February 28, 2026, 9:10 pm

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন পোর্টাল
সংবাদ শিরোনাম :

শারীরিক অক্ষমতাকে উপেক্ষা, মৃত্যুর কাছে হার

দৈনিক কুষ্টিয়া প্রতিবেদক/
শারীরিক অক্ষমতাকে উপেক্ষা করে সফল হয়ে উঠেছিল মাগুরার ফাহিম উল করিম। নিজেকে এগিয়ে সফলতাকেও তুলে ধরেছিল সবার কাছে। তৈরি করেছিল উদাহরণ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হার মানতে হলো মৃত্যুর কাছে।
বিরল রোগ ডুচেনে মাসকিউলার ডিসট্রফি (ডিএমডি) এ ভুগছিলেন ফাহিম। গোটা শরীর অচল ছিল। শুধু মাথা ও ডান হাতের দুটি আঙুল সচল ছিল তার। সেই দুই আঙুলের সাহায্যে ল্যাপটপ নিয়ে বিছানায় শুয়েই আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে অর্থ উপার্জনের পথ করে নেন তিনি। এক পর্যায়ে প্রতি মাসে ৫০ হাজার টাকা আয় করে সংসারের স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনেন ২২ বছর বয়সী এই তরুণ।
ফাহিম উল করিমের বাড়ি মাগুরা শহরের মোল্যা পাড়া এলাকায়। বুধবার সকালে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ফরিদপুরে নেয়া হয়। সেখানে রাতেই তার মৃত্যু হয়।
ফাহিম প্রতিবন্ধকতা জয় করে মেধার অদম্য শক্তি কাজে লাগিয়ে সফলতা অর্জন করেন। অনেকের কাছেই তিনি অনুকরণীয়। বাবা রেজাউল করিম একটি বেসরকারি কোম্পানির বিপণন কর্মী।
তিনি জানান মাগুরা শহরেই থাকতেন তিনি। একমাত্র ছেলে ফাহিম ২০১২ সালে জেএসসি পরীক্ষার আগে হঠাৎ শয্যাশায়ী হয়ে পড়ে।
দৃঢ় মনোবল, প্রবল ইচ্ছাশক্তি ও মেধা কাজে লাগিয়ে ফাহিম সফল ফ্রিল্যান্সার হন। ২০১৬ সালে অন্যের সহযোগিতা ও প্রাইভেট পড়িয়ে জমানো টাকা ও ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে তিনি একটি ল্যাপটপ কেনেন। এরপর ইন্টারনেটে গুগল ও ইউটিউব থেকে বিভিন্ন কাজ শিখে নেন।
২০১৭ সালে ফেসবুকের মাধ্যমে অনলাইন মার্কেটে ফাইবারে অ্যাকাউন্ট খুলে কাজ খুঁজতে থাকেন। ক’দিনের মধ্যে পাঁচ ডলারের একটি কাজ পেয়ে যান। অল্প সময়ের মধ্যে সফলভাবে কাজটি করার জন্য বায়ার তাকে আরও ১০ ডলার বোনাস দেন।
এরপর থেকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি ফাহিমকে। প্রথমে ব্যানার ও বিজনেস কার্ড দিয়ে কাজ শুরু করলেও পরবর্তীতে সব ধরনের কাজই করতেন।
কাজের দক্ষতার কারণে জনপ্রিয় ফ্রিল্যান্সার ফাহিম বিশ্বের ৩০ থেকে ৩৫টি দেশের কাজ করতেন। অর্ডার এত বেশি ছিল যে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা সময় দিলেও কাজ শেষ হত না। ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ করে গত চার বছর ধরে ফাহিম মাসে গড়ে ৫০ হাজার টাকা করে আয় করেছেন। তার উপার্জনে পরিবারের স্বচ্ছলতা ফেরে। বোনের লেখাপড়াও চলছিল।
ফাহিমের বাবা রেজাউল করিম বলেন, তার সব শেষ হয়ে গেছে। দেশের বাইরে নিয়ে ফাহিমকে উন্নত চিকিৎসা করাতে পারলে পুরোপুরি সুস্থ না হলেও শারীরিক অবস্থা কিছুটা হলেও ভালে হত। অর্থের অভাবে তিনি ছেলের উন্নত চিকিৎসা করাতে পারেননি।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.

পুরোনো খবর এখানে,তারিখ অনুযায়ী

MonTueWedThuFriSatSun
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
30 
© All rights reserved © 2024 dainikkushtia.net
Maintenance By DainikKushtia.net