June 16, 2026, 4:57 pm

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
জুলাই অভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট একটি হত্যা মামলায় অর্থনীতিবিদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক আবুল বারকাতকে জামিন দিয়েছেন আদালত। এর ফলে তাঁর কারামুক্তির পথে আর কোনো আইনি বাধা নেই বলে জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবী।
মঙ্গলবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান জামিন আবেদন শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর শামসুদ্দোহা সুমন।
অধ্যাপক বারকাতের আইনজীবী মোহাম্মদ শাহীনুর ইসলাম বলেন, হত্যা মামলায় জামিন মঞ্জুর হওয়ায় তাঁর মুক্তিতে এখন আর কোনো আইনি জটিলতা নেই। তবে এর আগের দিন সোমবার একই মামলায় অন্য একটি আদালত তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছিলেন।
হত্যা মামলার প্রেক্ষাপট/
গত রোববার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অধ্যাপক বারকাতকে ব্যবসায়ী আবদুল ওয়াদুদ হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় ঢাকার নিউমার্কেট এলাকায় আবদুল ওয়াদুদ নিহত হন। ওই ঘটনার এক মাস পর, ২০২৪ সালের ২১ আগস্ট, নিহতের ভগ্নিপতি আব্দুর রহমান নিউমার্কেট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৩০ জনকে আসামি করা হয়।
দুর্নীতি মামলায় গ্রেপ্তার থেকে কারাবাস/
বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক আবুল বারকাত ২০২৫ সালের ১০ জুলাই থেকে কারাগারে রয়েছেন। অ্যাননটেক্স গ্রুপের মাধ্যমে প্রায় ২৯৭ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় তাঁকে রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরদিন ১১ জুলাই তাঁকে আদালতে হাজির করা হলে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। দীর্ঘ প্রায় ১০ মাস কারাবন্দি থাকার পর চলতি বছরের ১১ মে হাইকোর্ট তাঁকে ওই মামলায় জামিন দেন। পরে ২১ মে আপিল বিভাগও সেই জামিন বহাল রাখেন।
অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংক চেয়ারম্যান/
অধ্যাপক আবুল বারকাত দেশের অন্যতম পরিচিত অর্থনীতিবিদ। তিনি দীর্ঘদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে শিক্ষকতা করেছেন এবং বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।
এ ছাড়া ২০০৯ সালের ৯ সেপ্টেম্বর তিনি রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পান। টানা দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন শেষে ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে পদত্যাগ করেন। প্রায় পাঁচ বছর তিনি ব্যাংকটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
সাম্প্রতিক সময়ে দুর্নীতি ও হত্যা—দুটি পৃথক মামলায় তাঁর নাম আলোচনায় এলেও, আদালতের সর্বশেষ আদেশের ফলে তাঁর কারামুক্তির পথ উন্মুক্ত হয়েছে।