February 10, 2026, 10:40 pm

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশজুড়ে প্রার্থীদের সব ধরনের নির্বাচনী প্রচার শেষ হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নির্দেশনা অনুযায়ী ভোটগ্রহণ শুরুর ৪৮ ঘণ্টা আগে, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে এই বিধিনিষেধ কার্যকর হয়। ফলে টানা ২০ দিনের প্রচারণা পর্ব শেষ করে এখন নির্বাচনী উত্তাপ থেমে আছে নীরব প্রস্তুতির পর্যায়ে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত একযোগে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে দেশের ২৯৯টি সংসদীয় আসনে ভোট নেওয়া হবে। শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের মৃত্যুর কারণে ওই আসনের নির্বাচন স্থগিত করেছে ইসি।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) ও নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী, ভোটের আগে ৪৮ ঘণ্টা সব ধরনের প্রচার-প্রচারণা বন্ধ রাখা বাধ্যতামূলক। নির্বাচন কমিশন সতর্ক করেছে—নির্ধারিত সময়ের পর কোনো প্রচারণা চালানো হলে তা আচরণবিধি লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অংশগ্রহণ ও পরিসংখ্যান
ইসি সূত্রে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে ৫১টি রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে। মোট প্রার্থী ২ হাজার ৩৪ জন, যার মধ্যে ২৭৫ জন স্বতন্ত্র। সারা দেশে ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে ৪২ হাজার ৭৭৯টি।
মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন, নারী ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ হাজার ২৩২ জন।
দলভিত্তিক প্রার্থীর সংখ্যায় বিএনপি এগিয়ে—‘ধানের শীষ’ প্রতীকে ২৯১ জন প্রার্থী দিয়েছে দলটি। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ‘হাতপাখা’ প্রতীকে ২৫৮ জন, জামায়াতে ইসলামী ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে ২২৯ জন, জাতীয় পার্টি ‘লাঙ্গল’ প্রতীকে ১৯৮ জন এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে ৩২ জন প্রার্থী দিয়েছে। স্বতন্ত্রদের মধ্যে ৭৬ জন ‘ফুটবল’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
সভা-মিছিল নিষিদ্ধ
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ৭৮ ধারার বিধান অনুযায়ী ভোটগ্রহণ শুরুর ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকে ভোট শেষের পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত নির্বাচনি এলাকায় কোনো জনসভা বা মিছিল করা যাবে না। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।
নীরবতার ভেতর প্রত্যাশা ও শঙ্কা
প্রচার শেষ হলেও নির্বাচনের পরিবেশ, ভোটার উপস্থিতি, নিরাপত্তা এবং ফলাফলের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রত্যাশা ও শঙ্কা রয়ে গেছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে এই নির্বাচন কেবল ক্ষমতার পালাবদল নয়—বরং গণতান্ত্রিক আস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাও হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এখন সব নজর ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটের দিকে—যেখানে ব্যালটের রায়ে নির্ধারিত হবে দেশের পরবর্তী রাজনৈতিক গতিপথ।