January 13, 2026, 5:38 pm

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কুষ্টিয়া-২ (ভেড়ামারা–মিরপুর) আসনে বিএনপি প্রার্থী ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরীর এক প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতার কবর জিয়ারত—এই স্বাভাবিক, মানবিক ও ধর্মীয় আচারটিও দলের ভেতরে রাজনীতির অনাকাঙ্ক্ষিত ঝড় তুলেছে।
মানুষের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে যে জায়গায় সব দ্বন্দ্ব-সংঘাত থেমে যায়, সেখানে কি এখন দলীয় বিভাজন ঢুকে পড়বে? মৃত মানুষের জন্য দোয়া করাও কি রাজনীতির মর্যাদা-মানহানির পাল্লায় দাঁড়াবে? জনমনে এমন তীব্র প্রশ্ন উঠছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে তর্ক-বিতর্ক, সমালোচনার ঢেউ— যেন কবর জিয়ারতের মতো পবিত্র একটি আচারও আর নিছক ধর্মীয় অনুভূতি নয়; হয়ে উঠছে রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশের অংশ।
জানা গেছে, বিএনপির প্রার্থী ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে ধানের শীষের প্রচারণায় ভেড়ামারার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়ান। বাহাদুরপুর ইউনিয়নের বিজেএম ডিগ্রি কলেজে শিক্ষার মানোন্নয়ন বিষয়ক এক সমাবেশে যোগ দেওয়ার আগে তিনি কলেজের প্রতিষ্ঠাতা, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আব্দুর রাজ্জাকের কবর জিয়ারত করেন। সঙ্গে ছিলেন উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব শাহজাহান আলীসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
এ ঘটনার পরই স্থানীয় রাজনীতিতে তুমুল আলোচনা। কেউ বলছেন—“এটা অশোভন”, কেউ বলছেন— “এটাই তো মানবিকতা, সামাজিক সৌজন্য।”
প্রয়াত নেতার সন্তান, যুবলীগ নেতা সোহেল রানা পবন আবেগঘন কণ্ঠে বলেন,
“হ্যাঁ, তিনি (রাগীব রউফ) বাবার কবর জিয়ারত করেছেন—এটাই সত্য। আমার দুই ভাই তাঁর সঙ্গে কাজ করে, সেই সূত্রেই হয়তো গেছে। আমরা কেউ তখন উপস্থিত ছিলাম না।”
অন্যদিকে ভেড়ামারা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তৌহিদুল ইসলাম বিষয়টিকে রাজনৈতিকভাবে খারাপ নজরে দেখছেন। তাঁর ভাষায়,
“যাঁর কবর জিয়ারত করেছেন, তিনি আওয়ামী লীগ নেতা। তাঁর পরিবারের সদস্যরাও সরকারদলীয় রাজনীতিতে। আমার মনে হয়, নির্বাচনী প্রচারে এ ধরনের আচরণ শোভনীয় নয়। মানুষও বিষয়টি ভালোভাবে নেয়নি।”
তবে ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী পুরো ঘটনাকে দেখছেন একেবারেই মানবিক ও অরাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে। তিনি বলেন,
“আমি জানতাম না তিনি আওয়ামী লীগ করতেন। শুনেছি তিনি জাতীয় পার্টির রাজনীতিতে ছিলেন। দীর্ঘদিন আগে মারা গেছেন। তিনি ছিলেন কলেজের প্রতিষ্ঠাতা— সেই সম্মান থেকেই কবর জিয়ারত করেছি। এর ভেতরে রাজনীতি খোঁজা অনর্থক।”
কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সদস্যসচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকারও বিষয়টিকে অনাকাঙ্ক্ষিত বিতর্ক মনে করে বলেন,
“এটা কোনো ইস্যুই নয়। এটা নিছক সামাজিক সৌজন্যতা, মানবিক দায়িত্ব।”