February 6, 2026, 1:18 am

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ কম থাকার বিষয়টি দ্রুতই রাজনৈতিক বাকযুদ্ধে রূপ নিয়েছে। নারী অধিকার ও ক্ষমতায়নের মৌলিক আলোচনার পরিবর্তে অবমাননাকর মন্তব্য, পারস্পরিক দোষারোপ ও অবস্থানগত সংঘাত এখন নির্বাচনি প্রচারণার প্রধান উপাদান। বিশ্লেষকদের মতে, নারীর প্রশ্নটি বাস্তব পরিবর্তনের বদলে ভোটের কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবেই ব্যবহৃত হচ্ছে।
নারী অধিকারকর্মীরা বলছেন, নিরাপত্তা, প্রতিনিধিত্ব, সম্পত্তির অধিকার বা সহিংসতা প্রতিরোধের মতো মৌলিক ইস্যুগুলো আলোচনার বাইরে থেকে যাচ্ছে। ফলে রাজনীতিতে নারী এখনো সমঅধিকারভিত্তিক অংশীদার নয়; বরং প্রয়োজনমাফিক ব্যবহৃত একটি প্রতীকী উপস্থিতি।
সাম্প্রতিক বিতর্কের সূত্রপাত জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের এক সাক্ষাৎকারকে কেন্দ্র করে। সেখানে তিনি জানান, আসন্ন নির্বাচনে তার দল কোনো নারী প্রার্থী দেয়নি, যদিও ভবিষ্যতে নারী নেতৃত্ব গঠনের প্রস্তুতির কথা বলেন। তবে দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্বে নারীর সম্ভাবনা নাকচ করার পর সমালোচনা তীব্র হয়। একই সময়ে তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট থেকে নারীদের নিয়ে অবমাননাকর পোস্টের অভিযোগ ওঠে; যদিও দলটি অ্যাকাউন্ট হ্যাকের দাবি করে। পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনগুলোও বিতর্ক থামাতে পারেনি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজনৈতিক বক্তব্যে লিঙ্গবৈষম্যের প্রতিফলন স্পষ্ট। সিডও সনদ বাস্তবায়ন, রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন, সম্পত্তির অধিকার, বাল্যবিবাহ ও সহিংসতা প্রতিরোধ—এসব মৌলিক প্রশ্নে দৃশ্যমান কর্মসূচি নেই। তার ভাষায়, নারী কোলে বা মাথায় নয়, সমান তালে পাশে থাকতে চায়; সেই অধিকারের বাস্তব রূপরেখা উপস্থাপনই এখন জরুরি।
এই দলটি নারী নেতৃত্ব উন্মুক্ত না করলেও ভোটের মাঠে নারীকে ব্যবহার করছে। বিভিন্ন বাড়ি বাড়ি তাদেরকে পাঠানো হচ্ছে। বিশেস করে নারীদের ভোট ক্যাপচার করতে। সেখানেও তারা বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছেন। অবশ্য বাধাপ্রাপ্ত হওয়ার পেছনে তাদের কিছু বির্তকিত কর্মকান্ডকে দায়ী করা হচ্ছে। যেমন বলা হচ্ছে জামাতে এই নারী কর্মীরা ভোটরাদের দলে আনতে কিছু অপরিচ্ছন্ন কাজ যা আইনে সন্মত নয় তা করছে। ভোচ ক্রয়ের মতো কাজ করছে। যদিও ভোট ক্রয়ের অভিযোগ বিএনপির মতো বড় দলের বিরুদ্ধেও রয়েছে।
অপর দল বিএনপি এই ইস্যুকে কাজে লাগিয়ে নারী বান্ধব হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করছে। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এই ইস্যূতে সরাসরি জামাতকে আক্রমণ করে কথা বলছেন। যদিও তার দলে সংখ্যানুপাতে নারী প্রতিনিধিত্ব যথেষ্ট নয়।
এ অবস্থায়, নির্বাচনি প্রেক্ষাপটে নারীর প্রতি বৈষম্যমূলক মনোভাব আরও প্রকাশ্য হয়েছে। শক্তি প্রদর্শননির্ভর ও সহিংসতাপ্রবণ রাজনৈতিক সংস্কৃতি নারীর অংশগ্রহণ নিরুৎসাহিত করছে। তিনি নারীর মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের সক্রিয় ও দৃশ্যমান ভূমিকার ওপর জোর দেন।
পরিসংখ্যানও একই বাস্তবতার ইঙ্গিত দেয়। প্রস্তাবিত ন্যূনতম ৫ শতাংশ নারী মনোনয়নের লক্ষ্য পূরণ হয়নি—বিএনপি প্রায় ৪ দশমিক ১ শতাংশ নারী প্রার্থী দিয়েছে, জামায়াতে ইসলামী কোনো নারী প্রার্থী দেয়নি এবং জাতীয় পার্টিতে এ হার প্রায় ৩ শতাংশে সীমিত। আসন সমঝোতায় কয়েকজন নারী প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহার হওয়ায় প্রতিনিধিত্ব আরও কমেছে।
সব মিলিয়ে বিশ্লেষকদের অভিমত—নারীর ক্ষমতায়ন এখনো রাজনৈতিক অগ্রাধিকার হয়ে ওঠেনি। বরং নারী প্রশ্ন নির্বাচনি বিতর্কের উপাদান হিসেবেই বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে। কার্যকর পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজন স্পষ্ট নীতি, সমঅধিকারভিত্তিক প্রতিশ্রুতি এবং রাষ্ট্রের দৃঢ় উদ্যোগ।