January 17, 2026, 10:42 am

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
আদালতের কর্মঘণ্টায় ফেসবুকসহ কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের সুযোগ নেই—এ বিষয়ে অধস্তন আদালতের বিচারকদের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, কর্মঘণ্টার মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেলে সেদিনই সংশ্লিষ্ট বিচারকের বিচারিক জীবনের শেষ দিন হবে।
মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক অভিভাষণে দেশের সব জেলা ও দায়রা জজ, মহানগর দায়রা জজ, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটদের উদ্দেশে এই নির্দেশনা দেন প্রধান বিচারপতি।
অভিভাষণে তিনি আদালতের পরিবেশ শৃঙ্খলিত রাখা, দ্রুততম সময়ে মামলা নিষ্পত্তি ও রায় প্রদান, সততা বজায় রাখা এবং কোর্ট প্রাঙ্গণে বহিরাগত প্রবেশ রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
প্রধান বিচারপতি বলেন, দুর্নীতির প্রশ্নে বিচার বিভাগে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হবে। বিচার আসনে বসে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতির আশ্রয় নেওয়া চলবে না। সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের কোনো বিকল্প নেই। কোনো বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি বা অনিয়মের প্রমাণ মিললে তাকে কঠোর মূল্য দিতে হবে।
রায় প্রদানে বিলম্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শুনানি ও নিষ্পত্তির তিন থেকে সাত দিনের মধ্যেই রায় প্রকাশ করা উচিত। অযথা দেরি হলে পুনরায় নথি পর্যালোচনার প্রয়োজন পড়ে, এতে সময় নষ্ট হয় এবং ভোগান্তিতে পড়েন বিচারপ্রার্থীরা। তাই আদেশ বা রায় প্রদানে কোনো ধরনের গাফিলতি কাম্য নয়। আদালতের কর্মঘণ্টার সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
এ ছাড়া অধস্তন আদালত ও কোর্ট প্রাঙ্গণের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং শৃঙ্খলা রক্ষার ওপর জোর দেন তিনি। আইনজীবী ও মামলার পক্ষ ছাড়া কেউ যেন এজলাস কক্ষে প্রবেশ না করে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেন প্রধান বিচারপতি। কোর্ট প্রাঙ্গণকে বহিরাগতমুক্ত রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বাদাম, চা, ডাব বিক্রেতা কিংবা হকারদের আদালত এলাকায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়া যাবে না। একই সঙ্গে আইনজীবীদের ড্রেসকোড মেনে চলা নিশ্চিত করার বিষয়েও বিচারকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
উল্লেখ্য, গত ২৩ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৯৫(১) অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীকে দেশের ২৬তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেন। ২৮ ডিসেম্বর বঙ্গভবনে তিনি শপথ গ্রহণ করেন। শপথের পরপরই অধস্তন আদালতের বিচারকদের উদ্দেশে এই অভিভাষণের আয়োজন করা হয়।
প্রসঙ্গত, অধস্তন আদালতের অফিস সময় সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত। এর মধ্যে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত আদালতের কার্যক্রম চলে, মাঝে দুপুরের খাবার ও নামাজের বিরতি থাকে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিচারকরা।