June 2, 2026, 5:03 am

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন পোর্টাল
সংবাদ শিরোনাম :
ঈদের ১০ দিনে পদ্মা ও যমুনা সেতু থেকে ৬৩ কোটি ৮০ লাখ টাকার টোল আদায় জীববৈচিত্র্য রক্ষায় তিন মাসের জন্য সুন্দরবনে প্রবেশে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে আটক ১০ জন/ অনুপ্রবেশের খবরের আড়ালে যে মানবিক সংকট দৌলতদিয়া ঘাটে বাড়ছে চাপ/ঈদ শেষে জীবিকার টানে রাজধানীমুখী মানুষ জিয়াউর রহমানের বেতার ভাষণ জনগণকে উদ্দীপ্ত করেছিল: ভারতীয় হাইকমিশন সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ চার মাসের শিশুকে নদীতে ফেলে নিজেও ঝাঁপ/এখনও প্রকৃত কারন জানা যায়নি যুদ্ধবন্দী ফিলিস্তিনি নারীদের বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতা বাড়িয়েছে ইসরায়েলী সেনারা পশ্চিমবঙ্গে কড়াকড়ি, দেশে ফিরতে হাকিমপুর সীমান্তে শতাধিক বাংলাদেশির ভিড় সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে জামায়াতের সদস্য বহিষ্কার

বাজারে অস্থিরতা তৈরি/আইন থাকলেও সর্বোচ্চ সাজা পাচ্ছে না অসাধু ব্যবসায়ীরা

একটি দৈনিক কুষ্টিয়া বিশেষ প্রতিবেদন/
পণ্যের অবৈধ মজুতদারি, কৃত্রিম সংকট তৈরি, অবৈধভাবে বেশি দাম রাখা, প্রতারনার আশ্রয় নিয়ে খারাপ জিনিস বিক্রয়, ক্রয়মুল্য গোপন রেখে বেশী মুল্য নিয়ে ক্রেতা ঠকানোসহ কারসাজি করে বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করে সমাজে বিশৃঙ্খলা ডেকে আনার কাজে লিপ্ত দেশের এক শ্রেণীর ব্যবসায়ীরা। এই প্রক্রিয়া শুরু হয় পণ্যের উৎপাদন থেকে শুরু করে। এই পুরো প্রক্রিয়ার প্রতিটি স্তরেই মধ্যে ব্যবসায়ীদের অসাধুতা পরিস্কার। সে ক্ষেত্রে অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে বিধিবদ্ধ সংস্থাগ্রওলো ব্যবস্থা কখনোও কখোনও নেয়া হলেও আইনের যথাযথ প্রয়োগ হয় না। এগুলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রে জরিমানা আর মামলার মধ্যেই থাকে সীমাবদ্ধ এবং এখানেও একই অবৈধ প্রক্রিয়ায় মামলা থেকে রেহাই নিয়ে একই অপরাধ বারবার চালিয়ে চলেছেন এসব ব্যবসায়ীরা। মনে করা হচ্ছে আইনের যথাযথ প্রয়োগ না থাকায় এই এরা আরও শক্তিশালী হচ্ছে। অথচ বিশেষ ক্ষমতা আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড, এমনকি যাবজ্জীবন এবং সর্বনিম্ন ১৪ বছরের সাজা থাকার পরও কোনো ধরনের পদক্ষেপ চোখে পড়ে না।
ইতোমধ্যে বিষয়টি গড়িয়ে যায় দেশের সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারের অস্থিরতার প্রেক্ষাপট নিয়ে রিটও হয়।গত ১৫ মার্চ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়িয়ে বাজার অস্থিতিশীল করা অবৈধ জোটবদ্ধ (সিন্ডিকেশন) ব্যবসা বন্ধে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয় রুলে। সেই সঙ্গে দাম বাড়িয়ে বাজার অস্থিতিশীল করা দুষ্কৃতকারীদের খুঁজে বের করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনকে বলা হয়।
অথচ এ কমিশন সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান থাকার পরও অল্প অল্প সাজা বা জরিমানা করে ছেড়ে দিচ্ছে, এটা আইনের যথাযথ প্রয়োগ না। কারন হাইকোর্ট বলেছিলেন আইন অনুযায়ী সাজা দিতে। হালে বিভিন্ন স্থানে বিপুল পরিমাণ মজুত করা সয়াবিন তেলের সন্ধান মেলে। কিন্তু অসাধু ব্যবসায়ীদের জরিমানা করে ছেড়ে দেওয়া হয়। কোথাও কোথাও মামলাও হয়। তবে জরিমানা করা সঠিক হচ্ছে না বলে মনে করছেন আইনজীবীরা। যেমন খুলনাতে যে বড় তেলের মজুত পেলো সেখানে স্পেশাল পাওয়ার অ্যাক্টে (বিশেষ ক্ষমতা আইন) মামলা করা উচিত ছিল। এছাড়া বিভিন্ন জেলায় যে হারে তেল পেলো, সেখানেও এই আইনে মামলা করতে পারতো। কিন্তু সেটি হয়নি।
এছাড়া সয়াবিন তেল এবং পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে মনিটরিং সেল গঠন ও নীতিমালা তৈরি নিয়ে মজুতদারদের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে সিন্ডিকেটে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়।
এ বিষয়ে ২৬ এপ্রিলের মধ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব ও বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনকে প্রতিবেদন জমা দিতে বলেন হাইকোর্ট।
এ রিটের শুনানি ও আদেশের দিন ১৫ মার্চ হাইকোর্টের বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি এস এম মনিরুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। এছাড়া অবৈধ জোটবদ্ধ ব্যবসা প্রতিরোধে প্রতিযোগিতা আইন, ২০১২-এর ২১ (১) ধারা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রবিধান প্রণয়নে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, একই সঙ্গে চাল, ডাল, গম, চিনি, পেঁয়াজ ও ভোজ্যতেলের মতো পণ্য বিক্রির ওএমএস (খোলাবাজারে বিক্রয়) নীতিতে রেশন কার্ডের বিধান অন্তর্ভুক্ত করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, রুলে সে প্রশ্নও রাখা হয়। সেই সঙ্গে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের নিষ্ক্রিয়তা ও ব্যর্থতা কেন অবৈধ ঘোষণা হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয় রুলে। বাণিজ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, খাদ্য সচিব, বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারপারসন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) চেয়ারম্যান ও ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই সভাপতিকে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়।
আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ডের আইন পাশ কাটিয়ে ছাড় পাচ্ছেন ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট ও মজুতদাররা।
মূলত অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, প্রতিযোগিতা কমিশন ও খাদ্য অধিদপ্তর।
আইনজীবীরা বলছেন এসব ব্যবসায়ীরা ফৌজদারি অপরাধ করছে। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে নয়, মজুতদারদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইনে মামলা করার পক্ষে মত দিচ্ছেন তারা। তাদের ভাষায়, এটা সরাসরি অ্যাকশন, ক্রিমিনাল প্রসিডিংয়ে যেতে হবে। অন্যথায় শুধু জরিমানা করে ছেড়ে দিলে এগুলো বন্ধ হবে না।
তারা বলছেন এখানে প্রয়োগ করছে ২০১৮ সালের একটি আইন। ওই আইনে খুব বেশি দন্ড নেই, অল্প কিছু দিনের সাজার বিধান রয়েছে। ‘স্পেশাল পাওয়ার অ্যাক্টের টোয়েন্টি ফাইভের সাব সেকশন টু’ এর বা ‘টোয়েন্টি ফাইভ ওয়ান’ অনুযায়ী যাবজ্জীবন বা ১৪ বছরের কারাদন্ড এগুলোর কোনোটাই দেওয়া হেেচ্ছনা। তার মানে তাদের অবস্থা কানামাছি খেলার মতো।খুলনাতে যে বড় তেলের মজুত পেলো সেখানে স্পেশাল পাওয়ার অ্যাক্টে (বিশেষ ক্ষমতা আইন) মামলা করা উচিত ছিল। এছাড়া বিভিন্ন জেলায় যে হারে তেল পেলো, সেখানেও এই আইনে মামলা করতে পারতো। কিন্তু সেটি হয়নি। ১২ মে খুলনায় দুই লাখ ৬৩ হাজার লিটার ভোজ্যতেল উদ্ধার করে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। এসময় তিন প্রতিষ্ঠানকে এক লাখ ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তারা বলেন সর্বোচ্চ অপরাধে সর্বনিম্ন সাজা এটা কোন ধরনের বিধান। রিটের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে একটা জবাবও এসেছে। কিন্তু সেটি রাষ্ট্রপক্ষই আদালতে উপস্থাপন করেনি। ২৬ এপ্রিল আনার কথা ছিল, সেটি আনা হয়নি। ঈদের কারণে হয়তো আসেনি।
আইনজীবীরা বলছেন কনজুমার রাইটের যে আইন আছে, সে আইনের মধ্যে তাদের অ্যাডমেনিস্ট্রেটিভ পাওয়ার দেওয়া আছে। তবে মামলা করার ক্ষমতা তাদের দেওয়া হয়নি। ফলে তারা অ্যাডমেনিস্ট্রেটিভ শাস্তি যেটা, সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা জরিমানার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। এর বাইরে ওনাদের কোনো কিছু করার নেই। কিন্তু এটা যথাযথ ব্যবস্থা না। মাঠপর্যায়ে একটা নেটওয়ার্ক আছে ভোক্তা অধিকারের অধীনে, তারা চাইলে এ বিষয়গুলো নিয়ে গবেষণা করতে পারে। এছাড়া আইনে বাজার নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) অধীনে একটি সাব কমিটি থাকার কথা, যে কমিটি বাজার মনিটরিং করবে। এরকম আইনে অনেক কিছু আছে। কিন্তু কার্যকর কিছু দেখা যায় না। বিশেষ ক্ষমতা আইনে মজুত সংক্রান্ত বিধান রয়েছে। সেটা প্রয়োগে ভোক্তা অধিদপ্তরের মুখোমুখি হওয়ার প্রয়োজন নেই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীই নিতে পারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ। তারা মজুতদারের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারে। তাদের বিচারের মুখোমুখি করতে পারে। এছাড়া কোনো এলাকার জেলা প্রশাসক (ডিসি) কিংবা যে কোনো সরকারি অধিদপ্তরের কর্মকর্তা বা এসিল্যান্ড ব্যবস্থা নিতে পারেন। কম্পিটিশন অ্যাক্ট-২০১২ (২০১২ সালের প্রতিযোগিতা কমিশন আইন) আইন আছে। এর অধীনে কমিশনও আছে একটি। এদের কাজ হচ্ছে যাতে কেউ একচেটিয়া বাজারজাত করতে না পারে সেটা দেখা, বাজারে যাতে প্রতিযোগিতা থাকে।
আইনে কী আছে/
২০০৯ সালের ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে কোনো পণ্য গুদামজাত করার অপরাধে কারখানা, দোকান, গুদাম সাময়িক বন্ধ করা, পণ্য যথাযথভাবে বিক্রি ও সরবরাহ না করলে সর্বোচ্চ এক বছরের শাস্তি ও জরিমানার বিধান রয়েছে। তবে এই আইনে মজুতদার ও কালোবাজারি নিয়ে কিছু উল্লেখ নেই। এজন্য অবৈধ মজুতদার ও কালোবাজারে বিক্রির বিরুদ্ধে আইনটির প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে অবৈধ মজুত ও কালোবাজারির শাস্তি সম্পর্কে বলা হয়েছে। আইনে ২ ধারায় মজুতের সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, ‘কোনো ব্যক্তি যে কোনো সময় মজুত বা মজুত রাখার অনুমতিপ্রাপ্ত জিনিসের সর্বাধিক পরিমাণের চেয়ে বেশি মজুত বা সংরক্ষণ করা।’
একই ধারায় কালো-বাজারে লেনদেনের সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, ‘নির্ধারিত সর্বোচ্চ মূল্যের চেয়ে বেশি মূল্যে বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে কোনো কিছু বিক্রি বা ক্রয় করা।’
শাস্তির বিষয়ে আইনটির ২৫(১) ধারায় বলা হয়েছে, ‘কেউ মজুত বা কালোবাজারের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে সে ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা ১৪ বছর কারাদণ্ড, তদুপরি জরিমানার দণ্ডেও দণ্ডিত হবে। তবে শর্ত থাকে যে, মজুতের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তি যদি প্রমাণ করে যে, আর্থিক বা অন্যবিধ লাভ করার উদ্দেশ্যে নয়, বরং অন্য কোনো উদ্দেশ্যে মজুত করেছিল, তবে সে তিন মাস পর্যন্ত কারাদণ্ডে ও তদুপরি জরিমানার দণ্ডে দণ্ডিত হবেন ‘
একই আইনের ২৫ডি ধারায় বলা আছে, ‘বিশেষ ক্ষমতা আইনে যেসব কাজকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে, সেসব কাজ করার চেষ্টা করা বা কাজ করার সহযোগিতা করাও অপরাধ হবে।’

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে আইনের ৩৪ (ক) ধারায় বলা আছে, দণ্ড কার্যকরে ফাঁসি বা নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসারে গুলি দণ্ড কার্যকর হতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.

পুরোনো খবর এখানে,তারিখ অনুযায়ী

© All rights reserved © 2024 dainikkushtia.net
Maintenance By DainikKushtia.net