May 14, 2026, 6:59 am

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন পোর্টাল
সংবাদ শিরোনাম :
একনেকে অনুমোদন পেল ৩৫ হাজার কোটি টাকার পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত: বাড়ছে জামানত, বাদ যাচ্ছে দলীয় প্রতীক নীরব শিশু মৃত্যুর মিছিলে সামিল সবাই? দায় খোঁজার দায়হীন এক সমাজ ঈদ উপলক্ষে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে দোকান-বিপণিবিতান রূপপুর/ব্যয়ের প্রশ্নে অন্য দেশের বাস্তবতা ও আমরা মোটরসাইকেলে নতুন করের প্রস্তাব ছয় দশক ধরে আলোচনায়, সংশয় ও সম্ভবনার পদ্মা ব্যারাজ হামে শিশুমৃত্যু: ৩৫২ পরিবারের জন্য দুই কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে হাইকোর্টে রিট মাদক কারবারীকে ছাড়াতে থানায় চাপ প্রয়োগের চেষ্টা, বিএনপি-জামাতের পাঁচ নেতা আটক, আদালত প্রক্রিয়া নিয়ে গুঞ্জন বিশ্ব মা দিবস/ মায়ের মুখেই পৃথিবীর প্রথম আলো

হত্যা মামলার আসামীর বাবাকে একই কায়দায় হত্যা

দৈনিক কুষ্টিয়া প্রতিবেদক/

কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম ভড়ুয়াপাড়ায় ৮২ দিন পর একই স্টাইলে আরেকজন কৃষককে হত্যা করা হয়েছে। ১৭ এপ্রিল সকালে গ্রামের মাঠ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে কৃষক নজির উদ্দিন ওরফে নাসিম উদ্দিনের (৫৯) মরদেহ। গত ২৫ জানুয়ারি সকালে একইভাবে পাওয়া গিয়েছিল কৃষক আমিরুল ইসলাম ওরফে সবুর (৪৫) এর মরদেহ। দুই জনকেই শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় এবং মরদেহ ফসলের জমিতে রাখা হয় উপুড় করে। সবুর হত্যা মামলার আসামির মিরাজ উদ্দিনের বাবা নজির উদ্দিন।

নিহতের ছেলে মিরাজ উদ্দিন বলেন, বাবা প্রায় দিনই ঘরের বাইরে পুকুর পাড়ে বাঁশের চরাটের উপর থাকতেন। গতকাল রাত ১২ টার দিকেও বাবা চরাটের উপর ছিলেন। আজ সকাল ৬ টার দিকে আমার চাচী শিউলী খাতুন জানান, বাবা রজব মোল্লার জমিতে ঘুমাচ্ছেন। বাড়ি থেকে সাড়ে তিনশ গজ দুরের (পশ্চিমে) গিয়ে দেখি বাবার হাত ও পা বাঁধা। উপর হয়ে পড়ে আছে। মিরাজ আরো বলেন, আমি একজন ভ্যানচালক। আগের সবুর হত্যা মামলার আমাকে আসামী করা হয়েছে। পূর্ব শত্রুতার জেরেই আজ আমার বাবাকে হত্যা করা হলো।

পুলিশ গ্রামের মাদের মাঠে ফাঁকা আবাদি জমি থেকে নজির উদ্দিন ওরফে নাসিম উদ্দিন (৫৯) নামের ওই কৃষকের মরদেহ উদ্ধার করেছে। ময়না তদন্তের জন্য মরদেহ কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানান, কুমারখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মজিবুর রহমান। তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। তবে ময়না তদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে। এলাকা আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করার কথা বলেন ওসি।

 

কুমারখালী উপজেলার বাগুলাট ইউনিয়নের ভড়ুয়াপাড়া গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক দ্বন্দ্ব লেগে আছে। এলাকাবাসী জানান, একপক্ষে নেতৃত্ব দিচ্ছেন গোলাম সরোয়ার। অন্যপক্ষে মো. বাবলু। এদের শত্রুতার জের ধরেই গত ২৫ জানুআরি বাবলু গ্রুপের সবুর নামের কৃষকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিজ বাড়ি থেকে এক হাজার গজ দূরে সরিষা ক্ষেতের পাশে উপুড় করে রাখা অবস্থায় পাওয়া যায় তার মরদেহ। এ ঘটনার পর তার ছেলে বাদী হয়ে সরোয়ার গ্রুপ সমর্থিতদের আসামী করে মামলা করলে দ্বন্দ্ব প্রকট আকার ধারণ করে। এরমধ্যে ১৭ এপ্রিল সকাল ৬ টার দিকে সরোয়ার গ্রুপ সমর্থিত নজির উদ্দিন ও নাসিম উদ্দিনের মরদেহ পাওয়া গেল। এটি নিজ বাড়ি থেকে সাড়ে তিনশ গজ পশ্চিমে আবাদি জমিতে উপুড় করে রাখা ছিলো।

এদিকে ঘটনার পর প্রতিপক্ষের কয়েকটি বাড়িতে ভাংচুর ও লুটপাট করেছে সরোয়ার গ্রুপের সমর্থকরা। তবে, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন কুষ্টিয়া অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আতিকুল ইসলাম। তিনি গ্রামবাসীকে দ্বন্দ্ব-সংঘাতের পথ পরিহার করার হুশিয়ারি দিয়েছেন। গ্রামে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.

পুরোনো খবর এখানে,তারিখ অনুযায়ী

© All rights reserved © 2024 dainikkushtia.net
Maintenance By DainikKushtia.net