October 26, 2026, 6:25 pm

শত বছরের ঐতিহ্যবাহী কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের মাঠে রাজনৈতিক সমাবেশ আয়োজনের উদ্যোগের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করেছেন বিদ্যালয়টির বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, ঐতিহ্যবাহী এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সব ধরনের দলীয় রাজনৈতিক কর্মসূচির বাইরে রেখে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ অক্ষুণ্ন রাখতে হবে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। ‘কুষ্টিয়া জিলা স্কুল সবার, ঐতিহ্য রক্ষার দায়িত্বও সবার’—এমন বার্তা সংবলিত ব্যানার নিয়ে এতে শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। পরে বিদ্যালয়কে রাজনৈতিক কর্মসূচির বাইরে রাখার দাবিতে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করা হয়।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা বলেন, রাজনৈতিক মতাদর্শ যার যার ব্যক্তিগত বিষয়। তবে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকক্ষ, খেলার মাঠ ও সামগ্রিক পরিবেশ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, খেলাধুলা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমের জন্য নিরাপদ ও নিরপেক্ষ থাকা প্রয়োজন। তাদের মতে, বিদ্যালয়ের মাঠে রাজনৈতিক সমাবেশ হলে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ও ভাবমূর্তি নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।
অবশ্যই। সংবাদে ব্যবহারের উপযোগী করে বক্তব্যগুলো স্বাভাবিক, শিক্ষাবান্ধব ও রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ রাখা হলো।
শিক্ষার্থীদের বক্তব্য
ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থী ইজাজ যারুল ইসলাম বলেন,
“আমরা স্কুলে পড়াশোনা করতে আসি। স্কুলের মাঠ আমাদের খেলাধুলা, শরীরচর্চা ও বিভিন্ন শিক্ষামূলক কার্যক্রমের জায়গা। এখানে কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি হলে আমাদের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হতে পারে। আমরা চাই, কুষ্টিয়া জিলা স্কুল সবসময় রাজনীতিমুক্ত ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশে থাকুক।”
দশম শ্রেণির ইহসান আল আসাদ বলেন,
“কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের অনেক বছরের ঐতিহ্য রয়েছে। এই স্কুলের সঙ্গে আমাদের আবেগ ও ভবিষ্যৎ জড়িয়ে আছে। আমরা কোনো রাজনৈতিক দলের বিরোধিতা করছি না। আমাদের একটাই দাবি—শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক কর্মসূচির বাইরে রাখা হোক, যাতে শিক্ষার্থীরা নিরাপদ ও সুন্দর পরিবেশে পড়াশোনা করতে পারে।”
প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের বক্তব্য/
সাব্বির আল কাদেরী বলেন,
“কুষ্টিয়া জিলা স্কুল শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, এটি কুষ্টিয়ার শিক্ষা ও সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্য। আমরা চাই, প্রজন্মের পর প্রজন্ম শিক্ষার্থীরা এই মাঠে খেলবে, শিখবে এবং নিজেদের গড়ে তুলবে। রাজনৈতিক কর্মসূচির জন্য বিদ্যালয়ের পরিবেশ যেন কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”
আরেক প্রাক্তন শিক্ষার্থী রাজিব আহসান রঞ্জু বলেন,
“আমরা যখন এই স্কুলে পড়েছি, তখনও বিদ্যালয়ের মাঠ ছিল শিক্ষার্থীদের প্রাণকেন্দ্র। বর্তমান শিক্ষার্থীদেরও সেই অধিকার রয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর নিজস্ব কর্মসূচির জন্য অনেক জায়গা থাকতে পারে; কিন্তু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশকে দলীয় রাজনীতির বাইরে রাখাই সবার জন্য মঙ্গলজনক। আমরা চাই, কুষ্টিয়া জিলা স্কুল তার ঐতিহ্য ও শিক্ষাবান্ধব চরিত্র অক্ষুণ্ন রাখুক।”
সম্প্রতি ৩১ অক্টোবর ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া রুটে ১১ দলীয় ঐক্যের ঘোষিত লংমার্চের সমাপনী সমাবেশ কুষ্টিয়া জিলা স্কুল মাঠে আয়োজনের কথা বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ৪০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে লংমার্চটি কুষ্টিয়া জিলা স্কুল মাঠে সমাপনী সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এ কর্মসূচিকে সামনে রেখে কুষ্টিয়ায় ১১ দলীয় ঐক্যের প্রস্তুতি সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ওই সভায় ৩১ অক্টোবরের লংমার্চ সফল করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয় বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়েছে।
জামাত ইসলামের কুষ্টিয়া জেলা শাখার আমির খন্দকার একে মহসিন বলেন এসব আবে শান্তিপূর্ণ। এ সমাবেশ কে কেন্দ্র করে শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত হবার কোন কারণ নেই।
তিনি বলেন বিষয়টি তারা ইতিমধ্যে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনকে অবহিত করেছেন।
বণিক বার্তা এ প্রতিবেদক জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন হাসানকে জানতে চাইলে তিনি বলেন উভয় পক্ষই তাদের অবস্থান তুলে ধরেছে। বিষয়টি নিয়ে শীঘ্রই সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
অন্যদিকে, বিদ্যালয় মাঠে রাজনৈতিক কর্মসূচি আয়োজনের খবরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থী, প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অনেকে। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের মাঠ দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা, শরীরচর্চা ও বিভিন্ন শিক্ষামূলক কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তাই দল-মত নির্বিশেষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠকে রাজনৈতিক কর্মসূচির বাইরে রাখার আহ্বান জানান তাঁরা।
কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আমিরুল ইসলামও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক কর্মসূচি না করাই উত্তম বলে মন্তব্য করেছেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, ৩১ অক্টোবরের সমাবেশের বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে তখন পর্যন্ত কোনো লিখিত আবেদন জমা পড়েনি।
শিক্ষার্থীদের এ মানববন্ধনে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে অবস্থানের চেয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ, মাঠের ব্যবহার এবং ঐতিহ্য সংরক্ষণের বিষয়টিই বেশি গুরুত্ব পায়। তাঁদের প্রত্যাশা, কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের মাঠ ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের শিক্ষা, খেলাধুলা ও সুস্থ সাংস্কৃতিক বিকাশের জন্যই ব্যবহৃত হবে।