August 22, 2026, 12:36 pm

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন পোর্টাল
সংবাদ শিরোনাম :
রবীন্দ্র মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ, প্রতিবাদ ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের নতুন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আন্দালিব রহমান পার্থ বিয়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে বরের মৃত্যু সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সব সরকারি কমিটি পুনর্গঠনের নির্দেশ দেবাশীষের অচেনা মৃত্যু এবং আমার অস্থির অন্তর ছয় মাসে ১ লাখ মামলা, মব কমলেও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে প্রশ্ন কলকাতার হোটেলে আগুনে নিভে গেল কুষ্টিয়ার সাবংবাদিক দেবাশিস দত্ত, তার স্ত্রী, সন্তান ও শশুর, শোকে কুষ্টিয়া বাজারে দাম নেই, সংরক্ষণে বিদ্যুৎ নেই: এয়ার ফ্লো বন্ধে পচছে কৃষকের পেঁয়াজ তিলের খাজায় কুষ্টিয়ার এক টুকরো ইতিহাস

রবীন্দ্র মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ, প্রতিবাদ ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
কুষ্টিয়ার কুমারখালীর শিলাইদহে রবীন্দ্র মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মো. জিয়া উদ্দিনের বিরুদ্ধে নিয়োগে অনিয়ম, জাল কাগজপত্র ব্যবহার, অর্থ আত্মসাৎ, দায়িত্ব হস্তান্তর না করা এবং বিদ্যালয়ের সম্পদ ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ অস্বীকার করে করা বিভিন্ন প্রচারণার প্রতিবাদ জানিয়ে লিখিত বক্তব্য দিয়েছেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রেশমা খাতুন।
সম্প্রতি দেওয়া ওই লিখিত বক্তব্যে রেশমা খাতুন দাবি করেন, জিয়া উদ্দিন প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে একাধিক অনিয়ম করেছেন। এসব বিষয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তদন্তে অভিযোগের প্রমাণ পাওয়ার পর তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দাবি, জিয়া উদ্দিনের বিরুদ্ধে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগের সময় প্রয়োজনীয় ১০ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও কাগজপত্রের মাধ্যমে নিয়োগ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যালয়ে আগে কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীদের বাদ দিয়ে তাঁর স্ত্রী, ভাইসহ এমন কয়েকজনকে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে, যারা আগে বিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, এসব নিয়োগের ক্ষেত্রে অর্থের বিনিময়ে ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহার করা হয়েছে বলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তদন্তে উঠে এসেছে। একই সঙ্গে ঢাকার একটি হেলথ কেয়ার কোম্পানিতে চাকরিরত একজনকে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
অন্য বিদ্যালয়ে চাকরি করার অভিযোগ
রেশমা খাতুনের অভিযোগ, জিয়া উদ্দিন বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্বে থাকা অবস্থায় কুষ্টিয়া জেলার জগতি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে গোপনে যোগদান করে সেখান থেকে বেতন-ভাতা গ্রহণ করেছেন। বিষয়টি বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
এ ছাড়া বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও সংস্থার সদস্যদের স্বাক্ষর জাল করে রবীন্দ্র পরিষদ ও রবীন্দ্র ইনস্টিটিউটের জমি দলিল করার অভিযোগও তাঁর বিরুদ্ধে আনা হয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকাল সম্পর্কেও জিয়া উদ্দিন মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে লিখিত বক্তব্যে।
বিদ্যালয়ের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আরও অভিযোগ করেন, সহকারী শিক্ষক মো. মাহবুবুর রহমানের সঙ্গে যোগসাজশ করে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হিসেবে দেখিয়ে বিদ্যালয়ের নামে ব্যাংক হিসাব খোলা হয় এবং ওই হিসাবের মাধ্যমে সরকারি ও বিদ্যালয়ের অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।
এ ছাড়া সহকারী শিক্ষক মো. জহুরুল ইসলামসহ কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগও করা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সাবেক প্রধান শিক্ষক মো. জিয়া উদ্দিনের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযোজন করা হবে।
সাময়িক বরখাস্তের পর চাকরিচ্যুতির দাবি/
রেশমা খাতুনের লিখিত বক্তব্য অনুযায়ী, জিয়া উদ্দিনকে প্রথমে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এরপর বিদ্যালয় পরিচালনা কর্তৃপক্ষের নিজস্ব তদন্তে তার বিরুদ্ধে আরও অভিযোগের প্রমাণ পাওয়ার দাবি করা হয়। পরে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দাবি, তদন্তে ওঠে আসা অভিযোগগুলো জালিয়াতি, দুর্নীতি ও অনিয়মের পর্যায়ে পড়ায় বিদ্যালয়ের স্বার্থে জিয়া উদ্দিনকে চাকরিতে বহাল রাখা ঝুঁকিপূর্ণ বলে বিবেচনা করে তৎকালীন ম্যানেজিং কমিটি বিদ্যালয় পরিচালনা সংক্রান্ত প্রবিধানমালার ৫৮ ধারার অধীনে ২৫ মে ২০২৫ তার চাকরির অবসান ঘটায়।
রেশমা খাতুন দাবি করেন, এ সংক্রান্ত চিঠির অনুলিপি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছেও পাঠানো হয়েছে। (সকল কাগজের নথি দৈনিক কুষ্টিয়ার কাছেও সংরক্ষিত রয়েছে)
দায়িত্ব হস্তান্তর নিয়েও বিরোধ/
সাবেক প্রধান শিক্ষককে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে না—এমন অভিযোগও অস্বীকার করেছেন রেশমা খাতুন। তার বক্তব্য, চাকরির অবসান হয়ে থাকলে সাবেক প্রধান শিক্ষক হিসেবে জিয়া উদ্দিনের কাছে বিদ্যালয়ের দায়িত্ব ও কাগজপত্র হস্তান্তরের কোনো সুযোগ নেই।
তিনি আরও দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে তিনজন শিক্ষক-কর্মচারীর এমপিও কার্যক্রম আটকে রাখার যে অভিযোগ করা হয়েছে, সেটিও সঠিক নয়। ওই তিনজনের কেউ আগে বিদ্যালয়ে কর্মরত ছিলেন না এবং তাদের নিয়োগসংক্রান্ত কাগজপত্র নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
অপপ্রচারের অভিযোগ, আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত/
লিখিত বক্তব্যের শেষাংশে রেশমা খাতুন দাবি করেন, বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক ও তার পক্ষের লোকজন বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছেন।
তিনি বলেন, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আইন মেনে চলতে আগ্রহী এবং অপপ্রচারের বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যায় সে বিষয়ে আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে।
তবে জিয়া উদ্দিনের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট তদন্ত প্রতিবেদন, চাকরিচ্যুতির আদেশ এবং অন্যান্য প্রামাণ্য নথি স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত এগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.

পুরোনো খবর এখানে,তারিখ অনুযায়ী

MonTueWedThuFriSatSun
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31 
© All rights reserved © 2024 dainikkushtia.net
Maintenance By DainikKushtia.net