September 5, 2026, 5:15 pm

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন পোর্টাল
সংবাদ শিরোনাম :
চীনা ভাষা শিক্ষা ও একাডেমিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগ কুষ্টিয়া সীমান্তে পৃথক অভিযানে ৬ লাখ টাকার ভারতীয় মাদক উদ্ধার উৎপাদন বাড়লেও কেজিতে ২০০ টাকা ছাড়াল সুগন্ধি চাল, রপ্তানি-মজুত নিয়ে প্রশ্ন জাতীয়করণের উদ্যোগে সামনে আসছে কুষ্টিয়ার প্রাচীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো রোগী সেজে দুদকের অভিযান, কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ‘টাকার বিনিময়ে মৃত্যু সনদ’! বেতন বাড়ার খবর বাজারে পৌঁছে গেছে সবুজ খোসার আড়ালে টকটকে লাল. হিজলাবটে তেঁতুলের অদ্ভুত রহস্য পে-স্কেল ২০২৬: স্বস্তি, সংকট ও সম্ভাবনার ত্রিমাত্রিক হিসাব চুনোপুঁটি নয়, অপরাধের নেপথ্যের শক্তিকে ধরতে পারবেন কি কুষ্টিয়ার নতুন পুলিশ সুপার? মাগুরায় শিশু আছিয়া ধর্ষণ-হত্যা মামলায় প্রধান আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল

চীনা ভাষা শিক্ষা ও একাডেমিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগ

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
চীনের শিক্ষা ব্যবস্থা এবং বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে শিক্ষা সহযোগিতা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক ছাত্রবিষয়ক সেল (আইএসএসি)-এর উদ্যোগে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
সেমিনারে চীনের শিক্ষা ব্যবস্থা, বাংলাদেশে চীনা ভাষা শিক্ষার ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব এবং দুই দেশের মধ্যে একাডেমিক, কারিগরি, প্রযুক্তিগত ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতার সম্ভাব্য বিভিন্ন ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা করা হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের কর্মকর্তা, শিক্ষক ও শিক্ষাবিদসহ চীনা ভাষা শিক্ষা ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন উদ্যোগের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ কে এম মতিনুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. এমতাজ হোসেন, ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. ইদ্রিস আলী এবং ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. মো. আতিকুর রহমান।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের চীনা পরিচালক ড. ইয়াং হুই। তিনি চীনের শিক্ষা ব্যবস্থা এবং বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে শিক্ষা সহযোগিতা জোরদারের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন। কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের প্রভাষক আকিব ইরফান আলোচক হিসেবে অংশ নেন। আন্তর্জাতিক ছাত্রবিষয়ক সেলের আহ্বায়ক ও পরিচালক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান অনুষ্ঠানটি সমন্বয় করেন।
মূল প্রবন্ধে ড. ইয়াং হুই চীনের শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন স্তর সম্পর্কে ধারণা দেন। তিনি বলেন, দেশটির শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রাক্-প্রাথমিক, বাধ্যতামূলক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি বিশেষ শিক্ষা এবং অব্যাহত শিক্ষার সুযোগ রয়েছে।
তিনি বিশেষভাবে চীনের নয় বছর মেয়াদি অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর আলোকপাত করেন এবং জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে দেশটির সামগ্রিক শিক্ষা কাঠামো কীভাবে কাজ করে, সে বিষয়ে আলোচনা করেন।
ড. ইয়াং হুই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে চীনা ভাষা শিক্ষা পুনরায় চালুর সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন। করোনা মহামারির সময় বন্ধ হয়ে যাওয়া ইবির চীনা ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম বিশ্ববিদ্যালয় ও কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের মধ্যে নতুন করে সহযোগিতার মাধ্যমে পুনরায় চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রস্তাবিত এ উদ্যোগের মাধ্যমে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের চীনা ভাষা শেখার নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং চীনের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়টির একাডেমিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরও জোরদার হতে পারে।
বাংলাদেশে চীনা ভাষা শিক্ষা সম্প্রসারণে সাম্প্রতিক বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ বিষয়ে বাংলাদেশ ও চীনের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সহযোগিতা রয়েছে। নির্বাচিত স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে চীনা ভাষা শিক্ষা চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।
তিনি স্থানীয় পর্যায়ে দক্ষ চীনা ভাষার শিক্ষক তৈরি করতে শিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁর মতে, বাংলাদেশে চীনা ভাষা শিক্ষার দীর্ঘমেয়াদি সম্প্রসারণ ও টেকসই কাঠামো গড়ে তুলতে স্থানীয় পর্যায়ে যোগ্য শিক্ষক তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ।
ড. ইয়াং হুই বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে শিক্ষা সহযোগিতা শুধু ভাষা শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। এ সহযোগিতার ক্ষেত্র কারিগরি শিক্ষা, উচ্চশিক্ষা, ডিজিটাল শিক্ষা এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় পর্যন্ত সম্প্রসারিত করা যেতে পারে।
তিনি বাংলাদেশের শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চীনা ভাষা শিক্ষার সঙ্গে ব্যবসায়িক ও কারিগরি দক্ষতার সমন্বয়ে ‘চাইনিজ প্লাস’ কর্মসূচি চালুর প্রস্তাব করেন। এ ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ভাষাগত দক্ষতার পাশাপাশি পেশাগত ও ব্যবহারিক দক্ষতাও অর্জনের সুযোগ পেতে পারেন, যা শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে তাদের সম্ভাবনা বাড়াতে পারে।
দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক সাংস্কৃতিক বিনিময় আরও বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। ড. ইয়াং হুই উল্লেখ করেন, চীনে ক্রমবর্ধমান সংখ্যক শিক্ষার্থী বাংলা ভাষা শিখছেন, যা বাংলাদেশ ও চীনের মানুষের মধ্যে ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক বোঝাপড়া জোরদারের প্রতি আগ্রহের প্রতিফলন।
সেমিনারে বক্তব্য দিতে গিয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তাবিত মডার্ন ল্যাঙ্গুয়েজ ইনস্টিটিউটের অধীনে তৃতীয় ভাষা হিসেবে চীনা ভাষা চালুর উদ্যোগে সহযোগিতা করতে ঢাকা থেকে আসার জন্য ড. ইয়াং হুইয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি সেমিনার এবং প্রস্তাবিত চীনা ভাষা শিক্ষা কার্যক্রমকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক অগ্রযাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, এ উদ্যোগ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ও কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার ভিত্তি তৈরি করতে পারে।
ভাইস চ্যান্সেলর বলেন, “ভাষা শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, এটি সংস্কৃতিরও একটি ঐতিহ্য।” বৈশ্বিক যোগাযোগ ও পারস্পরিক সংযোগের এই সময়ে বিদেশি ভাষা শেখার গুরুত্বের ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, প্রযুক্তি ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের কারণে আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে চীনা ভাষার গুরুত্বও বাড়ছে।
বিশ্ব রাজনীতিতে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রফেসর মতিনুর রহমান বলেন, “আমি মনে করি, বিশ্ব রাজনীতিতে চীন আগামী দিনের পরবর্তী আধিপত্যশীল রাষ্ট্র হতে যাচ্ছে।”
ভাইস চ্যান্সেলর বলেন, কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের সঙ্গে প্রস্তাবিত সহযোগিতার আওতায় প্রাথমিকভাবে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য তিন মাসের একটি বেসিক চীনা ভাষা কোর্স চালু করা হতে পারে।
পরবর্তীতে প্রয়োজন ও কর্মসূচির অগ্রগতির ভিত্তিতে এ কোর্সের মেয়াদ ১০ মাস কিংবা এক বছর পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা যেতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে চীনা ভাষার স্থানীয় বা নেটিভ শিক্ষকদের সহযোগিতা পাওয়ার আশা করছে বিশ্ববিদ্যালয়। এ ধরনের সহযোগিতা শিক্ষার্থীদের যোগ্য শিক্ষকের কাছ থেকে সরাসরি ভাষা শেখার সুযোগ তৈরি করার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ে চীনা ভাষা শিক্ষার মান উন্নয়নে সহায়ক হতে পারে।
দীর্ঘমেয়াদে প্রস্তাবিত মডার্ন ল্যাঙ্গুয়েজ ইনস্টিটিউটের অধীনে একটি চাইনিজ স্টাডিজ বিভাগ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথাও জানান ভাইস চ্যান্সেলর।
প্রস্তাবিত ব্যবস্থার আওতায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শ্রেণিকক্ষ, অফিস স্পেসসহ প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তা দেবে। অন্যদিকে কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট পাঠদানসংক্রান্ত বিষয়বস্তু ও শিক্ষক প্রদানের মাধ্যমে এ কার্যক্রমে সহযোগিতা করবে।
প্রস্তাবিত এ সহযোগিতা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে চীনা ভাষা শিক্ষার একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচনের পাশাপাশি বৃহত্তর একাডেমিক ও শিক্ষাগত সহযোগিতার ক্ষেত্রও তৈরি করতে পারে।
সেমিনারে ভাষা শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি প্রশিক্ষণ, উচ্চশিক্ষা, ডিজিটাল শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মতো বিষয়গুলো আলোচনায় আসায় বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে শিক্ষা সহযোগিতার একটি বিস্তৃত কাঠামো গড়ে তোলার সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়।
প্রস্তাবিত মডার্ন ল্যাঙ্গুয়েজ ইনস্টিটিউটের অধীনে চীনা ভাষা শিক্ষা পুনরায় চালুর উদ্যোগ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিদেশি ভাষা ও পেশাগত দক্ষতা অর্জনের নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.

পুরোনো খবর এখানে,তারিখ অনুযায়ী

MonTueWedThuFriSatSun
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930 
© All rights reserved © 2024 dainikkushtia.net
Maintenance By DainikKushtia.net