April 22, 2026, 11:05 am

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন পোর্টাল
সংবাদ শিরোনাম :
চাউলে চালবাজী/বিশ্ববাজারে ১৯% কমে, দেশের বাজারে ৫% বাড়ে, বাস্তবতার পেছনের বাস্তবতা মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি/ গ্রাহক পার্যায়ে বছরে সোয়া ১১ হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত চাপ সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির ৩৬ প্রার্থী চূড়ান্ত, কুষ্টিয়ায় ফরিদা ইয়াসমিন মহেশপুর সীমান্তে তিন বাংলাদেশিকে আটক করেছে বিএসএফ মেহেরপুরে বিএনপি নেতাকে গুলি, আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা স্থানান্তর এক মাসে দু’বার ৫৯৯ টাকা বৃদ্ধির ধাক্কায় এলপিজি/ অদৃশ্য চাপ ও জনজীবনে সহ্য ক্ষমতা কুষ্টিয়ায় আধ্যাত্মিক সাধুগুরু হত্যাকাণ্ড/ মামলার আসামি তালিকা নিয়ে প্রশ্ন, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি পাম্প মালিকদের অভিনন্দন: সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়লো/ দেড় বছরে বাড়তির ধারায় নতুন চাপ জনজীবনে কুষ্টিয়ায় আধ্যাত্মিক সাধক হত্যা: ১ সপ্তাহেও কোন গ্রেপ্তার নেই, প্রকাশ্যে ঘুরছে এজাহারভুক্ত আসামিরা

চাউলে চালবাজী/বিশ্ববাজারে ১৯% কমে, দেশের বাজারে ৫% বাড়ে, বাস্তবতার পেছনের বাস্তবতা

ড. আমানুর আমান, সম্পাদক, প্রকাশক ও মুদ্রাকর, দৈনিক কুষ্টিয়া ও দি কুষ্টিয়া টাইমস/
বিশ্ববাজারে যখন চালের দাম ধীরে ধীরে নেমে আসছে, তখন বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের জন্য সেই স্বস্তির খবর যেন কাগজেই আটকে আছে। এখানে ভোক্তারা দেখছেন ভিন্ন চিত্র—চালের দাম কমেনি, বরং বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে দেশের বাজারের এই বৈপরীত্য এখন প্রশ্ন তুলছে—সমস্যাটা কোথায়?
সরকারের দ্রব্যমূল্য ও বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা বিষয়ক টাস্কফোর্সের সাম্প্রতিক বৈঠকে উপস্থাপিত তথ্য বলছে, এক বছরের ব্যবধানে বিশ্ববাজারে বিভিন্ন মানের চালের দাম প্রায় ১৮ থেকে ১৯ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। কিন্তু একই সময়ে দেশের বাজারে মোটা চালের দাম উল্টো বেড়েছে সাড়ে ৫ শতাংশ পর্যন্ত। মাঝারি মানের চালেও দাম কমার বদলে বেড়েছে।
এই পরিসংখ্যান কেবল সংখ্যার হিসাব নয়; এটা দেশের বাজার ব্যবস্থার গভীরে থাকা কিছু মৌলিক সমস্যার ইঙ্গিত দেয়। সংখ্যাগুলো যেন একটি বৃহত্তর বাস্তবতার দরজা খুলে দেয়—যেখানে বাজার কেবল চাহিদা ও জোগানের সহজ সমীকরণে পরিচালিত হয় না, বরং নানা স্তরের প্রভাব, নিয়ন্ত্রণ ও সীমাবদ্ধতার মধ্যে আবদ্ধ।
প্রথমত, বাংলাদেশের খাদ্যবাজারের একটি বড় অংশ অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের ওপর নির্ভরশীল। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলেও তার সরাসরি প্রতিফলন সবসময় ঘটে না—এটি একটি বাস্তবতা। কিন্তু এখানেই প্রশ্ন শেষ হয়ে যায় না। কারণ, যেসব পণ্যে আমদানির ভূমিকা রয়েছে বা আন্তর্জাতিক দামের সঙ্গে সম্পর্ক থাকার কথা, সেখানেও একই ধরনের বিচ্ছিন্নতা দেখা যাচ্ছে। চালের ক্ষেত্রেই দেখা যায়—যদিও দেশের চাহিদার বড় অংশ দেশীয় উৎপাদন থেকে পূরণ হয়, তবুও ঘাটতি মেটাতে নিয়মিত আমদানি করা হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে যখন চালের দাম প্রায় ১৮ থেকে ১৯ শতাংশ কমেছে, তখন আমদানিকৃত চালের মাধ্যমে অন্তত বাজারে একটি চাপ তৈরি হওয়ার কথা, যা স্থানীয় দামকে কিছুটা হলেও কমাতে পারত। কিন্তু বাস্তবে সেই প্রতিযোগিতামূলক চাপ তৈরি হয়নি। এখানে দাম আগে বেড়ে নেয়, তারপর সেই বাড়তি দামে বাজনমূল্য তথাকথিত স্থিতিশীল রুপ নেয়।
এখানে আরও একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—আমদানি হলেও তা কতটা সময়োপযোগী ও প্রতিযোগিতামূলক হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমার পরও দ্রুত আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয় না, অথবা এলসি খোলার ক্ষেত্রে বিলম্ব ঘটে। ফলে কম দামে পণ্য আনার যে সুযোগ তৈরি হয়, তা কাজে লাগানো যায় না। আবার কিছু ক্ষেত্রে আমদানির পরিমাণ সীমিত থাকে, যা বাজারে কার্যকর প্রভাব ফেলতে পারে না। এর সঙ্গে যুক্ত হয় আমদানিকারকদের একটি অংশের ‘প্রাইস ম্যাচিং’ প্রবণতা—অর্থাৎ তারা আন্তর্জাতিক বাজারের কম দামের সুবিধা সরাসরি প্রতিফলিত না করে স্থানীয় উচ্চমূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দাম নির্ধারণ করে।
ফলে সামগ্রিকভাবে একটি দ্বৈত বাস্তবতা তৈরি হয়—কাগজে-কলমে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমছে, কিন্তু দেশের বাজারে সেই কমতির প্রতিফলন নেই। এটি স্পষ্ট করে যে, সমস্যা কেবল উৎপাদন কাঠামোর নয়; বরং আমদানি ব্যবস্থাপনা, বাজারে প্রতিযোগিতার ঘাটতি এবং মূল্য সঞ্চালনের (price transmission) দুর্বলতার একটি সম্মিলিত ফল।
এখানে উৎপাদন ব্যয়ের প্রসঙ্গ সামনে আসে। গত এক বছরে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, পরিবহন ব্যয়, সার ও কৃষি উপকরণের মূল্য বৃদ্ধি—সব মিলিয়ে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। ফলে কৃষক ও উৎপাদক পর্যায়ে দাম কমানোর সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে। কিন্তু এই যুক্তি আংশিক সত্য। কারণ, উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও আন্তর্জাতিক বাজারে যখন বড় ধরনের মূল্যহ্রাস ঘটে, তখন অন্তত কিছুটা প্রভাব বাজারে পড়ার কথা—যা বাস্তবে দেখা যাচ্ছে না।
এই অমিলের আরেকটি বড় কারণ বাজারে প্রতিযোগিতার সীমাবদ্ধতা। আমদানি, পাইকারি সরবরাহ এবং বিতরণ ব্যবস্থার একটি বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করে অল্পসংখ্যক ব্যবসায়ী গোষ্ঠী। এতে করে বাজারে একটি অঘোষিত সিন্ডিকেট তৈরি হয়, যা মূল্য নির্ধারণে প্রভাব বিস্তার করে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলেও তারা সেই সুবিধা ভোক্তাদের কাছে না পৌঁছে নিজেদের মুনাফা ধরে রাখে। ফলে বাজারে স্বাভাবিক প্রতিযোগিতা বাধাগ্রস্ত হয়।
সরবরাহ ব্যবস্থার জটিলতাও এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। উৎপাদক থেকে ভোক্তা পর্যন্ত পণ্য পৌঁছাতে একাধিক স্তর অতিক্রম করতে হয়—কৃষক, আড়তদার, পাইকার, খুচরা বিক্রেতা। প্রতিটি স্তরে কিছু না কিছু মার্জিন যোগ হয়। কিন্তু যখন দাম কমার কথা, তখন এই শৃঙ্খল দ্রুত সাড়া দেয় না। অর্থাৎ, দাম বাড়ার ক্ষেত্রে বাজার দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখালেও কমার ক্ষেত্রে সেই গতি দেখা যায় না—যা একটি অস্বাস্থ্যকর বাজার কাঠামোর লক্ষণ।
সরকারি পর্যবেক্ষণেও এই বাস্তবতার প্রতিফলন পাওয়া যায়। টাস্কফোর্সের প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে—আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে তা দ্রুত দেশের বাজারে প্রভাব ফেলে, কিন্তু কমলে তা তেমনভাবে প্রতিফলিত হয় না। এর অর্থ, বাজারে একটি ‘অসামঞ্জস্যপূর্ণ প্রতিক্রিয়া’ (asymmetric response) কাজ করছে, যা মূলত নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিযোগিতার ঘাটতির ফল।
এখানে সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। সরকার বলছে, বাজারে কোনো ধরনের কৃত্রিম সংকট বা কারসাজি বরদাশত করা হবে না এবং নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এই তদারকি কতটা কার্যকর—তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। কারণ, যদি কার্যকর হতো, তাহলে আন্তর্জাতিক বাজারের ইতিবাচক পরিবর্তনের কিছুটা হলেও প্রতিফলন ভোক্তারা পেতেন।
নীতিগত দিক থেকেও কিছু সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট। সময়মতো আমদানি সিদ্ধান্ত না নেওয়া, আমদানি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব, এবং প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি করতে ব্যর্থতা—এসব বিষয় বাজারকে একটি সংকীর্ণ পরিসরে আটকে রাখছে। এর ফলে, বাজারে দাম নির্ধারণ অনেক সময় বাস্তব চাহিদা-জোগানের বাইরে গিয়ে কিছু গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।
টাস্কফোর্স তাদের সুপারিশে এই সমস্যাগুলো মোকাবিলার জন্য বেশ কিছু পদক্ষেপের কথা বলেছে। এর মধ্যে রয়েছে—মজুতদারির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা, আমদানি প্রক্রিয়া আরও উন্মুক্ত করা, বাজার তদারকি জোরদার করা এবং সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও সমন্বিত করা। বিশেষ করে আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে নিত্যপণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তবে এই সুপারিশগুলো শুধু আনুষ্ঠানিক বক্তব্য হিসেবে নয়, বাস্তবায়নের দিক থেকেও কতটা কার্যকর হবে—সেটিই এখন মূল প্রশ্ন। অতীতে দেখা গেছে, উৎসবকেন্দ্রিক সময়ে বাজার নিয়ন্ত্রণে নানা নির্দেশনা ও তদারকি কার্যক্রম জোরদারের ঘোষণা দেওয়া হলেও তার প্রভাব অনেক ক্ষেত্রেই সাময়িক থাকে। অভিযান শেষ হলে বাজার আবার আগের চক্রেই ফিরে যায়। ফলে দীর্ঘমেয়াদি কোনো কাঠামোগত পরিবর্তন দৃশ্যমান হয় না।
মজুতদারির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হলেও বাস্তবে কারা এই মজুতদারি করছে, কীভাবে তারা বাজারে প্রভাব বিস্তার করছে—সেই চক্র শনাক্ত ও ভাঙার ক্ষেত্রে দৃশ্যমান অগ্রগতি খুব কম। একইভাবে, আমদানি প্রক্রিয়া উন্মুক্ত করার কথা বলা হলেও বাস্তবে আমদানিতে কতটা নতুন অংশগ্রহণকারী যুক্ত হচ্ছে বা প্রতিযোগিতা বাড়ছে—তা নিয়ে স্পষ্ট তথ্য খুব একটা পাওয়া যায় না। ফলে বাজারে পূর্বের মতোই সীমিত গোষ্ঠীর প্রভাব বজায় থাকে।
বাজার তদারকি জোরদারের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু এখানে ধারাবাহিকতা ও সমন্বয়ের ঘাটতি রয়েছে। অনেক সময় ভ্রাম্যমাণ আদালত বা প্রশাসনিক অভিযান পরিচালিত হলেও তা মূলত খুচরা পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকে। অথচ মূল্য নির্ধারণের বড় অংশটি ঘটে পাইকারি ও আমদানিকারক পর্যায়ে, যেখানে নজরদারি তুলনামূলক কম। এর ফলে বাজারের মূল সমস্যাগুলো অক্ষত থেকেই যায়।
সরবরাহ ব্যবস্থাকে স্বচ্ছ ও সমন্বিত করার যে সুপারিশ করা হয়েছে, তা বাস্তবায়ন করতে হলে উৎপাদক থেকে ভোক্তা পর্যন্ত পুরো শৃঙ্খলকে পুনর্বিন্যাস করতে হবে। কিন্তু এই প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ এবং নীতিগত দৃঢ়তা ছাড়া সম্ভব নয়। বর্তমানে তথ্যের স্বচ্ছতার অভাব, বাজারে পণ্যের প্রকৃত মজুত সম্পর্কে অনিশ্চয়তা এবং বিভিন্ন স্তরে সমন্বয়হীনতা—সব মিলিয়ে এই খাতে সংস্কার একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে সরবরাহ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে—এটি অবশ্যই সময়োপযোগী। কারণ উৎসবকেন্দ্রিক চাহিদা বৃদ্ধির সুযোগে অনেক সময় বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ঘটে। তবে শুধুমাত্র উৎসবকে কেন্দ্র করে স্বল্পমেয়াদি ব্যবস্থা নিলে সমস্যার মূল কারণ থেকে যায়। প্রয়োজন এমন একটি টেকসই ব্যবস্থা, যেখানে বছরজুড়েই বাজার স্থিতিশীল থাকবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারের ইতিবাচক পরিবর্তনের সুফল সরাসরি ভোক্তারা পেতে পারবেন।
সব মিলিয়ে বলা যায়, টাস্কফোর্সের সুপারিশগুলো বাস্তবসম্মত হলেও সেগুলোর কার্যকর বাস্তবায়নই হবে মূল চ্যালেঞ্জ। কারণ, সমস্যার শিকড় যতটা অর্থনীতিতে, তার চেয়েও বেশি বাজারের কাঠামো, নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা এবং নীতিগত বাস্তবায়নের সক্ষমতার সঙ্গে জড়িত।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব পদক্ষেপ যদি কেবল কাগজে সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে বাস্তব পরিস্থিতির খুব বেশি পরিবর্তন হবে না। কারণ, অতীত অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে—নীতিগত ঘোষণা ও বাস্তব প্রয়োগের মধ্যে একটি দৃশ্যমান ব্যবধান রয়ে গেছে। প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত সংস্কার—যেখানে বাজারে প্রকৃত প্রতিযোগিতা নিশ্চিত হবে, তথ্যের স্বচ্ছতা থাকবে এবং নীতিগত সিদ্ধান্ত দ্রুত ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হবে। বিশেষ করে আমদানি, মজুত ও সরবরাহ সংক্রান্ত তথ্য উন্মুক্ত ও রিয়েল-টাইম পর্যায়ে নজরদারির আওতায় আনতে না পারলে বাজারে অস্বচ্ছতা থেকেই যাবে। একই সঙ্গে পাইকারি ও আমদানিকারক পর্যায়ে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, প্রতিযোগিতা কমিশনের মতো সংস্থাগুলোর কার্যকর ভূমিকা জোরদার করা এবং বাজারে প্রবেশের বাধা কমানো জরুরি।
আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো—নীতিনির্ধারণে সমন্বয়ের অভাব দূর করা। কৃষি, বাণিজ্য, খাদ্য ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বিত পরিকল্পনা ছাড়া উৎপাদন, আমদানি ও বাজার ব্যবস্থাপনার মধ্যে ভারসাম্য আনা সম্ভব নয়। একই সঙ্গে উৎপাদন ব্যয় কমাতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ, যেমন—কৃষিতে ভর্তুকি কাঠামোর পুনর্বিন্যাস, সংরক্ষণ ও পরিবহন অবকাঠামো উন্নয়ন, এবং প্রযুক্তিনির্ভর সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলাও অপরিহার্য।
সবশেষে বলা যায়, বিশ্ববাজারে মূল্যহ্রাসের এই প্রবণতা বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হতে পারত—ভোক্তাদের স্বস্তি দেওয়ার, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের এবং বাজারকে স্থিতিশীল করার। কিন্তু সেই সুযোগ এখনো পুরোপুরি কাজে লাগানো যায়নি। বরং বর্তমান পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে, আন্তর্জাতিক বাজারের ইতিবাচক প্রবণতা কাজে লাগানোর সক্ষমতায় এখনও ঘাটতি রয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন একটাই—এই সুযোগ কি আবার হাতছাড়া হবে, নাকি এবার বাজার ব্যবস্থার গভীরে থাকা দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে কার্যকর সংস্কারের পথে হাঁটা হবে? কারণ, সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত ও দৃঢ় বাস্তবায়ন ছাড়া বিশ্ববাজারের যেকোনো ইতিবাচক পরিবর্তনই শেষ পর্যন্ত সাধারণ ভোক্তার নাগালের বাইরে থেকে যাওয়ার ঝুঁকি থেকেই যায়।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.

পুরোনো খবর এখানে,তারিখ অনুযায়ী

MonTueWedThuFriSatSun
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930 
© All rights reserved © 2024 dainikkushtia.net
Maintenance By DainikKushtia.net