October 12, 2026, 5:21 pm

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন পোর্টাল
সংবাদ শিরোনাম :
কুষ্টিয়ায় মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা ইসির: প্রথম ধাপের ভোট ২১ জানুয়ারি, শেষ হবে মে মাসে ডেঙ্গু: শুধু মশার বিরুদ্ধে যুদ্ধ নয়, রাষ্ট্রের সক্ষমতাকেও চ্যালেঞ্জ দিচ্ছে? কুষ্টিয়া ও মেহেরপুর সীমান্তে পুশইনের দুটি চেষ্টা প্রতিহত করল বিজিবি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে পর্যটন খাতকে নতুনভাবে সাজাতে হবে: ইবি উপাচার্য ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে স্তন ক্যান্সার সচেতনতায় ‘গোলাপী সড়ক শোভাযাত্রা’ ইবির উন্নয়ন (৩য় পর্যায়)-১ম সংশোধিত প্রকল্পের বাস্তবায়ন কমিটির সভা অনুষ্ঠিত ও সাইট পরিদর্শন বলাৎকারের অভিযোগে শিক্ষক আটক করতে গিয়ে দৌলতপুরে ওসিসহ ৩ পুলিশ আহত কুষ্টিয়ায় সাবেক এমপি ও উপজেলা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা রূপপুরের প্রথম ইউনিটে ভালভ পরীক্ষা সফল, ডিসেম্বর টার্গে ট

বোরো ধান-চাল সংগ্রহ/ ধান ২৭, চাল ৪০ টাকা কেজি, ২৮ এপ্রিল থেকে শুরু

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
এ বছরের বোরো মৌসুমে ধান-চাল সংগ্রহ শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। এবার মোট ছয় লাখ ৫০ হাজার টন ধান ও ১১ লাখ টন সিদ্ধ চাল, ৫০ হাজার টন আতপ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে ১৮ লাখ মেট্রিক টন ধান ও চাল সংগ্রহের টার্গেটে করেছে সরকার।
আগামী ২৮ এপ্রিল থেকে সারা দেশে বোরো ধান ও চাল সংগ্রহ শুরু হচ্ছে। চলবে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। এবার প্রতি কেজি বোরো ধানের সংগ্রহ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২৭ টাকা, সিদ্ধ চাল ৪০ টাকা এবং আতপ চাল ৩৯ টাকা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত বছরও ১৮ লাখ টন বোরো ধান ও চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে মাঠে নেমেছিল সরকার। পরে তিন মাসে মাত্র সাড়ে তিন লাখ টন ধান সংগ্রহ করা সম্ভব হয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, কভিড-১৯ মহামারি, লকডাউন, সংগ্রহের জন্য বেঁধে দেওয়া দামের চেয়ে বাজারে ধান-চালের অস্বাভাবিক দাম, খাদ্যগুদামের শর্ত জটিলতায় সরকারের ধান-চাল সংগ্রহ অভিযানে কৃষকের সাড়া না থাকায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। এ বছর করোনা না থাকায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন।
খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বোরো মৌসুমে সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রার ১৮ লাখ টন ধান ও চালের মধ্যে মিলারদের কাছ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে ১০ লাখ টন সিদ্ধ চাল, ৩৯ টাকা কেজি দরে দেড় লাখ টন আতপ চাল এবং কৃষকদের কাছ থেকে ২৭ টাকা কেজি দরে সাড়ে ছয় লাখ টন ধান কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
অতীতে দেখা গেছে খাদ্যগুদামের শর্ত জটিলতায় গুদামে ধান বিক্রি করতে সমস্যায় পড়েন প্রকৃত কৃষকরা। সরকারি দামে গুদামে ধান দিতে সর্বোচ্চ ১৪ শতাংশ ময়েশ্চারাইজার বা আর্দ্রতা নিশ্চিত করতে গিয়েও বিপাকে পড়েন প্রান্তিক চাষিরা। আর্দ্রতা সম্পর্কে ধারণা না থাকায় তাঁরা এ ঝামেলায় পড়েন। প্রান্তিক পর্যায়ে কৃষকদের মধ্যে সরকারিভাবে প্রচারের অভাব, খাদ্যগুদামে সিন্ডিকেটের দাপট এবং ধান বিক্রির জন্য সনাতনি শর্তসহ নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে সরকারের ধান-চাল সংগ্রহ কার্যক্রম থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন কৃষকরা। ফলে সরকারের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বিঘ্ন ঘটে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, কৃষকরা সরকারের কাছে ধান বিক্রি করতে গিয়ে ঝক্কিঝামেলা মনে করে বেপারিদের কাছে ধান বিক্রি করে দেন। বর্তমানে ৮৫০ টাকা থেকে ৯০০ টাকা মণ ধরে ধান বিক্রি করা হচ্ছে। কোথাও কোথাও স্থানীয় বাজারে ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা মণ ধরেও ধান বিক্রি হচ্ছে।

সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী বর্তমানে ধান সংগ্রহের দাম পড়ছে ১০৮০ টাকা মণ। তবে বাংলাদেশ কৃষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন মণপ্রতি দাম ১২০০ টাকা (কেজি ৩০ টাকা) করার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা হিসাব করে দেখেছি বর্তমানে প্রতি মণ ধান মাড়ানো পর্যন্ত একজন কৃষকের ৭৫০ টাকা খরচ হয়। এর সঙ্গে কৃষকের শ্রম, জমির ব্যবহার ও নষ্ট হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি ইত্যাদি বিবেচনায় দাম ১২০০ টাকা করা উচিত। তিনি বলেন, ‘সরকার যখন ধান কেনার বিষয়টি ডিক্লেয়ার করে তখন কৃষকদের কাছে আর ধান থাকে না। তাঁরা বিক্রি করে দেন পাইকারি বিক্রেতা বা মজুদদারদের কাছে। এ কারণে ধান কাটার এক মাস আগে থেকে ধান সংগ্রহের ঘোষণা দেওয়ার জন্য বলে আসছি আমরা। কিন্তু সরকার তা মানছে না। ’
সাজ্জাদ জহির জানান, প্রকৃত কৃষক সরকারের কাছে ধান বিক্রি করতে পারেন না। প্রভাবশালী লোকজন কৃষকদের কাছ থেকে কম দামে ধান কিনে সেটি সরকারের কাছে বিক্রি করে লাভবান হন। তিনি আরো বলেন, ‘বর্তমানে যেসব এলাকায় ধান উৎপাদন হয় ওই সব এলাকার উপজেলায় ধান কেনা হয়ে থাকে। আমরা সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে আসছি ইউনিয়ন পর্যায়ে ক্রয়কেন্দ্র করার। ’
প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশের কৃষকরা এখনো এতটা সচেতন হননি যে কতটুকু শুকনো বা ভেজা হলে গুদামজাত করা যাবে। এ কারণে সরকারের উচিত কৃষক যে ধানই নিয়ে সেই ধান কিনে নিয়ে গুদামজাত করার প্রক্রিয়া করা।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.

পুরোনো খবর এখানে,তারিখ অনুযায়ী

© All rights reserved © 2024 dainikkushtia.net
Maintenance By DainikKushtia.net