June 12, 2026, 7:57 pm

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ-এর ৫৭তম সীমান্ত সম্মেলনে দুই দেশের সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা ও সহযোগিতা জোরদারে ১১টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। আগামী নভেম্বর মাসে ঢাকায় পরবর্তী মহাপরিচালক পর্যায়ের সম্মেলন আয়োজনের বিষয়েও উভয় পক্ষ সম্মত হয়।
৮ থেকে ১১ জুন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে বিজিবির ১৪ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী এবং ভারতের ১২ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন বিএসএফ মহাপরিচালক শ্রী প্রবীন কুমার। স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র, নৌপরিবহনসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারাও বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে অংশ নেন।
যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়, সীমান্ত হত্যা শূন্যে নামিয়ে আনা, অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ, মাদক ও চোরাচালান দমন, মানবপাচার রোধ, অবৈধ পুশ-ইন বন্ধ, সীমান্ত অবকাঠামো ব্যবস্থাপনা এবং নদীসহ প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত উদ্যোগ জোরদার করার বিষয়ে দুই পক্ষ একমত হয়েছে।
বিজিবি মহাপরিচালক সীমান্তে প্রাণঘাতী ও অপ্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের কারণে বাংলাদেশি নাগরিকদের মৃত্যুর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে এসব ঘটনা শূন্যে নামানোর আহ্বান জানান। উভয় পক্ষ যৌথ টহল, নজরদারি বৃদ্ধি এবং জনসচেতনতা কার্যক্রম জোরদারের বিষয়ে সম্মত হয়।
‘পুশ-ইন’ ইস্যুতে বিজিবি অবৈধভাবে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া ব্যক্তিদের দুর্ভোগের বিষয়টি তুলে ধরে এবং বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানায়। বিএসএফও জাতীয়তা যাচাই দ্রুত সম্পন্ন করে প্রত্যাবাসনের ওপর গুরুত্ব দেয়।
মাদক ও চোরাচালান দমনে উভয় দেশ ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি পুনর্ব্যক্ত করে। হেরোইন, ফেনসিডিল, ইয়াবা, অস্ত্র ও স্বর্ণ চোরাচালান রোধে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ও সমন্বিত অভিযান জোরদারের সিদ্ধান্ত হয়।
অবৈধ অভিবাসন, মানবপাচার ও রোহিঙ্গা ইস্যুতে উভয় পক্ষ অবৈধ সীমান্ত পারাপার বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পাচারচক্রের বিরুদ্ধে যৌথ আইনগত পদক্ষেপের বিষয়ে একমত হয়। রোহিঙ্গা সংকটকে মানবিক ইস্যু হিসেবে বিবেচনা করে পারস্পরিক সহযোগিতার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
সীমান্ত বেড়া, এসআরএফ ও অবকাঠামো নির্মাণে ১৫০ গজ সীমার নিয়ম কঠোরভাবে অনুসরণের বিষয়ে দুই দেশ সম্মত হয়। অননুমোদিত নির্মাণ বন্ধ এবং কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ সব অবকাঠামো কার্যক্রম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত হয়।
স্বর্ণ ও জাল মুদ্রা চোরাচালান, পার্বত্য অঞ্চলে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সম্ভাব্য তৎপরতা, সীমান্ত পিলার স্থাপন, নদীর পানি বণ্টন ও তীর সংরক্ষণসহ দীর্ঘদিনের অনিষ্পন্ন বিষয়গুলো নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। যৌথ নদী কমিশন ও অন্যান্য দ্বিপাক্ষিক ব্যবস্থার মাধ্যমে এগুলো সমাধানের বিষয়ে একমত হয় দুই পক্ষ।
সবশেষে উভয় মহাপরিচালক সীমান্তে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে পারস্পরিক আস্থা, সহযোগিতা ও নিয়মিত সংলাপ অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।