June 1, 2026, 10:41 am

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য, বন্যপ্রাণী এবং মৎস্যসম্পদের প্রজনন ও পুনরুৎপাদন প্রক্রিয়া সুরক্ষায় আজ থেকে টানা তিন মাসের জন্য বনাঞ্চলে সব ধরনের প্রবেশ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে বন বিভাগ। এই নিষেধাজ্ঞা আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
নতুন এই নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সুন্দরবনের অভ্যন্তরে কোনো জেলে, বাওয়ালি, মৌয়াল কিংবা দেশি-বিদেশি কোনো পর্যটক প্রবেশ করতে পারবেন না। একই সঙ্গে বন বিভাগের পক্ষ থেকে এ সময় কোনো ধরনের পাস বা পারমিট ইস্যুও বন্ধ রাখা হবে বলে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, প্রতিবছর জুন থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত সময়টি সুন্দরবনের পরিবেশগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি প্রাকৃতিক পর্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়। এ সময় নদী, খাল, মোহনা ও বনের অভ্যন্তরীণ জলাশয়ে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ডিম ছাড়ে এবং তাদের প্রজনন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। একই সময়ে বন্যপ্রাণীরা নিরাপদ পরিবেশে বাচ্চা প্রসব ও লালন-পালন করে এবং নানা প্রজাতির উদ্ভিদ থেকে বীজ অঙ্কুরিত হয়ে নতুন চারা জন্ম নেয়। এই পুরো প্রক্রিয়াটি প্রকৃতির স্বাভাবিক চক্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
এই স্বাভাবিক পরিবেশগত চক্র যাতে কোনো ধরনের বিঘ্ন ছাড়াই সম্পন্ন হতে পারে, সেজন্য দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবছর এই তিন মাস সুন্দরবনে প্রবেশ নিষিদ্ধ রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বন বিভাগ।
বন কর্মকর্তাদের মতে, এ সময়ে বনজীবীদের নৌযান চলাচল, জেলে ও পর্যটকদের অনিয়ন্ত্রিত উপস্থিতি এবং মানবসৃষ্ট শব্দ ও আলো বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক আচরণ ও চলাচলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। অনেক সংবেদনশীল প্রজাতি এই সময়ে সহজেই আতঙ্কিত হয়ে পড়ে এবং প্রজনন প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। ফলে সামগ্রিকভাবে বাস্তুতন্ত্রের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়।
তাদের মতে, যদি এই তিন মাস সুন্দরবনকে সম্পূর্ণভাবে মানবিক হস্তক্ষেপমুক্ত রাখা যায়, তবে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, কাঁকড়া ও অন্যান্য জলজ সম্পদের পুনরুৎপাদন আরও শক্তিশালী হবে এবং বন্যপ্রাণীর সংখ্যাও বাড়বে। পাশাপাশি বনভূমির উদ্ভিদ বৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য আরও সুসংহত হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে সুন্দরবনের স্থায়িত্ব রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এদিকে বন বিভাগ সতর্ক করে জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কেউ সুন্দরবনে প্রবেশ করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ সময় বনাঞ্চলে নিয়মিত টহল, নজরদারি এবং যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হবে বলেও জানানো হয়। বন বিভাগের পাশাপাশি কোস্ট গার্ড, নৌ-পুলিশ এবং মৎস্য অধিদপ্তরও এ কার্যক্রমে সহায়তা করবে।
বন কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করেছে, এই সাময়িক নিষেধাজ্ঞা ভবিষ্যতে সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে এবং পরিবেশগত ভারসাম্য আরও দৃঢ় করবে।