September 28, 2026, 2:30 pm

২৪ সেপ্টেম্বর আসার কথা ছিল, নতুন সময়সূচি অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে
দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের প্রয়োজনীয় অনুমতি না পাওয়ায় রাশিয়া থেকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য নির্ধারিত পারমাণবিক জ্বালানি বহনকারী কার্গো বিমানটি বাংলাদেশে আসতে পারেনি। ২৪ সেপ্টেম্বর ঢাকায় পৌঁছানোর কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত চালানটি স্থগিত হয়ে যায়। নতুন করে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে জ্বালানি পৌঁছানোর সময়সূচি প্রস্তাব করেছে রাশিয়া।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এ তথ্য জানিয়েছেন। ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআইকে তিনি বলেন, রূপপুরের জন্য ইউরেনিয়াম বহনকারী একটি কার্গো বিমান ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে আসার কথা ছিল। তবে বিমানটি পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় নির্ধারিত সময়ে জ্বালানি পৌঁছায়নি।
পাকিস্তান কেন ওই অনুমতি দেয়নি, তার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো বাংলাদেশের জানা নেই বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, রাশিয়া নতুন করে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে জ্বালানি পৌঁছানোর তারিখ প্রস্তাব করেছে।
বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয় ২৪ সেপ্টেম্বর বিমানটি ঢাকায় না পৌঁছানোর পর। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জ্বালানি গ্রহণের জন্য বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন ছিল। বিমানটির অপেক্ষায় থাকা কর্মকর্তারা পরে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি সংস্থা রোসাটমের লিয়াজোঁ কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তখন তাদের জানানো হয়, আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না থাকায় বিমানটি আসতে পারেনি।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব শেখ মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলামও এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বিমানবন্দরে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে তারা অপেক্ষা করছিলেন। পরে রোসাটমের লিয়াজোঁ কর্মকর্তার কাছ থেকে আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ার বিষয়টি জানতে পারেন। ফলে নির্ধারিত পরিবহন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি।
তবে প্রথমদিকে বাংলাদেশের কর্মকর্তারা কোন দেশের আকাশসীমার অনুমতি পাওয়া যায়নি, তা নিশ্চিত করতে পারেননি। ২৫ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, রোসাটমের কাছ থেকে শুধু ‘airspace was not clear’—এমন তথ্য পাওয়া গেছে। রোসাটমের কাছ থেকেও তখন কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
পরবর্তী সময়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রীর বক্তব্যে পাকিস্তানের নাম স্পষ্ট হয়। তবে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো কারণ বা ব্যাখ্যা প্রকাশ্যে এসেছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। রোসাটমের কাছ থেকেও বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্য ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
রাশিয়া থেকে রূপপুরে পারমাণবিক জ্বালানি পরিবহনের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক রুট ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি গুরুত্বপূর্ণ। নির্ধারিত চালানটি আসতে না পারায় এখন নতুন তারিখ ও রুট নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। পাবনার ঈশ্বরদীতে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি সংস্থা রোসাটমের কারিগরি সহায়তায় নির্মাণাধীন প্রকল্পটিতে দুটি ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টর রয়েছে। প্রতিটি ইউনিটের উৎপাদনক্ষমতা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট; দুটি ইউনিট থেকে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে।
প্রথম ইউনিটের জন্য রাশিয়া থেকে পারমাণবিক জ্বালানির প্রথম চালান ২০২৩ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশে আসে। ওই জ্বালানি বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঈশ্বরদীর রূপপুর প্রকল্প এলাকায় নেওয়া হয়।
চলতি বছরের ২৮ এপ্রিল প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক জ্বালানি লোডিং শুরু হয়। দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানি সরবরাহের নতুন সময়সূচি অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে নির্ধারণ করা হলে সেটি প্রকল্পের পরবর্তী কমিশনিং কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হবে।
এর আগে চলতি মাসেই বাংলাদেশ ও রোসাটম রূপপুর প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের উদ্যোগ ত্বরান্বিত করার বিষয়ে একমত হয়। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম ও রোসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভের বৈঠকে প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পারমাণবিক নিরাপত্তা মান বজায় রেখে অবশিষ্ট কাজ দ্রুত শেষ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এদিকে, ২৪ সেপ্টেম্বরের চালানটি কেন নির্ধারিত সময়ে আসতে পারেনি—সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত তথ্য হলো পাকিস্তানের আকাশসীমার প্রয়োজনীয় অনুমতি পাওয়া যায়নি। এর বাইরে অনুমতি না দেওয়ার কারণ বা কোনো রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয়টি প্রকাশ্যে নিশ্চিত না হওয়ায় এ নিয়ে অনুমান না করাই তথ্যগতভাবে নিরাপদ।