August 1, 2026, 7:25 pm

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন পোর্টাল
সংবাদ শিরোনাম :
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ওরিয়েন্টেশন/ খাদ্যে হতাশার স্বাদ যাত্রার মঞ্চে নেমে এলো নীরবতা, বিদায় কিংবদন্তি খলনায়ক তকরিম উদ্দিন খান ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ওরিয়েন্টেশন/কর্মক্ষম মানবসম্পদ গড়ে বিশ্বে নেতৃত্ব দেওয়ার প্রত্যাশা শিক্ষামন্ত্রীর সড়ক নির্মাণে ধীরগতি/ ঝিনাইদহ-মাগুরা মহাসড়কে থাকে সারাদিনই দীর্ঘ যানজট বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক/ বন্ধুত্বের ভিত্তি হোক আস্থা, সমতা ও সংলাপ সিআইডির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিলেন ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোছাইন কুষ্টিয়ায় ইউএনওকে এমপির ফুলেল শুভেচ্ছা নিয়ে বিতর্ক, নিরপেক্ষ বিশ্লেষণ কি বলে ! বাংলাদেশে পণ্যের দাম/‘রকেটস অ্যান্ড ফেদারস’ অর্থনীতির অদৃশ্য ফাঁদ ছয় বছরে মাত্র ২ শতাংশ অগ্রগতি, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন নিয়েও অনিশ্চয়তায় ঝিনাইদহ-যশোর ছয় লেন প্রকল্প আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রো-ভিসি ও ট্রেজারার

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ওরিয়েন্টেশন/ খাদ্যে হতাশার স্বাদ

Oplus_16908288

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন /
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীনবরণ ও ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল নতুন শিক্ষার্থীদের জন্য আনন্দময় ও স্মরণীয় এক সূচনা। কিন্তু সেই আয়োজনের মধ্যাহ্নভোজ গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। নবীন শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, পরিবেশিত খাবারের মান এতটাই নিম্ন ছিল যে অধিকাংশই তা খেতে পারেননি।
শনিবার (১ আগস্ট) দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে প্রায় সাড়ে তিন হাজার শিক্ষার্থীর জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ আয়োজন বাস্তবায়নে ১৪টি কমিটি গঠন করে, যার মধ্যে ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ওবায়দুল ইসলাম আহ্বায়ক হিসেবে আপ্যায়ন উপ-কমিটির দায়িত্বে ছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রাথমিকভাবে খাবারের জন্য ১২ লাখ ৫ হাজার টাকার বাজেট নির্ধারণ করা হলেও পরে উপাচার্যের সিদ্ধান্তে ভ্যাটসহ প্রতি প্যাকেটের মূল্য ২৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। সেই হিসেবে কুষ্টিয়ার ‘ধোঁয়া রেস্টুরেন্ট’ থেকে ৩ হাজার ৫০০ প্যাকেট খাবার সংগ্রহ করা হয়। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, রেস্টুরেন্টটির পরিচালনায় রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের লালন শাহ হলের প্রভোস্ট ও সহকারী অধ্যাপক ড. আব্দুর রাজ্জাক। ফলে সরবরাহকারী নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাত (Conflict of Interest) নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
নবীন শিক্ষার্থীদের অভিযোগ আরও উদ্বেগজনক। চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থীরা জানান, খাবারের মান এতটাই নিম্ন ছিল যে বিভাগের প্রায় কেউই তা খেতে পারেননি। তাদের দাবি, পরিবেশিত খাবারের প্রকৃত বাজারমূল্য ঘোষিত মূল্যের তুলনায় অনেক কম।
বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, চাল ছিল নিম্নমানের এবং ডাল ছিল নষ্ট বা টক হয়ে যাওয়া। ক্ষুধার কারণে অনেকে সামান্য খাওয়ার চেষ্টা করলেও অধিকাংশই পুরো খাবার ফেলে দিতে বাধ্য হন।
একই অভিযোগ করেছেন ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থীরাও। তাদের মতে, চাল ঠিকভাবে রান্না হয়নি, ডাল ছিল টক এবং সামগ্রিক খাবারের মান ছিল হতাশাজনক।
আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থীরাও জানান, রোস্ট ছাড়া বাকি প্রায় সব খাবারই অখাদ্য ছিল। এমনকি ডিমটিও টক ডালের সংস্পর্শে এসে নষ্ট হয়ে যায় বলে তারা অভিযোগ করেন।
ঘটনাটি শুধু নিম্নমানের খাবার পরিবেশনের অভিযোগেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ ব্যয়, মান নিয়ন্ত্রণ এবং জবাবদিহিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। প্রতি প্যাকেট খাবারের জন্য ২৫০ টাকা ব্যয় হওয়ার পরও যদি অধিকাংশ শিক্ষার্থী সেই খাবার গ্রহণ করতে না পারেন, তাহলে বাজেট নির্ধারণ, সরবরাহকারী নির্বাচন এবং মান যাচাইয়ের দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা কতটা কার্যকর ছিল—সে প্রশ্ন এখন ক্যাম্পাসজুড়ে আলোচনার বিষয়।
একটি সূত্র বলছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অর্থ সরবরাহে কোন কমতি ছিল না। বিশেষত উপাচার্যের আন্তরিকতা ছিল মুগ্ধ হবার মতো। কিন্তু যারা দায়িত্বে ছিলেন তাদের গাফিলতির কারণে এই বিপর্যয় তৈরি হয়।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আপ্যায়ন উপ-কমিটির বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বক্তব্য সংযুক্ত করা গেলে পূর্ণাঙ্গ চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.

পুরোনো খবর এখানে,তারিখ অনুযায়ী

MonTueWedThuFriSatSun
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31 
© All rights reserved © 2024 dainikkushtia.net
Maintenance By DainikKushtia.net