October 25, 2026, 8:17 pm

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন পোর্টাল
সংবাদ শিরোনাম :
রোজার চার মাস আগেই বাজারে কারসাজি, তাহলে রোজায় কী হবে? খোকসায় অপহরণের সাত ঘণ্টা পর ব্যবসায়ী উদ্ধার জাহাজ কমলেও বাড়ছে পণ্য পরিবহন, পিছিয়ে কার্যকর সক্ষমতা; রেলপথের ব্যবহার, নাব্যতা ও ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ কুষ্টিয়ায় সম্মিলিত সামাজিক জোটের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত কঠোর নিরাপত্তায় রূপপুরে পৌঁছাল দ্বিতীয় ইউনিটের প্রথম ইউরেনিয়াম চালান লালনের মানবতাবাদী দর্শন ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বানে শেষ হলো তিন দিনের তিরোধান দিবসের আয়োজন অর্থ লেনদেনের কোন প্রশ্নই উঠে না, কুষ্টিয়া যুবদল সভাপতির সংবাদ সম্মেলন কুষ্টিয়াতে আওয়ামী লীগের সাবেক দুই এমপির বিরুদ্ধে দুদকের মামলা অনুমোদন খোকসায় বেকারির ওভেন বিস্ফোরণে প্রধান মিস্ত্রি নিহত, দগ্ধ ২ লালনের শিক্ষা স্কুলে পৌঁছে দিতে চান প্রধানমন্ত্রী: তথ্য উপদেষ্টা

গাংনীতে দর্জি প্রশিক্ষণের ভাতা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্ত দাবি প্রশিক্ষণার্থীদের

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/

মেহেরপুরের গাংনীতে অসচ্ছল নারীদের স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে পরিচালিত সরকারি দর্জি প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে প্রশিক্ষণার্থীদের ভাতা ও প্রশিক্ষণসামগ্রী নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তিন মাসের প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া ৩০ নারী অভিযোগ করেছেন, নির্ধারিত হারে ভাতা না পাওয়ার পাশাপাশি প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয় কিছু সামগ্রীও তাদের নিজেদের অর্থে কিনতে হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

গত ৩১ আগস্ট বিকেলে গাংনী উপজেলা মহিলা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে সরেজমিনে গিয়ে প্রশিক্ষণার্থীদের সঙ্গে কথা বলে এসব অভিযোগের কথা জানা যায়। প্রশিক্ষণার্থীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত তিন মাস মেয়াদি দর্জি প্রশিক্ষণে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের ৩০ জন অসচ্ছল নারী অংশ নেন। কর্মসূচির আওতায় প্রশিক্ষণার্থীদের প্রতি মাসে ২ হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়ার কথা রয়েছে বলে তারা জানান।

প্রশিক্ষণার্থীদের অভিযোগ, এপ্রিল মাসে তারা নির্ধারিত ২ হাজার টাকা ভাতা পেলেও মে মাসে প্রত্যেকে ১ হাজার ৭০০ টাকা করে পেয়েছেন। জুন মাসের ভাতার টাকা সরকারি হিসাব থেকে উত্তোলন করা হলেও তাদের মধ্যে তা বিতরণ করা হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তারা।

ভোমরদহ গ্রামের প্রশিক্ষণার্থী ইতি খাতুন বলেন, জুন মাসের ভাতা দেওয়ার কথা বলে তাদের কাছ থেকে রেভিনিউ স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। তবে পরে তাদের কোনো টাকা দেওয়া হয়নি। শিশিরপাড়া গ্রামের চামেলী ও জেসমিন খাতুন এবং গাড়াডোব গ্রামের ছকিনা ও জেসমিন খাতুনও একই ধরনের অভিযোগ করেন।

কয়েকজন প্রশিক্ষণার্থী আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, তাদের প্রাপ্য ভাতা কম দেওয়া হয়েছে কি না এবং তাদের স্বাক্ষর ব্যবহার করে অতিরিক্ত অর্থ উত্তোলন বা বিতরণের কোনো ঘটনা ঘটেছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন। তবে এ বিষয়ে তারা কোনো নথি বা প্রমাণ উপস্থাপন করেছেন কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

প্রশিক্ষণসামগ্রী নিয়েও অভিযোগ করেছেন প্রশিক্ষণার্থীরা। তাদের দাবি, প্রশিক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় সিট কাপড়, কাঁচি, সুতা, মেজারমেন্ট টেপ ও স্কেলসহ বিভিন্ন সামগ্রী সরবরাহের কথা থাকলেও এসবের কিছু তারা নিজেদের অর্থে কিনে বাড়ি থেকে নিয়ে এসেছেন। সরকারি বরাদ্দের আওতায় এসব সামগ্রী কেনা ও বিতরণ করা হয়েছিল কি না, সে বিষয়েও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।

অভিযোগের বিষয়ে গাংনী উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নাসিমা খাতুনের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি জুন মাসের সরকারি অর্থ উত্তোলনের বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে তিনি বলেন, “২ আগস্ট নির্দেশনা এসেছে টাকাগুলো না দেওয়ার জন্য।” কেন টাকা উত্তোলনের পরও তা প্রশিক্ষণার্থীদের দেওয়া হয়নি এবং অর্থটি বর্তমানে কোন অবস্থায় রয়েছে—এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে রাজি হননি। প্রশিক্ষণসামগ্রী ও বরাদ্দের বিষয়েও তার বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

এদিকে, নাসিমা খাতুন মেহেরপুর জেলা মহিলা বিষয়ক কার্যালয়ে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকায় জেলা পর্যায়ের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রেও একই ধরনের অনিয়ম হয়েছে কি না—এমন সন্দেহের কথা স্থানীয়দের কেউ কেউ জানিয়েছেন। তবে এ অভিযোগের পক্ষে স্বাধীন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং বিষয়টি যাচাই করা প্রয়োজন।

অভিযোগের বিষয়ে গাংনী উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাবিদ হোসেন বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে সদ্য অবগত হয়েছেন। অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মেহেরপুরের জেলা প্রশাসক শিল্পী রানী রায় বলেন, সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে সরকারি বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সরকারি এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্দেশ্য অসচ্ছল নারীদের দক্ষ করে আয়মুখী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা। ফলে প্রশিক্ষণার্থীদের ভাতা বিতরণ, অর্থ উত্তোলন, প্রশিক্ষণসামগ্রী কেনাকাটা ও বিতরণ এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্রের হিসাব স্বচ্ছভাবে যাচাই করা হলে অভিযোগগুলোর প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রশিক্ষণার্থীদের দাবি, তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে তাদের প্রাপ্য ভাতা নিশ্চিত করা এবং কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.

পুরোনো খবর এখানে,তারিখ অনুযায়ী

© All rights reserved © 2024 dainikkushtia.net
Maintenance By DainikKushtia.net