April 15, 2026, 10:40 pm

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন পোর্টাল
সংবাদ শিরোনাম :
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে আধ্যাত্মিক সাধু হত্যা/ জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে মামলাকে ‘ষড়যন্ত্র’ দাবি বর্ণাঢ্য আয়োজনে কুষ্টিয়া সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের বর্ষবরণ উৎসব আধ্যাত্মিক সাধক হত্যা: দ্রুত বিচার দাবিতে দৌলতপুরে ভক্তদের বিক্ষোভ ও মানববন্ধন ব্রীজ হয়েছে, এবার রাস্তা দরকার –আশার আলো দেখছেন এলাকাবাসী কুষ্টিয়ায় আধ্যাত্মিক গুরু হত্যা/জেলা শিবিরের সাবেক সভাপতি প্রধান আসামি; ইসলামী সংগঠনের একাধিক নেতার নাম শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও গ্রামীণ ঐতিহ্যে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের নববর্ষ উদযাপন রমনা বটমূলে বৈশাখী বোমা হামলা: ২৫ বছর পরও বিচার যেন এক দীর্ঘ প্রতীক্ষা শিক্ষামন্ত্রীর পাশেই বসে ‘চেয়ার’ হারানোর খবর: যবিপ্রবি উপাচার্যের হাসি-চাপা বিষাদ খুলনা বিভাগের ১০ জেলার কেন্দ্রসচিবদেরকে শিক্ষামন্ত্রী/ শুধু মন্ত্রী বদলালেই শিক্ষার মান বাড়বে না আনন্দে বরণ নতুন বছর—আজ পহেলা বৈশাখ

পচা খাবার সরবরাহ/ চুয়াডাঙ্গার টিটিসি কোয়ারেন্টিন সেন্টারে বিক্ষোভ

জহির রায়হান সোহাগ, চুয়াডাঙ্গা/

চুয়াডাঙ্গার কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (টিটিসি) কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে মানহীন খাবার সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার রাতে ভাতের সাথে দেয়া মাছ থেকে পচা গন্ধ বের হলে শুরু হয় বিক্ষোভ। বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও কোন লাভ হয়নি বলে অভিযোগ কোয়ারেন্টিনে থাকা ভারত ফেরতদের। খবর পেয়ে সেখানে পৌঁছান করোনা নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ সংক্রান্ত উপকমিটির আহ্বায়ক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মুনিরা পারভীন, পুলিশ কর্মকর্তারা। পরে তাদের শান্ত করা করলে পরিস্থিতি আসে নিয়ন্ত্রণে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, করোনা ভাইরাসের প্রকোপে বন্ধ ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত। এরমধ্যেও জরুরি চিকিৎসা নিতে বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে স্থলপথে হাজার দেড়েক বাংলাদেশী বিশেষ ব্যবস্থায় ভারতে গিয়ে পড়ে বিপাকে। কারণ সেখানেও চলছে লকডাউন। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিশেষ ব্যবস্থায় আটকেপড়া ওই বাংলাদেশি যাত্রীদের দেশে ফেরার ব্যবস্থা করে। গত ১৭ মে থেকে চুয়াডাঙ্গার দর্শনাসহ দেশের ৩টি স্থলসীমান্ত ও চেকপোস্ট দিয়ে দেশে ফিরতে শুরু করেন বাংলাদেশীরা। তবে শর্ত মোতাবেক দেশে ফেরা সবাইকে বিশেষ কোয়ারেন্টিনে থাকতে হচ্ছে ১৪ দিন। সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন করছে গোটা বিষয়ের তত্ত্বাবধান। সেই অনুযায়ী চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্ত দিয়ে দেশে ফেরা প্রায় সাতশো মানুষ অবস্থান করছেন চুয়াডাঙ্গার চারটি সরকারি ভবন ও কয়েকটি আবাসিক হোটেলের অস্থায়ী কোয়ারেন্টিন সেন্টারে। এরমধ্যে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে রয়েছেন ১১৪ জন। এদের তিনবেলা খাবারের যোগান হচ্ছে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসন কর্তৃক নির্ধারিত তিনটি রে¯েঁÍারা থেকে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী থাকা খাওয়ার সব খরচ বহন করতে হচ্ছেন যাত্রীদের নিজেদেরকেই।

এদিকে, আবাসন নিয়ে তেমন কোনো অভিযোগ না পাওয়া গেলেও সরবরাহকৃত খাবারের মান নিয়ে প্রথম থেকেই অভিযোগ উঠতে থাকে। বুধবার রাতে টিটিসি কোয়ারেন্টিন সেন্টারে ক্ষোভ রূপ নেয় বিক্ষোভে। অনেকে টিটিসি ভবনের জানালা দিয়ে ফেলে দেন খাবার।

যাত্রীদের অভিযোগ, যে মাছ খেতে দেয়া হয়েছে তা পচা দুর্গন্ধযুক্ত একদম খাওয়ার অনুপযোগী। গতকাল দুপুরের খাবার কোনো মতে খাওয়া গেলেও রাতে ভাতের সাথে যে মাছ দিয়েছে তাতে ছিলো পঁচা গন্ধ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কোয়ারেন্টিনে থাকা বেশ কয়েকজন জানান, চুয়াডাঙ্গায় কোয়ারেন্টিনে আসার প্রথম দু’দিন আমরা ভালোই ছিলাম। এরপর থেকে খাবার নিয়ে যা হচ্ছে তা রীতিমত অত্যাচার। তিনবেলা দেয়া হচ্ছে অখাদ্য ও পরিমাণে কম। গতকাল বুধবার সকাল থেকে তিনবেলা ছাড়া বিগত দিন সরববরাহকৃত খাবারের প্যাকেটের গায়ে লেখা ছিলো না কোন রেস্তোঁরার নাম। গতকাল দুপুরে যে মুরগির মাংস খেতে দেয়া হয়েছিলো তা খাওয়া যায়নি। রাতে তো পঁচা মাছ ছিলোই। খেতে না পেরে প্রতিবাদ করেছে সবাই। খাবারের প্যাকেট ছুঁড়ে দিয়েছে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকাদের দিকে। অনলাইনে পছন্দের খাবার নেয়ার ব্যবস্থা নেই। পছন্দমতো কিছু যে আনাবো, তাও নিষেধ। আমরা তো কোনো অপরাধ করিনি! তাহলে কেন এই জেলখানার শাস্তি? জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কাছে অসংখ্যবার মৌখিক অভিযোগ, অনুরোধ করা হয়েছে তাতে কোনো কাজ হয়নি। আমাদের টাকা খরচ করে কেন অখাদ্য কেনা হচ্ছে?

কোয়ারেন্টিনে থাকা যাত্রীদের খাবারসহ ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা জেলা প্রশাসনের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) আমজাদ হোসেন জানান, মান যাচাই করে চুয়াডাঙ্গা শহরের তিনটি রেস্তোঁরাকে পর্যায়ক্রমে দেয়া হয়েছে সরবরাহের কাজ। তদারকিতে দুজন ম্যাজিস্ট্রেট থাকছেন। বড় বাজারের হোটেল আল আমিন, ভোজন বিলাস এবং মেহমান হোটেল থেকে যাচ্ছে তিনবেলার খাবার। গতরাতে ১০-১২ জন যাত্রী মাছের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। অন্যরা কোনো অভিযোগ করেনি।
তিনি আরও জানান, কোয়ারেন্টিনে থাকা বাংলাদেশী যাত্রীদের কাছ থেকে থাকা খাওয়া বাবদ জনপ্রতি ৫ হাজার টাকা জমা নেয়া হয়েছে। খাবার নিয়ে অভিযোগ ওঠায় এর আগে সরবরাহকারী হোটেল বদল করা হয়েছে। থাকা খাওয়াসহ যাত্রীদের দেখভালের বিষয়টির সাথে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের ভাবমূর্তি জড়িত। আজ থেকে খাবার সরবরাহ করবে রেডচিলি। বুধবার রাতের খাবার সরবরাহকারী মেহমান হোটেলের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। তদন্তের পর প্রয়োজনে আজ করা হবে সীলগালা।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.

পুরোনো খবর এখানে,তারিখ অনুযায়ী

MonTueWedThuFriSatSun
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031
© All rights reserved © 2024 dainikkushtia.net
Maintenance By DainikKushtia.net