August 25, 2026, 5:25 pm

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন পোর্টাল
সংবাদ শিরোনাম :
ছয় মাসের অর্থনৈতিক পর্যালোচনা/বন্ধ হয়েছে ৯৫ কারখানা, কাজ হারিয়েছেন প্রায় ৬২ হাজার শ্রমিক সারের বরাদ্দ আছে, সংকট কোথায়? দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১০ জেলায় সার বরাদ্দ দিয়েছে সরকার, কিন্তু কৃষকের হাতে যাচ্ছে না কুষ্টিয়ায় ফিরল দেবাশীষ ও স্ত্রী-সন্তানের নিথর দেহ, রাতেই স্ব স্ব ধর্মীয় রীতিতে শেষ বিদায় সরকারি বিজ্ঞাপনে শৃঙ্খলা ফেরাতে ডিএফপির কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ জরুরি রবীন্দ্র মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ, প্রতিবাদ ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের নতুন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আন্দালিব রহমান পার্থ বিয়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে বরের মৃত্যু সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সব সরকারি কমিটি পুনর্গঠনের নির্দেশ

রপ্তানিতে ধসের সতর্ক সংকেত: সাত মাসে আয় কমেছে ৫৬ কোটি ডলার

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে দেশের রপ্তানি আয়ে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। এই সময়ে মোট রপ্তানি আয় কমেছে প্রায় ৫৫ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় নেতিবাচক প্রবৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, তৈরি পোশাক খাতের দুর্বলতা, বৈশ্বিক চাহিদা হ্রাস এবং অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চাপ মিলেই এ সংকোচনের প্রধান কারণ।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, জুলাই থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে প্রায় ২ হাজার ২৯৮ কোটি ডলার—যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় দেড় শতাংশ কম। বিশেষ করে নিট পোশাক রপ্তানিতে ২ দশমিক ৬১ শতাংশ পতন পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে। জানুয়ারি মাসেও এককভাবে রপ্তানি কমেছে প্রায় ১ দশমিক ৩৫ শতাংশ।
উদ্যোক্তাদের ভাষ্য, দেশে ব্যবসা–বাণিজ্যে এক ধরনের স্থবিরতা বিরাজ করছে। উচ্চ সুদহার, জ্বালানি সংকট, মূল্যস্ফীতি এবং বৈশ্বিক বাজারে ক্রেতাদের কার্যাদেশ কমে যাওয়ায় রপ্তানি খাত চাপের মুখে পড়েছে। উপরন্তু, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নীতির পরিবর্তন—বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপ—বিশ্ববাজারে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে।
বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম মনে করেন, আগামী জুনের আগে পরিস্থিতির বড় ধরনের উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা কম। তার মতে, নতুন সরকার গঠন ও নীতি পুনর্বিন্যাসের পরই রপ্তানি খাতে ইতিবাচক পরিবর্তনের আশা করা যায়। তিনি সতর্ক করে বলেন, কার্যাদেশ কমে যাওয়ায় ইতোমধ্যে অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে, বহু শ্রমিক কর্মহীন হয়েছেন এবং অনেক প্রতিষ্ঠান আংশিক সক্ষমতায় উৎপাদন চালাচ্ছে।
তৈরি পোশাকের পাশাপাশি দেশের দ্বিতীয় বৃহৎ রপ্তানি খাত কৃষি ও কৃষিজাত পণ্যেও আয় কমেছে। সাত মাসে এ খাত থেকে আয় হয়েছে প্রায় ৬০ কোটি ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় কম। তবে পাট ও পাটজাত পণ্য এবং হোম টেক্সটাইল খাতে যথাক্রমে ১২ ও ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে ভারতের সম্ভাব্য শুল্কমুক্ত প্রবেশ বাংলাদেশের জন্য নতুন প্রতিযোগিতার ঝুঁকি তৈরি করেছে। নিজস্ব কাঁচামাল সুবিধা ও উৎপাদন সক্ষমতার কারণে ভারত দ্রুত শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠতে পারে, ফলে বাংলাদেশের রপ্তানি আদেশ অন্যত্র সরে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল (ইডিএফ) সংকোচন, স্বল্পসুদের প্রি-শিপমেন্ট ঋণ সুবিধা বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং ব্যাংক সুদের উচ্চ হার—সব মিলিয়ে তৈরি পোশাক খাতে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। উদ্যোক্তাদের আশঙ্কা, সহায়ক নীতি দ্রুত না এলে শিল্প খাতে বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।
রপ্তানি আয়ের এই ধারাবাহিক পতন অর্থনীতির জন্য স্পষ্ট সতর্ক সংকেত—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, নীতি সহায়তা, বাজার বৈচিত্র্য ও উৎপাদন ব্যয় কমানো ছাড়া পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের পথ সহজ হবে না।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.

পুরোনো খবর এখানে,তারিখ অনুযায়ী

© All rights reserved © 2024 dainikkushtia.net
Maintenance By DainikKushtia.net