June 23, 2026, 1:55 pm

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
সুইজারল্যান্ডে টানা দীর্ঘ ১৮ ঘণ্টার উচ্চপর্যায়ের আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। আলোচনায় দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক ব্যাংকে আটকে থাকা ইরানের প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি ডলার রাষ্ট্রীয় সম্পদ অবমুক্ত করার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্তে পৌঁছায় দুই দেশ। একই সঙ্গে ইরানের তেল ও পেট্রোরাসায়নিক খাতে আরোপিত কিছু মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করার ঘোষণা দেওয়া হয়।
চুক্তির অংশ হিসেবে ইরান আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার (IAEA) পরিদর্শকদের পুনরায় দেশটির পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে কাজ করার অনুমতি দিতে সম্মত হয়েছে। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র সীমিত সময়ের জন্য ইরানকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য রপ্তানির বিশেষ সুযোগ দিয়েছে, যা আগামী ১ আগস্ট পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এই আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান ও কাতার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
একই প্রক্রিয়ায় কৌশলগত হরমুজ প্রণালী নিয়েও নতুন সমঝোতার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। ইরান ঘোষণা দিয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ তেহরানের হাতেই থাকবে। ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ জানান, হরমুজ প্রণালী আর আগের অবস্থায় ফিরে যাবে না এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এর ব্যবস্থাপনা ইরান পরিচালনা করবে। তবে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি নির্দিষ্ট যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
চুক্তির পর অর্থ ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে নতুন বিতর্ক দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, অবমুক্ত অর্থের একটি অংশ মার্কিন কৃষিপণ্য কেনায় ব্যয় করা উচিত। তবে ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, অর্থ ব্যবহারের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে তেহরানের নিজস্ব এবং তা জাতীয় স্বার্থ অনুযায়ীই নির্ধারণ করা হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সমঝোতা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অগ্রগতি হলেও পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান এখনও অনিশ্চিত রয়ে গেছে।