August 15, 2026, 10:34 pm

দৈনিক কুষ্টিয়া প্রতিবেদক /
সংসদ সদস্য আমির হামজার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে কুষ্টিয়ায় জামায়াতে ইসলামী ও গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে শহরের সাড়ে ছয় রাস্তার মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। আহতদের মধ্যে তিনজন কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
ঘটনার পর শহরের এনএস রোড ও আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হলে সংসদ সদস্য আমির হামজার বাড়ির আশপাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সাড়ে ছয় রাস্তার মোড়ে গণঅধিকার পরিষদের একটি প্রতিবাদ সমাবেশ চলছিল। সমাবেশ শেষের দিকে সংসদ সদস্য আমির হামজার গাড়ি ওই এলাকায় পৌঁছালে স্থানীয় জামায়াত সমর্থক ও গণঅধিকার পরিষদের কর্মীদের মধ্যে প্রথমে কথাকাটাকাটি হয়। পরে তা হাতাহাতি এবং একপর্যায়ে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় গড়ায়।
প্রায় ঘণ্টাব্যাপী উত্তেজনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে সংঘর্ষের সূত্রপাত নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে।
গণঅধিকার পরিষদের নেতা তৌকির আহমেদের দাবি, তাঁদের নেতাকর্মীরা শান্তিপূর্ণ সমাবেশ শেষে চলে যাওয়ার সময় আমির হামজার সমর্থকেরা তাঁদের ওপর হামলা করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, পরে পরিস্থিতি সংঘর্ষে রূপ নেয়।
অন্যদিকে সংসদ সদস্য আমির হামজা অভিযোগ করেছেন, বাড়িতে ফেরার সময় তাঁর গাড়িতে হামলা করা হয় এবং তাঁর বাড়ির দরজা-জানালায়ও আঘাত করা হয়। এতে গাড়িতে থাকা অবস্থায় তাঁর হাতে এবং তাঁর চাচার পায়ে আঘাত লাগে বলে তিনি দাবি করেন।
শনিবার সন্ধ্যা পৌনে ৮টার দিকে গণমাধ্যমকে আমির হামজা বলেন, ঘটনার সময় পুলিশ সদস্যদের কাছ থেকে তিনি প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাননি। এ ঘটনায় গণঅধিকার পরিষদের জেলা শাখার সভাপতি আব্দুল খালেক ও তৌকির আহমেদের বিরুদ্ধে মামলা করার কথাও জানান তিনি।
তবে হামলার অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে অপর পক্ষের বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)জানান, সংসদ সদস্যের নিরাপত্তার জন্য তাঁর বাড়ির আশপাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বিকেল সাড়ে ৫টার পর থেকেই বাড়িটিতে হামলার আশঙ্কা থাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।
পুলিশের পক্ষ থেকে সংঘর্ষে কারা হামলা শুরু করেছে বা সংসদ সদস্যের গাড়ি ও বাড়িতে হামলার অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তদন্ত-ফল জানানো হয়নি।
ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে সংসদ সদস্য আমির হামজাকে নিয়ে একটি বক্তব্যের প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে। তবে ওই বক্তব্যের সুনির্দিষ্ট বিষয়বস্তু এবং তা ঘিরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা কীভাবে তৈরি হয়েছে, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে পরবর্তী সময়ে কোনো পক্ষ মামলা করেছে কি না, কিংবা পুলিশ কাউকে আটক করেছে কি না—এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।