June 10, 2026, 4:05 am

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন পোর্টাল
সংবাদ শিরোনাম :
ইউনূস সরকারের সময়কার অধ্যায় পেরিয়ে নতুন সম্পর্কের দিকে ঢাকা-দিল্লি : তথ্য উপদেষ্টা নিয়ন্ত্রণহীন রেস্তোরাঁ বাজার/ দাম বাড়ছে একই, কিন্তু প্রতিদিন ছোট হচ্ছে গ্রাহকের প্লেট কুষ্টিয়ায় চিরকুট লিখে প্রবাসীর স্ত্রীর আত্মহত্যা/এনজিও ঋণ ও প্রবাসজীবনের চাপের নীরব ট্র্যাজেডি সংবাদ বিশ্লেষণ/১১ জেলায় বিজিবির সঙ্গে আনসার বাহিনী দিয়ে সীমান্তে নতুন নিরাপত্তা বলয়, বাড়ছে কৌশলগত গুরুত্ব পোড়াদহ জংশন থেকে অপহৃত ৩ শিশু ঢাকায় উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২ এবারও আদালত গ্রহণ করলো না ইউনূস-নূরজাহানসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা অধ্যাপক আবুল বারকাতের শর্ত সাপেক্ষ জামিন বাজারের আগুন, মধ্যবিত্তের দীর্ঘশ্বাস/ সরকার কি পরিস্থিতির গভীরতা বুঝতে পারছে? তিন বগি লাইনচ্যুত, খুলনার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের রেলযোগাযোগ বন্ধ রামিসা হত্যা মামলায় সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারের মৃত্যুদণ্ড

The New York Times ও The Wall Street Journal/১৩ মার্কিন ঘাঁটি ধ্বংসের দাবি ইরানের, দ্রুত সমাধান চান ট্রাম্প

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
পশ্চিম এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যে মার্কিন প্রভাবশালী দুই সংবাদমাধ্যম The New York Times ও The Wall Street Journal-এর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ভিন্নমাত্রার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও বিশ্লেষণ। একদিকে ইরানের হামলায় মার্কিন সামরিক স্থাপনার বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির দাবি, অন্যদিকে দ্রুত সংঘাত নিরসনে আগ্রহী মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরানের হামলায় পশ্চিম এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ১৩টি সামরিক ঘাঁটি ধ্বংস হয়েছে। এতে বলা হয়, কুয়েতে অবস্থিত পোর্ট শুয়াইবা, আলি আল সালেম বিমান ঘাঁটি এবং বুয়েরিং সামরিক ঘাঁটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, এসব হামলার পর অনেক মার্কিন সেনা ঘাঁটি ছেড়ে অস্থায়ী শিবিরে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।
এছাড়া কাতারের আল উদেইদ বিমান ঘাঁটির শক্তিশালী রাডার ব্যবস্থা ধ্বংসের দাবিও করা হয়েছে, যা মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের আঞ্চলিক সদর দপ্তর হিসেবে পরিচিত। বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের ফিফ্থ ফ্লিটের সদর দপ্তর এবং সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটিতেও হামলার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন এসব দাবিকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইরাক ও আফগানিস্তানে যুদ্ধের সময় উপসাগরীয় অঞ্চলে গড়ে তোলা মার্কিন ঘাঁটিগুলো ইরানের আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে দুর্বলতা প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে ইরান আগে থেকেই উপসাগরীয় দেশগুলোকে সতর্ক করেছিল যে, তারা যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরাইলকে সহযোগিতা করলে তাদেরও হামলার মুখে পড়তে হবে।
এদিকে, পরিস্থিতি উত্তপ্ত থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র তাদের সামরিক উপস্থিতি আরও জোরদার করছে। Al Jazeera-এর এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরুর প্রায় চার সপ্তাহে পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন সামরিক উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে ইরানের ৯ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। বর্তমানে অঞ্চলে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনসহ একাধিক বিমানবাহী রণতরী ও স্ট্রাইক গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে।
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে প্রায় ৭ হাজার সেনা মোতায়েন করেছে, যার মধ্যে ত্রিপোলি ও বক্সার অ্যাম্ফিবিয়াস রেডি গ্রুপ এবং ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের দ্রুত প্রতিক্রিয়াশীল বাহিনী উল্লেখযোগ্য।
অন্যদিকে, ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ এড়িয়ে দ্রুত সংঘাতের সমাধান চান। সাম্প্রতিক ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় তিনি তার সহযোগীদের জানিয়েছেন, চলমান সংঘাত ‘শেষ পর্যায়ে’ রয়েছে এবং চার থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ট্রাম্প প্রশাসন এই সময়সীমা অনুযায়ী কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে। কারণ, এই সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু—বিশেষ করে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক চাপ—থেকে মনোযোগ সরিয়ে দিচ্ছে। পাশাপাশি, মে মাসের মাঝামাঝি সম্ভাব্য চীন সফরের আগে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার কৌশলও থাকতে পারে।
তবে উল্লেখিত সামরিক হামলা, ক্ষয়ক্ষতি এবং সংঘাতের প্রকৃতি সম্পর্কে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য নির্ভরযোগ্য আন্তর্জাতিক সূত্রে নিশ্চিত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। ফলে পুরো পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.

পুরোনো খবর এখানে,তারিখ অনুযায়ী

© All rights reserved © 2024 dainikkushtia.net
Maintenance By DainikKushtia.net