June 8, 2026, 3:56 pm

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
ঢাকার একটি আদালত হাম ও রুবেলার টিকা আমদানিতে বিলম্ব এবং এর ফলে দেশে টিকার সংকট সৃষ্টি করে শিশুদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলার অভিযোগে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে দায়েরের আবেদন করা মামলাটি গ্রহণ করেননি।
সোমবার (৮ জুন) ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে কিশোরগঞ্জ-৫ (বাজিতপুর-নিকলী) আসনের সংসদ সদস্য শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল বাদী হয়ে মামলার আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত আবেদনটি খারিজ করে দেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী সালাউদ্দিন লস্কর আদালতের সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মামলার আবেদনে দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারাসহ বিভিন্ন ধারা উল্লেখ করা হয়েছিল। আদালত ৪০৯ ধারাটিকে দুর্নীতি দমন কমিশনের এখতিয়ারভুক্ত বিষয় হিসেবে বিবেচনা করে আবেদনটি খারিজ করেছেন বলে মৌখিকভাবে জানিয়েছেন। তবে আদেশের বিস্তারিত কারণ লিখিত আদেশে উল্লেখ থাকবে। পূর্ণাঙ্গ আদেশ হাতে পাওয়ার পর উচ্চ আদালতে যাওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
মামলার আবেদনে যাদের অভিযুক্ত করা হয়েছিল তারা হলেন—সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম, সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ সচিব মো. সাইদুর রহমান, সাবেক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ সায়েদুর রহমান এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবু জাফর।
আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত বাদী সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান ইকবাল বলেন, তার দাবি অনুযায়ী টিকার ঘাটতির কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় শিশু মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। নিজের নির্বাচনী এলাকাতেও এমন ঘটনা ঘটেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনস্বার্থ ও দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে তিনি আদালতে মামলার আবেদন করেছেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, বাংলাদেশে শিশুদের জন্য হাম ও রুবেলার টিকা জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির একটি বাধ্যতামূলক অংশ। অভিযোগ অনুযায়ী, তৎকালীন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর ইউনিসেফের মাধ্যমে টিকা সংগ্রহের প্রচলিত পদ্ধতি বন্ধ করে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে টিকা আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় দেশে টিকার সংকট দেখা দেয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
আরজিতে আরও বলা হয়, ইউনিসেফের বাংলাদেশ প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স বিভিন্ন সময়ে স্বাস্থ্য খাতের দায়িত্বশীলদের কাছে সম্ভাব্য টিকা সংকট সম্পর্কে সতর্কবার্তা পাঠিয়েছিলেন। সরবরাহ ব্যবস্থা অব্যাহত রাখার অনুরোধ জানানো হলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেননি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
বাদীপক্ষের দাবি, টিকা সংকটের ফলে দেশে হামের প্রাদুর্ভাব ব্যাপক আকার ধারণ করে। মামলার আবেদনে উল্লেখ করা হয় যে, গত ১৫ মার্চ থেকে ৪ জুন পর্যন্ত সরকারি হিসাবে ৭৫ হাজারের বেশি শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। একই সঙ্গে শত শত শিশুর মৃত্যুর কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
আবেদনে আরও কয়েকজন শিশুর মৃত্যুর নির্দিষ্ট উদাহরণ তুলে ধরে বলা হয়, টিকা সংকট ও রোগের বিস্তারের সঙ্গে এসব ঘটনার সম্পর্ক রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আদালতে এখনো কোনো বিচারিক তদন্ত বা প্রমাণ উপস্থাপনের প্রক্রিয়া শুরু হয়নি।
বাদী আরও উল্লেখ করেন, অভিযুক্তরা প্রভাবশালী ব্যক্তি হওয়ায় থানায় মামলা দায়েরের চেষ্টা করেও সফল হননি। পরে আদালতের শরণাপন্ন হয়ে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং সর্বোচ্চ শাস্তির আবেদন জানানো হয়। তবে আদালত প্রাথমিক পর্যায়েই মামলার আবেদন গ্রহণ না করে খারিজ করে দিয়েছেন।
এদিকে আদালতের আদেশের বিস্তারিত কারণ এখনো প্রকাশ হয়নি। ফলে মামলাটি কেন গ্রহণ করা হলো না এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ কী হবে, তা লিখিত আদেশ প্রকাশের পর আরও স্পষ্ট হবে।