May 1, 2026, 11:04 am

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার আধ্যাত্মিক সাধক আবদুর রহমান ওরফে শামীম হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি রাজীব মিস্ত্রিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। বৃহস্পতিবার (৩০ মার্চ) রাতে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
র্যাব-১২–এর কুষ্টিয়া ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুদীপ্ত সরকার স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
পরে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্রেও নিশ্চিত হয়েছে।
র্যাব জানায়, গ্রেপ্তার রাজীব মিস্ত্রি মামলার এজাহারভুক্ত তিন নম্বর আসামি। তার বাড়ি দৌলতপুর উপজেলার দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগরের দারোগার মোড় এলাকায়। তিনি পেশায় একজন কাঠমিস্ত্রি।
সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই রাজীব পলাতক ছিলেন। প্রথমে তিনি পাবনায় আত্মগোপনে যান, পরে রাজশাহীতে এক আত্মীয়ের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি একাধিক সিম ব্যবহার করতেন এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য অন্যের মোবাইল ফোন ব্যবহার করতেন বলে জানায় র্যাব।
র্যাব কর্মকর্তারা আরও জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায় যে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজীব গোদাগাড়ীর একটি সেলুনে চুল কাটাতে যান। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই র্যাব-৫ ও র্যাব-১২–এর যৌথ দল সেখানে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। আকস্মিক এ অভিযানে তিনি পালানোর সুযোগ পাননি।
এর আগে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পীর আবদুর রহমান ওরফে শামীমকে হত্যার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ ও পারিবারিক সূত্র অনুযায়ী, ধর্মীয় অনুভূতি অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ১১ এপ্রিল তাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়।
ঘটনার পর নিহতের বড় ভাই ফজলুর রহমান ১৩ এপ্রিল দৌলতপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় মোট চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়। এজাহারে প্রধান ও হুকুমের আসামি হিসেবে স্থানীয় জামায়াত নেতা মুহাম্মদ খাজা আহমেদকে উল্লেখ করা হয়। তিনি কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি এবং বর্তমানে দৌলতপুর উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য।
এছাড়া বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের দৌলতপুর উপজেলা কমিটির সভাপতি মো. আসাদুজ্জামান, রাজীব মিস্ত্রি এবং ইসলামপুর (পূর্বপাড়া) গ্রামের মো. শিহাবকে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়। মামলায় আরও ১৮০ থেকে ২০০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
র্যাব জানিয়েছে, মামলার তদন্তে অন্যান্য আসামিদের অবস্থান শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তার রাজীব মিস্ত্রিকে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য দৌলতপুর থানায় হস্তান্তর করা হবে।
এদিকে আলোচিত এই হত্যাকাণ্ড এবং ধারাবাহিক গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে এলাকায় এখনো উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।