয়-২ শাখা থেকে জারি করা এক নির্দেশনায় এ তথ্য জানানো হয়। নির্দেশনাটি দেশের সব সিটি করপোরেশনের মেয়র ও প্রশাসক, বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসকদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, সন্ধ্যার পর দেশে বিদ্যুতের চাহিদা সবচেয়ে বেশি থাকে। এ সময় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, বিপণিবিতান, আলোকসজ্জা ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ব্যাপক বিদ্যুৎ ব্যবহার হওয়ায় জাতীয় গ্রিডের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়। সেই চাপ কমাতে সরকার কয়েক দফায় বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবে আগে থেকেই শপিং মল ও মার্কেট সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বন্ধ রাখার নিয়ম চালু ছিল।
তবে ঈদুল আজহা উপলক্ষে ব্যবসায়ীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে সাময়িকভাবে দোকানপাট ও শপিং মল রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখার অনুমতি দেওয়া হয়। ঈদের কেনাকাটা শেষ হওয়ায় এখন আবার আগের সময়সূচি পুনর্বহাল করা হয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের স্বার্থে রাত ১০টার পরিবর্তে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে সব শপিং মল, মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ করতে হবে। একইসঙ্গে চলমান ও অনুষ্ঠিতব্য মেলা, বাণিজ্য মেলা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও ওই সময়ের মধ্যে শেষ করতে হবে। সব ধরনের বিলবোর্ডের বাতি সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বন্ধ রাখাও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
তবে অতীতের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, সরকারি নির্দেশনা থাকলেও অনেক ব্যবসায়ী তা পুরোপুরি অনুসরণ করেননি। বিশেষ করে জেলা ও শহর পর্যায়ের অনেক মার্কেট এবং দোকানপাট নির্ধারিত সময়ের পরও খোলা রাখতে দেখা গেছে। ফলে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে গৃহীত পদক্ষেপের সুফল পুরোপুরি পাওয়া যায়নি। এবারও নির্দেশনা বাস্তবায়নে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিদ্যুৎ বিভাগ আশা করছে, নতুন করে সময়সূচি কার্যকর হওয়ার ফলে সন্ধ্যার পর বিদ্যুতের অতিরিক্ত চাপ কমবে এবং জাতীয় পর্যায়ে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
কুষ্টিয়া শহরের পুরোন জামা-কাপড় বিক্রেতা হারুনুর-রশিদ আসকারী হারু বলেন, “সরকারের নির্দেশনা আমরা মেনে চলার চেষ্টা করছি। তবে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে দোকান বন্ধ করলে ব্যবসায় কিছুটা প্রভাব পড়ে। বিশেষ করে অফিস শেষ করে অনেক ক্রেতা সন্ধ্যার পর বাজারে আসেন। তারপরও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের স্বার্থে সবাইকে নিয়ম মেনে চলতে হবে।”
কুষ্টিয়া শহরের এক ব্যবসায়ী মাহবুবুর রহমান লম্বু বলেন, “সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশনা নতুন নয়। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, অধিকাংশ এলাকায় অনেক দোকান ও মার্কেট নির্ধারিত সময়ের পরও খোলা থাকে। নিয়ম সবার জন্য সমানভাবে কার্যকর না হলে শুধু কিছু ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।”