September 7, 2026, 3:59 pm

বিশেষ সংবাদদাতা, খোকসা থেকে ফিরে /
কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার ওসমানপুর ইউনিয়ন দীর্ঘদিন ধরে নানা সমস্যা ও উন্নয়নবঞ্চনার মধ্যে রয়েছে। উপজেলা শহর থেকে গড়াই নদীর কারণে অনেকটা বিচ্ছিন্ন এই জনপদের মানুষের জীবনযাত্রায় এর প্রভাব পড়ছে বছরের পর বছর। যোগাযোগব্যবস্থা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, নদীভাঙন, অবকাঠামো ও নাগরিক সুবিধাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে বাড়ছে হতাশা। আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে তাই ইউনিয়নবাসীর একটি বড় অংশ এবার নতুন নেতৃত্ব ও নতুন উন্নয়ন ভাবনার কথা ভাবছেন।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ওসমানপুর ইউনিয়নের ভৌগোলিক অবস্থানই এখানকার অন্যতম বড় সমস্যা। গড়াই নদী ইউনিয়নটিকে উপজেলা সদর থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে। ফলে জরুরি প্রয়োজনে উপজেলা শহরে যাতায়াত, প্রশাসনিক ও চিকিৎসাসেবা গ্রহণ, শিক্ষার্থীদের চলাচল এবং কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ—সব ক্ষেত্রেই স্থানীয়দের নানা ভোগান্তির মুখোমুখি হতে হয়।
বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে নদী ও নৌপথনির্ভর যোগাযোগব্যবস্থা অনেক সময় আরও দুর্ভোগ সৃষ্টি করে। একটি স্থায়ী ও কার্যকর যোগাযোগব্যবস্থার অভাবে ইউনিয়নের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাও পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না বলে মনে করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
ইউনিয়নবাসীর অভিযোগ, অতীতে বিভিন্ন সময়ে যারা জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন, নির্বাচনের আগে তারা উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি দিলেও দায়িত্ব পাওয়ার পর সেসব প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নে প্রত্যাশিত উদ্যোগ দেখা যায়নি। ফলে একাধিকবার আশ্বাস পাওয়ার পরও মৌলিক সমস্যাগুলোর অনেকগুলো এখনো রয়ে গেছে। স্থানীয়দের ভাষায়, নেতৃত্ব এসেছে ও গেছে, কিন্তু ওসমানপুরের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসেনি।
তবে এবার পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। সামনে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইউনিয়নের সাধারণ ভোটারদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে—কেমন নেতৃত্ব তারা চান, কী ধরনের উন্নয়ন প্রয়োজন এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির কাছে তাদের প্রত্যাশা কী।
স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের মতে, শুধু রাস্তা নির্মাণ বা বিচ্ছিন্ন কিছু অবকাঠামোগত কাজকে উন্নয়ন হিসেবে দেখলে হবে না। ওসমানপুরের জন্য প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা। যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার প্রসার, কৃষি ও স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা, নদীভাঙন মোকাবিলা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ করে গড়ে তোলার মতো বিষয়গুলোকে উন্নয়ন পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে আনা প্রয়োজন।
তারা মনে করেন, ইউনিয়নের উন্নয়নের জন্য এমন একজন নেতৃত্ব দরকার, যিনি শুধু নির্বাচনের সময় জনগণের পাশে থাকবেন না; বরং নির্বাচনের পরও নিয়মিতভাবে মানুষের কথা শুনবেন এবং সমস্যা সমাধানে প্রশাসনের সঙ্গে কার্যকর সমন্বয় করবেন। একই সঙ্গে ইউনিয়নের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলোকে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে তুলে ধরে বাস্তবসম্মত প্রকল্প গ্রহণে ভূমিকা রাখতে হবে।
এদিকে তরুণ ভোটারদের মধ্যেও নেতৃত্ব পরিবর্তনের বিষয়ে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। তাদের মতে, বর্তমান সময়ে একজন জনপ্রতিনিধির শুধু রাজনৈতিক পরিচয় থাকলেই হবে না; প্রয়োজন দক্ষতা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং উন্নয়ন বিষয়ে সুস্পষ্ট ধারণা। তারা এমন নেতৃত্ব চান, যে নেতৃত্ব ওসমানপুরকে উপজেলা সদর ও আশপাশের এলাকার সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করার উদ্যোগ নেবে।
সাধারণ ভোটারদের অনেকেই বলছেন, এবার তারা শুধু প্রার্থী নয়, প্রার্থীর পরিকল্পনা ও সক্ষমতাকেও গুরুত্ব দিয়ে দেখতে চান। কে কী করেছেন এবং কে কী করতে পারবেন—নির্বাচনের আগে সেই হিসাবও করতে চান তারা।
সব মিলিয়ে দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও নানা সমস্যায় থাকা ওসমানপুর ইউনিয়নে আসন্ন নির্বাচন ঘিরে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। পুরোনো প্রতিশ্রুতির পরিবর্তে এবার বাস্তবভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা, জনসম্পৃক্ততা ও জবাবদিহিমূলক নেতৃত্ব চান ইউনিয়নবাসী। ফলে নির্বাচনের মাঠে নতুন কোনো নেতৃত্ব জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নির্বাচন শুধু নেতৃত্ব পরিবর্তনের উপলক্ষ না হয়ে ওসমানপুরের দীর্ঘদিনের উন্নয়নবঞ্চনা দূর করার একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।
এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপি’র নেতা ও ওসমানপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা আবু তৈয়ব সরকার বলেন, জনগণ দীর্ঘদিন ধরে অনেকটা একপেশে নেতৃত্ব দেখে আসছে। যেখানে কোন গুনাগুন নেই। একটি ইউনিয়নের জনগণের উন্নয়নে যে ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করার প্রয়োজন এখানে তা একেবারেই অনুপস্থিত।
তিনি জানান জনগণ এজন্য বিকল্প চিন্তা করছে বলে তার বিশ্বাস।
ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের এক নেতা জানান জনগণ সত্যি সত্যিই পরিবর্তন চায়।