August 16, 2026, 9:42 am

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন পোর্টাল
সংবাদ শিরোনাম :
সংবাদ বিশ্লেষণ/ লোডশেডিংয়ে চালকল: উৎপাদন কমছে, বাড়ছে সরবরাহ ব্যবস্থার ঝুঁকি কুষ্টিয়ায় জামায়াত ও গণঅধিকার কর্মীদের সংঘর্ষ, এমপির বাড়িতে বাড়তি পুলিশ কুষ্টিয়ায় ১৫ আগস্টে খিচুড়ি রান্নার অভিযোগ, ইউপি চেয়ারম্যানসহ দুই ভাই গ্রেপ্তার দুই কোটি টাকার নকল সিগারেট জব্দ, বিএটির এজাহারে ৩ লাখ, জব্দ তালিকা নিয়ে বড় প্রশ্ন ভুয়া কাবিন-তালাকনামার অভিযোগে কুষ্টিয়ায় মামলা, তদন্তে পুলিশ দর্শনা সীমান্ত দিয়ে আসছে ভারতের ১৯ নতুন প্রজন্মের রেল কোচ শতাব্দীর প্রথম পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ, খুলে গেল সূর্যের রহস্যের জানালা, বাংলাদেশ কেন বঞ্চিত হলো কুষ্টিয়ায় জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন, তদন্ত কমিটি গঠন ইবির একাডেমিক ও প্রশাসনিক সেবা ডিজিটালাইজেশনে উপাচার্যের উদ্যোগ, গঠন ৭ সদস্যের কমিটি দীর্ঘদিন পর নতুন কমিটি/ কুষ্টিয়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টির সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার

সংবাদ বিশ্লেষণ/ লোডশেডিংয়ে চালকল: উৎপাদন কমছে, বাড়ছে সরবরাহ ব্যবস্থার ঝুঁকি

Oplus_16908288

ড. আমানুর আমান
লোডশেডিংয়ের কারণে চালকলের উৎপাদন কমে যাওয়ার ঘটনাটি আপাতদৃষ্টিতে একটি শিল্পখাতের সমস্যা মনে হলেও বাস্তবে এর প্রভাব অনেক বিস্তৃত। কারণ চাল বাংলাদেশের প্রধান খাদ্যপণ্য। ধান থেকে চাল হয়ে তা ভোক্তার হাতে পৌঁছানো পর্যন্ত যে দীর্ঘ সরবরাহ-শৃঙ্খল কাজ করে, তার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হলো রাইস মিল। সেই কেন্দ্রেই যদি দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়, তাহলে এর প্রভাব ধীরে ধীরে উৎপাদন, মজুদ, পরিবহন, পাইকারি বাজার এবং শেষ পর্যন্ত খুচরা বাজারে গিয়ে পড়তে পারে।
কুষ্টিয়ার খাজানগর, নওগাঁ ও ময়মনসিংহের চালকলগুলো থেকে পাওয়া তথ্য সেই ঝুঁকিরই একটি চিত্র তুলে ধরছে। তবে একই সঙ্গে এটিও স্পষ্ট যে, বর্তমান লোডশেডিং পরিস্থিতি থেকে সরাসরি চালের দাম বেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে পৌঁছানো এখনই যুক্তিসংগত নয়। বরং প্রকৃত উৎপাদন ঘাটতি কতটা, বাজারে চালের মজুদ কত, বিদ্যুৎ সংকট কতদিন স্থায়ী হবে এবং মিলাররা বাড়তি ব্যয়ের কতটা ভোক্তার ওপর চাপাতে চাইছেন—এসব বিষয়ই নির্ধারণ করবে পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে।
একটি মিলের উৎপাদন এক-তৃতীয়াংশে নেমে আসা কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
কুষ্টিয়ার বল্লভপুরে স্বর্ণা অটো রাইস মিলে স্বাভাবিক সময়ে দৈনিক প্রায় ৯০ টন চাল উৎপাদন হলেও লোডশেডিংয়ের কারণে উৎপাদন নেমে এসেছে প্রায় ৩০ টনে। অর্থাৎ একটি মিলের ক্ষেত্রে উৎপাদন কমেছে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ।
এটি শুধু উৎপাদন কমার পরিসংখ্যান নয়। একটি আধুনিক অটো রাইস মিলের উৎপাদন ব্যবস্থা ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত হয়। ধান শুকানো, সেদ্ধ করা, মাড়াই, ভাঙানো, পলিশিং এবং প্যাকেজিং—প্রতিটি ধাপ পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত। মাঝপথে বিদ্যুৎ চলে গেলে একটি ধাপ থেমে যাওয়ার সঙ্গে পরবর্তী ধাপগুলোও বাধাগ্রস্ত হয়।
ফলে এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকার অর্থ সবসময় এক ঘণ্টার উৎপাদন ক্ষতি নয়। বিদ্যুৎ ফিরে আসার পর যন্ত্রপাতি পুনরায় চালু করা, উৎপাদন লাইনের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা এবং আটকে থাকা কাঁচামাল সরানোর জন্য অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন হয়। ঘন ঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার ক্ষেত্রে এই ক্ষতি আরও বাড়তে পারে।
জেনারেটর কি বিকল্প সমাধান, নাকি নতুন ব্যয়ের উৎস?
বিদ্যুৎ না থাকলে স্বাভাবিক সমাধান হিসেবে জেনারেটর ব্যবহার করা যায়। কিন্তু চালকলের মতো বড় শিল্পে জেনারেটর দিয়ে দীর্ঘ সময় উৎপাদন চালানো ব্যয়বহুল।
এখানে তিন ধরনের অতিরিক্ত ব্যয় তৈরি হয়।
প্রথমত, ডিজেল বা অন্যান্য জ্বালানির ব্যয়। দ্বিতীয়ত, জেনারেটরের রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালন ব্যয়। তৃতীয়ত, বিদ্যুৎ না থাকলেও শ্রমিকদের মজুরি দিতে হয়। অর্থাৎ উৎপাদন কমলেও প্রতিষ্ঠানের বেশ কিছু স্থায়ী ব্যয় একই থাকে।
ফলে প্রতি কেজি চাল উৎপাদনে ব্যয় বাড়তে পারে।
কিন্তু এখানেই বাজার বিশ্লেষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন আসে—উৎপাদন ব্যয় বাড়লেই কি চালের খুচরা দাম একই অনুপাতে বাড়বে?
এর উত্তর সরল নয়। চালের দাম নির্ভর করে ধানের ক্রয়মূল্য, মিলিং চার্জ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যয়, পরিবহন, মজুদ ব্যয়, বাজারের চাহিদা-সরবরাহ এবং মিলার ও পাইকারদের মুনাফার ওপর। তাই বিদ্যুৎ সংকট একটি মূল্যবৃদ্ধির কারণ হতে পারে, কিন্তু একমাত্র কারণ নয়।
খাজানগরের সংকট কেন জাতীয় বাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ?
কুষ্টিয়ার খাজানগর দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চালের মোকাম। এখানকার চাল শুধু কুষ্টিয়ার বাজারে বিক্রি হয় না; দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও সরবরাহ করা হয়।
অর্থাৎ খাজানগরের উৎপাদন কমে গেলে স্থানীয় বাজারে তার প্রভাব সীমিত থাকার কথা নয়। দীর্ঘ সময় উৎপাদন ব্যাহত হলে অন্য অঞ্চল থেকে চাল সংগ্রহের প্রয়োজন বাড়তে পারে। এতে পরিবহন ব্যয় বাড়তে পারে এবং বিকল্প উৎসের ওপর চাপ সৃষ্টি হতে পারে।
তবে এখানে সময়ের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কয়েক দিনের উৎপাদন ঘাটতি আর কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাসের উৎপাদন ঘাটতি এক জিনিস নয়।
স্বল্পমেয়াদে বাজারে থাকা মজুদ দিয়ে সরবরাহের ঘাটতি সামাল দেওয়া সম্ভব। কিন্তু উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার সময় যত বাড়বে, মজুদের ওপর চাপ তত বাড়বে। তখন পাইকারি বাজারে দামের পরিবর্তনের সম্ভাবনাও বাড়তে পারে।
নওগাঁর ক্ষেত্রে ঝুঁকিটি আরও গভীর/
নওগাঁ দেশের অন্যতম বড় চাল উৎপাদন ও সরবরাহ কেন্দ্র। সেখানে বছরে বিপুল পরিমাণ চাল উৎপাদিত হয় এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহের পাশাপাশি কিছু চাল বিদেশেও রফতানি হয়।
নওগাঁর মিলারদের বক্তব্যে যে বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পাওয়ার দাবি রাখে তা হলো—শুধু উৎপাদনের পরিমাণ নয়, চালের গুণগত মানও বিদ্যুৎ সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
ধান ড্রায়ারে নির্দিষ্ট সময় ও তাপমাত্রা অনুযায়ী প্রক্রিয়াজাত করা প্রয়োজন। বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার কারণে প্রক্রিয়াটি বাধাগ্রস্ত হলে কাঙ্ক্ষিত মান বজায় রাখা কঠিন হতে পারে।
এতে দুটি ধরনের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
একদিকে উৎপাদনের পরিমাণ কমে যায়, অন্যদিকে উৎপাদিত চালের একটি অংশের মান কমে গেলে বাজারমূল্যও কমতে পারে। রফতানিমুখী চালের ক্ষেত্রে ঝুঁকিটি আরও বেশি, কারণ আন্তর্জাতিক ক্রেতারা নির্দিষ্ট মানের পণ্য প্রত্যাশা করেন।
অর্থাৎ দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎ সংকটের সম্ভাব্য ক্ষতি শুধু ‘কত টন চাল কম উৎপাদন হলো’ দিয়ে পরিমাপ করা যাবে না; ‘কত টন চাল কাঙ্ক্ষিত মানে উৎপাদিত হলো না’—এটিও বিবেচনায় নিতে হবে।
কিন্তু চালের দাম বাড়ার আশঙ্কা কতটা বাস্তব?
এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বাজারের বর্তমান মজুদ।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা সময়ে সরকারি খাদ্যশস্য মজুদ ছিল প্রায় ২৪ লাখ টন, যার মধ্যে চাল ছিল প্রায় ২০ লাখ ৫৩ হাজার টন। এর বাইরে মিলার ও ব্যবসায়ীদের নিজস্ব মজুদও রয়েছে।
তাই বিদ্যুৎ সংকট দেখা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাজারে চালের সংকট তৈরি হয়ে যাওয়ার কথা নয়।
বরং বাজারে তাৎক্ষণিক সংকট না থাকলেও মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরি হতে পারে। ব্যবসায়ীরা ভবিষ্যৎ উৎপাদন কমার আশঙ্কায় আগাম মজুদ বাড়াতে পারেন। পাইকাররা যদি মনে করেন সামনে সরবরাহ কমবে, তারাও বেশি দামে চাল কিনতে চাইতে পারেন। এভাবে প্রকৃত ঘাটতি তৈরি হওয়ার আগেই বাজারে দাম বাড়ার প্রবণতা তৈরি হতে পারে।
এ কারণেই বাজার পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মিলারদের দাবির মধ্যেও রয়েছে তথ্যের অসামঞ্জস্য
খাজানগরের বিভিন্ন মিলার উৎপাদন কমার হার সম্পর্কে একেক ধরনের তথ্য দিয়েছেন। কেউ ৪০ শতাংশ কমার কথা বলছেন, আবার কেউ উৎপাদন স্বাভাবিক সময়ের ৬০-৬৫ শতাংশে নেমে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন।
এই পার্থক্য দেখাচ্ছে যে জাতীয় পর্যায়ে প্রকৃত উৎপাদন ঘাটতির নির্ভরযোগ্য হিসাব এখনো তৈরি হয়নি।
ফলে শুধু মিল মালিকদের বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে চালের দাম বৃদ্ধির যৌক্তিকতা নির্ধারণ করা ঠিক হবে না।
প্রয়োজন হবে অঞ্চলভিত্তিক উৎপাদনের তথ্য, মিলের বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ, দৈনিক উৎপাদন, ধান প্রবেশ ও চাল বের হওয়ার হিসাব এবং বাজারে চালের মজুদের তথ্য একত্রে বিশ্লেষণ করা।
অন্যথায় প্রকৃত সংকট এবং সংকটের অজুহাত—দুটিকে আলাদা করা কঠিন হবে।
পরিবহন খাতেও তৈরি হচ্ছে পরোক্ষ চাপ
লোডশেডিংয়ের প্রভাব শুধু মিলের ভেতরে সীমাবদ্ধ নেই। মিলের কার্যক্রম ধীর হয়ে গেলে ধানবাহী ট্রাককে বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়। এতে একই ট্রাক দিনে যতগুলো ট্রিপ দিতে পারত, তার সংখ্যা কমে যায়।
ফলে পরিবহন খরচ পরোক্ষভাবে বাড়তে পারে।
অর্থাৎ বিদ্যুৎ সংকটের একটি চেইন এভাবে কাজ করতে পারে—
লোডশেডিং → মিল বন্ধ/ধীর → উৎপাদন কমে যাওয়া → শ্রম ও জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি → পরিবহন সময় বৃদ্ধি → সরবরাহ ব্যয় বৃদ্ধি → পাইকারি বাজারে চাপ → দীর্ঘস্থায়ী হলে খুচরা বাজারে প্রভাব।
এই পুরো প্রক্রিয়াটি বিবেচনা না করলে সমস্যাটিকে শুধু ‘চালকলের বিদ্যুৎ সমস্যা’ হিসেবে দেখা হবে, যা বাস্তব পরিস্থিতির পূর্ণ চিত্র নয়।
বিদ্যুৎ সংকটের পরিসংখ্যানও উদ্বেগের কারণ/////

প্রতিবেদনে দেওয়া পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন দিনে পিক সময়ে দেশের বিদ্যুৎ চাহিদার তুলনায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ লোডশেডিং হয়েছে। এক দিনে জাতীয় পর্যায়ে লোডশেডিং ২ হাজার ৫৩৮ মেগাওয়াট পর্যন্ত উঠেছিল। পরবর্তী দিনে তা কমে ৯৩৫ মেগাওয়াটে নেমে আসে।
এখানে একটি ইতিবাচক দিকও আছে—লোডশেডিংয়ের পরিমাণ প্রতিদিন একই রকম নয়। অর্থাৎ বিদ্যুৎ পরিস্থিতি কিছুটা উন্নত হলে চালকলগুলোর উৎপাদনও দ্রুত স্বাভাবিক হতে পারে।
তবে শিল্পখাতের জন্য শুধু মোট বিদ্যুৎ সরবরাহ নয়, সরবরাহের ধারাবাহিকতাও গুরুত্বপূর্ণ।
একটি অটো রাইস মিলের জন্য কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়ার চেয়ে নিরবচ্ছিন্নভাবে নির্দিষ্ট সময় বিদ্যুৎ পাওয়া অনেক বেশি কার্যকর হতে পারে। কারণ উৎপাদন লাইনের বারবার বন্ধ ও চালু হওয়ার ফলে সময় ও যন্ত্রপাতি—দুই ক্ষেত্রেই ক্ষতি হয়।
সবচেয়ে বড় ঝুঁকি////

সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর আস্থার সংকট
বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হয়তো এখনই চালের ঘাটতি নয়। বরং বাজারে ভবিষ্যৎ সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়া।
যদি মিলার, পাইকার ও খুচরা ব্যবসায়ীরা মনে করেন বিদ্যুৎ সংকট দীর্ঘ হবে, তাহলে প্রত্যেকে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য বাড়তি মজুদ গড়ে তুলতে পারেন। এতে বাজারে সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও দৃশ্যমান সরবরাহ কমে যেতে পারে।
এ ধরনের পরিস্থিতিতে বাজারে একটি ‘স্ব-পরিপূরক সংকট’ তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে—অর্থাৎ সংকটের আশঙ্কাই শেষ পর্যন্ত সংকটকে তীব্র করে তোলে।
সরকারের সামনে এখন তিনটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ
প্রথমত, চালকলগুলোকে বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য-সরবরাহ অবকাঠামো হিসেবে বিবেচনা করে একটি বাস্তবসম্মত বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিকল্পনা করা প্রয়োজন।
দ্বিতীয়ত, মিলভিত্তিক উৎপাদন কমার প্রকৃত তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। শুধু অভিযোগ বা বক্তব্য নয়, বাস্তব উৎপাদন ও বিদ্যুৎ ব্যবহারের তথ্যের ভিত্তিতে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা দরকার।
তৃতীয়ত, বাজারে চালের মজুদ ও মূল্য পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে। কোথাও অস্বাভাবিক মজুদ, কৃত্রিম সংকট বা অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির চেষ্টা হচ্ছে কিনা, তা নজরদারিতে রাখতে হবে।
কারণ বিদ্যুৎ সংকট বাস্তব—কিন্তু বাস্তব সংকটকে কেন্দ্র করে কৃত্রিম বাজার সংকট তৈরি করা যেন না হয়, সেটিও সরকারের দায়িত্ব।
এখনই আতঙ্কের কারণ নেই, কিন্তু সতর্ক হওয়ার সময় এসেছে
বর্তমান তথ্য বিশ্লেষণ করলে বলা যায়, লোডশেডিংয়ের কারণে চাল উৎপাদনে বাস্তব ক্ষতি হচ্ছে—এটি অস্বীকার করার সুযোগ নেই। কুষ্টিয়া, নওগাঁ ও ময়মনসিংহের মিলারদের অভিজ্ঞতা তার প্রমাণ দিচ্ছে।
তবে একই সঙ্গে এটিও সত্য যে, এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য দিয়ে দেশে সামগ্রিক চালের ঘাটতি বা অবশ্যম্ভাবী মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। সরকারি মজুদ এবং বেসরকারি পর্যায়ের মজুদ পরিস্থিতি আপাতত একটি বাফার হিসেবে কাজ করতে পারে।
কিন্তু সংকট দীর্ঘ হলে চিত্র বদলে যেতে পারে।
আজকের লোডশেডিং যদি কয়েক দিনের ঘটনা হয়, তা হলে এটি উৎপাদন ব্যয়ের সমস্যা। কিন্তু একই পরিস্থিতি যদি দীর্ঘ সময় চলে, তখন সেটি খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থার সমস্যা হয়ে উঠতে পারে।
আর সেই জায়গাটিই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাওয়ার দাবি রাখে।
চালের বাজারে বড় সংকট সাধারণত একদিনে তৈরি হয় না। উৎপাদন কমে, মজুদ কমে, পরিবহন ব্যয় বাড়ে, বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয় এবং একপর্যায়ে দাম বাড়ে। তাই সংকট দৃশ্যমান হওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার চেয়ে সংকট তৈরি হওয়ার আগেই উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থাকে স্থিতিশীল রাখা বেশি কার্যকর।
বর্তমান লোডশেডিং পরিস্থিতি তাই কেবল বিদ্যুৎ বিভাগের সমস্যা নয়। এটি একই সঙ্গে খাদ্য নিরাপত্তা, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, শিল্প উৎপাদন, পরিবহন এবং ভোক্তা বাজারের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি আন্তঃসংযুক্ত অর্থনৈতিক সংকেত।
এখন প্রশ্ন হলো—বিদ্যুৎ সংকট কতদিন স্থায়ী হয় এবং সেই সময়ের মধ্যে সরকার ও বাজারের সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো কতটা কার্যকরভাবে সরবরাহ ব্যবস্থাকে সচল রাখতে পারে।
কারণ চালের বাজারে বড় ধরনের সংকট তৈরি হওয়ার আগেই তার প্রথম সতর্ক সংকেত দেখা যাচ্ছে চালকলের উৎপাদন লাইনে।
ড. আমানুর আমান, সম্পাদক প্রকাশক দৈনিক কুষ্টিয়া ও দি কুষ্টিয়া টাইমস।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.

পুরোনো খবর এখানে,তারিখ অনুযায়ী

MonTueWedThuFriSatSun
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31 
© All rights reserved © 2024 dainikkushtia.net
Maintenance By DainikKushtia.net