October 8, 2026, 3:19 pm

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন পোর্টাল
সংবাদ শিরোনাম :
রূপপুরের প্রথম ইউনিটে ভালভ পরীক্ষা সফল, ডিসেম্বর টার্গে ট শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বাড়ানোর আহ্বান ইবি উপাচার্যের রিকনসিলিয়েশনের আগে আওয়ামী লীগের অপরাধ স্বীকার ও অনুতাপ জরুরি কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের সঙ্গে ৮১তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের প্রশিক্ষণার্থীদের মতবিনিময় আ.লীগ নেতার জমির বিরোধে আটকে চার লেন, আদালতের স্থিতাবস্থায় কুষ্টিয়ায় আধা কিলোমিটার ঝুঁকিপূর্ণ ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক অভিযান ডিসেম্বরের মধ্যে আরও ৯ কার্গো ফ্লাইটে আসবে জ্বালানি; কমিশনিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাও এগোচ্ছে দৈনিক খবরওয়ালা’র তৃতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন ইবিতে পরীক্ষার খাতা হারানো/ ‘অসত্য ও বিভ্রান্তিকর’ দাবি অধ্যাপক এমতাজ হোসেনের, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান বিএনসিসির নাশতার বিল নিয়ে প্রশ্ন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই বছরে বকেয়া প্রায় ৪০ হাজার টাকা

রূপপুরের প্রথম ইউনিটে ভালভ পরীক্ষা সফল, ডিসেম্বর টার্গে ট

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের কমিশনিং প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। ইউনিটটির প্রেসার অপারেটেড রিলিফ ভালভ (PORV/POSV)-এর উচ্চচাপের পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এর ফলে রিঅ্যাক্টরকে ‘ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি’ পর্যায়ে নেওয়ার পথে বড় একটি কারিগরি বাধা দূর হয়েছে। প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক অনুমোদন ও পরবর্তী পরীক্ষাগুলো সন্তোষজনকভাবে সম্পন্ন হলে চলতি বছরের ডিসেম্বরের শেষে পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) কর্মকর্তারা জানান, গত ৩০ সেপ্টেম্বর প্রথম ইউনিটের PORV/POSV-এর ১৬ মেগাপাসকেল উচ্চচাপের পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়। ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে শুরু হওয়া এ পরীক্ষা মেইন কন্ট্রোল রুম (MCR) ও ইমার্জেন্সি কন্ট্রোল রুম (ECR)—উভয় জায়গা থেকে পরিচালনা করা হয়। পরীক্ষায় কন্ট্রোল ভালভের কার্যকারিতা, সংশ্লিষ্ট মেইন সেফটি ভালভের সাড়া, ভালভ খোলা ও বন্ধ হওয়ার কার্যক্রম, অ্যালার্ম এবং বিভিন্ন প্রক্রিয়াগত পরামিতি পর্যবেক্ষণ করা হয়।

এর আগে নিরাপত্তা ভালভের কারিগরি ত্রুটির কারণে প্রথম ইউনিটের কমিশনিং কার্যক্রমে বিলম্ব হয়। গত সেপ্টেম্বরের শুরুতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছিলেন, তিন জোড়া ভালভের মধ্যে একটি জোড়া স্বাভাবিকভাবে কাজ করলেও অন্য দুই জোড়ার সমস্যার কারণে রিঅ্যাক্টরকে পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না। সমস্যাটি সমাধানে রাশিয়ার বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৬ মেগাপাসকেল চাপের পরীক্ষা সফল হওয়ার পর উচ্চতর চাপে ভালভগুলোর কার্যকারিতা যাচাইয়ের পরবর্তী ধাপ সম্পন্ন করা হয়েছে। এসব পরীক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো রিঅ্যাক্টরের প্রাইমারি কুলিং সার্কিটে চাপ নির্ধারিত সীমার মধ্যে রাখা এবং অতিরিক্ত চাপ তৈরি হলে নিরাপত্তা ব্যবস্থার যথাযথভাবে সক্রিয় হওয়ার সক্ষমতা নিশ্চিত করা।

এখন প্রথম ইউনিটের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো ‘ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি’। এ পর্যায়ে রিঅ্যাক্টরে নিয়ন্ত্রিতভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ পারমাণবিক চেইন রিঅ্যাকশন শুরু করা হবে। তবে এ ধাপে যাওয়ার আগে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (BAERA) প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিতে হবে। BAERA দেশের পারমাণবিক নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রক কার্যক্রমের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ এবং পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের লাইসেন্সিং ও পরিদর্শন কার্যক্রমও এর আওতাভুক্ত।

ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটির পর রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা ধাপে ধাপে বাড়ানো হবে। এ সময় রিঅ্যাক্টরের বিভিন্ন নিরাপত্তা ব্যবস্থা, নিয়ন্ত্রণ সরঞ্জাম ও গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি পরামিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। এরপর বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য রিঅ্যাক্টর ও টারবাইন ব্যবস্থাকে সমন্বিত করে জেনারেটরকে জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সংযুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হবে।

প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, সব কারিগরি পরীক্ষা, নিরাপত্তা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক অনুমোদন সময়মতো পাওয়া গেলে ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ প্রথম ইউনিট থেকে পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হতে পারে। তবে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্ষেত্রে প্রতিটি ধাপ নির্ধারিত নিরাপত্তা মানদণ্ড পূরণ করার পরই পরবর্তী ধাপে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। ফলে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে দুটি ইউনিটে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। প্রথম ইউনিটের সক্ষমতা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। প্রকল্পের মূল মেয়াদ ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত থাকলেও পরবর্তীতে তা বাড়িয়ে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রকল্পের সংশোধিত ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকা। সংশোধিত ব্যয় বৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে টাকার বিপরীতে ডলারের বিনিময়মূল্য বৃদ্ধি ও সংশ্লিষ্ট ব্যয় সমন্বয়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

রূপপুরের প্রথম ইউনিট জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হলে বাংলাদেশ বাণিজ্যিক পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করবে। তবে তার আগে ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি থেকে শুরু করে পাওয়ার স্টার্ট-আপ, গ্রিড সিনক্রোনাইজেশন এবং পর্যায়ক্রমে ক্ষমতা বৃদ্ধির প্রতিটি ধাপ নিরাপদ ও সফলভাবে সম্পন্ন করাই এখন প্রকল্পটির প্রধান চ্যালেঞ্জ।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.

পুরোনো খবর এখানে,তারিখ অনুযায়ী

MonTueWedThuFriSatSun
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031 
© All rights reserved © 2024 dainikkushtia.net
Maintenance By DainikKushtia.net