July 9, 2026, 9:51 am

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
জ্বালানি তেলের বাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং কৃত্রিম সংকটের আশঙ্কা দূর করতে সরকারের কঠোর অভিযান দেশজুড়ে নতুন মাত্রা পেয়েছে। অবৈধ মজুদ, পাচার ও অসাধু তৎপরতার বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবে গত ২৪ ঘণ্টায় (৩০ মার্চ) দেশের ৬৪টি জেলায় একযোগে পরিচালিত হয়েছে ৩৯১টি অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এসব অভিযানে আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে ১৯১টি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং অর্থদণ্ড হিসেবে আদায় করা হয়েছে ৯ লাখ ৩৫ হাজার ৭০ টাকা। একই সঙ্গে উদ্ধার করা হয়েছে মোট ৮৭ হাজার ৭০০ লিটার অবৈধ জ্বালানি তেল, যার মধ্যে রয়েছে ৬৭ হাজার ৪০০ লিটার ডিজেল, ৬ হাজার ৪৪৪ লিটার অকটেন এবং ১৩ হাজার ৮৫৬ লিটার পেট্রল।
অভিযান শুধু জরিমানাতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিও দেওয়া হয়েছে। সাতক্ষীরা জেলায় একজনকে ২ মাস, চাঁদপুর জেলায় একজনকে ১ বছর এবং গাজীপুর জেলায় একজনকে ১ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। এতে করে অসাধু ব্যবসায়ীদের জন্য একটি কঠোর বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে যে, আইন অমান্য করলে ছাড় দেওয়া হবে না।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে পেট্রল পাম্পে দীর্ঘ লাইন এবং জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা জনমনে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তবে সরকারের দাবি, বাস্তবে জ্বালানি তেলের কোনো বড় ঘাটতি নেই; বরং কিছু অসাধু চক্র কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বাজারকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। এই প্রেক্ষাপটে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সক্রিয় রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ঢাকাসহ বিভিন্ন মহানগরীতে ম্যাজিস্ট্রেটদের নেতৃত্বে চলমান এসব অভিযানের পাশাপাশি সাধারণ জনগণকেও সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অবৈধ মজুদ বা পাচারের তথ্য দিলে সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যাতে নাগরিকরাও এই অভিযানে অংশীদার হতে পারেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অবৈধ মজুদ ও পাচার অব্যাহত থাকলে বাজারে সরবরাহ কমে গিয়ে মূল্যবৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি হয় এবং সরকারের ভর্তুকি ব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই সময়োপযোগী ও কঠোর এই অভিযান জ্বালানি খাতে স্বচ্ছতা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সরকার আশাবাদ ব্যক্ত করেছে যে, আগামী এপ্রিল মাসেও চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি তেলের সরবরাহ বজায় রাখা সম্ভব হবে। তবে বাজারকে স্বাভাবিক রাখতে এবং অসাধু তৎপরতা দমন করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।