January 13, 2026, 2:07 pm

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
বাংলাদেশে চলতি শীত মৌসুমের সবচেয়ে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বইছে উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলাগুলোতে। কুষ্টিয়াসহ মোট ১০ জেলার ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের এই শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে, যা জনজীবনে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, এই পরিস্থিতি আগামী কয়েকদিনও একই রকম থাকতে পারে।
প্রভাবিত জেলাসমূহ
শৈত্যপ্রবাহের কবলে রয়েছে নিম্নলিখিত ১০ জেলা: রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, দিনাজপুর, নীলফামারী, পঞ্চগড়, রাঙ্গামাটি, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া
এসব এলাকায় তাপমাত্রা ৬-১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে, যা মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহের মানদণ্ডে পড়ে।
আবহাওয়ার কারণ ও পূর্বাভাস/
দক্ষিণপূর্ব বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ এবং উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের প্রভাবে এই শীতের তীব্রতা বেড়েছে। আবহাওয়াবিদ ড. মো. বজলুর রশিদ জানিয়েছেন, বায়ুদূষণের কারণে বাতাসে ভাসমান কণা বেড়ে যাওয়ায় কুয়াশা কাটছে না। ফলে সূর্যের আলো কম পাওয়া যাচ্ছে, যা শীতের অনুভূতিকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
আগামী ২৪ ঘণ্টায়:
আবহাওয়া আংশিক মেঘলা ও শুষ্ক থাকতে পারে।
মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়বে, যা কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। রাত ও দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়লেও কুয়াশার কারণে শীতের অনুভূতি কমবে না। ঘন কুয়াশায় বিমান, নৌ ও সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হতে পারে।
চলতি জানুয়ারি মাসে মোট ৪-৫টি শৈত্যপ্রবাহের পূর্বাভাস রয়েছে, যার মধ্যে এক-দুটি তীব্র হতে পারে (তাপমাত্রা ৪-৬ ডিগ্রি পর্যন্ত নামতে পারে)।
জনজীবনে প্রভাব/
তীব্র শীতে সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া দিনমজুর, রিকশাচালক ও নিম্নআয়ের মানুষ। অনেকে কাজে বের হতে পারছেন না। হাসপাতালগুলোতে ঠান্ডাজনিত রোগী—বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের সংখ্যা বেড়েছে। নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও শ্বাসকষ্টের রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
শীতের এই দাপট থেকে বাঁচতে সকলে উষ্ণ কাপড় ব্যবহার করুন, বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের যতœ নিন। সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ চলছে, তবে চাহিদার তুলনায় তা অপ্রতুল। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরামর্শ: ঘন কুয়াশায় যানবাহন চালানোয় সতর্কতা অবলম্বন করুন।