March 8, 2026, 4:14 pm

নারীদের ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে সরকারের ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে ; রাট্রপাতি
দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ‘শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী’ সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী Khaleda Zia। তাঁর পক্ষে এই সম্মাননা গ্রহণ করেন নাতনি ব্যারিস্টার জাইমা রহমান।
রোববার (৮ মার্চ) আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে রাজধানীর ওসমানী মেমোরিয়াল অডিটোরিয়াম-এ আয়োজিত ‘অদম্য নারী পুরস্কার ২০২৬’ অনুষ্ঠানে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে পুরস্কারপ্রাপ্তদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন রাষ্ট্রপতি মো সাহাবুদ্দিন।
১০ মার্চ থেকে শুরু হচ্ছে কর্মসূচি; নারী ক্ষমতায়নে নতুন উদ্যোগের কথা জানালেন রাষ্ট্রপতি
অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা নারীদের ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে সরকারের ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মো: সাহাবুদ্দিন। তিনি বলেছেন, এই উদ্যোগ পরিবারগুলোর অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
রাষ্ট্রপতি জানান, অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া নারীদের ক্ষমতায়নের লক্ষ্যেই সরকার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি চালু করছে। আগামী ১০ মার্চ থেকে এই কর্মসূচি শুরু হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, নারীর অধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সরকার এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করবে। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি পরিবারগুলোর আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বক্তব্যের শুরুতে রাষ্ট্রপতি ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে দেশের গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে আত্মোৎসর্গকারী শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, শহিদদের স্বপ্ন ছিল একটি বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা। সেই লক্ষ্য অর্জনের মধ্য দিয়েই তাদের আত্মত্যাগের যথার্থ সম্মান জানানো সম্ভব।
নারীর অবদানের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) নারীদের অবদান প্রায় ১৬ শতাংশ। গৃহস্থালি কাজ থেকে শুরু করে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, কৃষি, শিল্প-সাহিত্য, কলকারখানা ও নির্মাণসহ প্রায় সব ক্ষেত্রেই নারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।
তিনি আরও বলেন, নারীর উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির সুফল পেতে হলে ঘরে ও বাইরে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। নারী নির্যাতন ও সহিংসতার বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, সামাজিক হয়রানির পাশাপাশি অনলাইনে নারীর চরিত্রহনন ও সাইবার বুলিং নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। এসব অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সরকার বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করছে।
এ সময় কন্যাশিশুর ক্ষেত্রে বাল্যবিবাহ এখনো একটি বড় সামাজিক চ্যালেঞ্জ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এবারের আয়োজনেও বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে কয়েকটি ক্যাটাগরিতে নারীদের ‘শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী’ সম্মাননা দেওয়া হয়। গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় অবদানের জন্য সম্মাননা পান খালেদা জিয়া। এছাড়া অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সাফল্যের জন্য নুরুন নাহার আক্তার, শিক্ষা ও চাকরি ক্ষেত্রে অবদানের জন্য মোছা. ববিতা খাতুন, সফল জননী হিসেবে নুরবানু কবীর, নির্যাতনের দুঃস্বপ্ন পেরিয়ে জীবনসংগ্রামে জয়ী নারী হিসেবে মোছা. শমলা বেগম এবং সমাজ উন্নয়নে অবদানের জন্য মোছা. আফরোজা ইয়াসমিন সম্মাননা লাভ করেন।