February 13, 2026, 3:13 pm

সাইদ হাসান, মেহেরপুর/
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফলে মেহেরপুর জেলার দুটি সংসদীয় আসনেই দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীরা জয়লাভ করেছেন। জেলার ৭৩ ও ৭৪ নম্বর আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সমর্থিত প্রার্থীদের মধ্যে।
মেহেরপুর–১ আসন (সদর ও মুজিবনগর)
৭৩ মেহেরপুর–১ আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী তাজউদ্দীন খান ১,২১,১৬১ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত সাবেক সংসদ সদস্য মাসুদ অরুণ ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১,০৪,৭৬৯ ভোট।
এ আসনে মোট চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। জাতীয় পার্টির আব্দুল হামিদ লাঙ্গল প্রতীকে পান ১,৩৯০ ভোট এবং বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান কাস্তে প্রতীকে পান ৭৮১ ভোট। বাতিল ভোটের সংখ্যা ছিল ৪,৭৪২।
মেহেরপুর সদর ও মুজিবনগর মিলিয়ে মোট ভোটকেন্দ্র ছিল ১২৩টি (সদর ৯০, মুজিবনগর ৩৩)। এ আসনে মোট ভোটার ৩,১৩,৪৫৫ জন, ভোট পড়েছে ৭২.৭৬ শতাংশ। পাশাপাশি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ১,৫০,৬৮৫, ‘না’ ভোট ৪৫,৯৯১ এবং বাতিল ৩৮,১৪২।
মেহেরপুর–২ আসন (গাংনী)
৭৪ মেহেরপুর–২ (গাংনী) আসনে জামায়াতের প্রার্থী নাজমুল হুদা দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৯৪,৬৫৮ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত সাবেক সংসদ সদস্য আমজাদ হোসেন ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৮৫,৪৫২ ভোট। জাতীয় পার্টির প্রার্থী আব্দুল বাকী পেয়েছেন ১,৭৯১ ভোট। বাতিল ভোট ৪,৯৬৩।
এ আসনে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ১,২৪,৫০৭, ‘না’ ভোট প্রায় ৩১ হাজার, আর বাতিল হয়েছে ৩০,৪৮৫ ভোট। এখানেও মূল লড়াই সীমাবদ্ধ ছিল জামায়াত ও বিএনপি প্রার্থীর মধ্যে।
ভোটার উপস্থিতি ও প্রশাসনের মূল্যায়ন
সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন জানান, সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ভোটগ্রহণে প্রায় ৬৯.৮৪ শতাংশ ভোট পড়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টার দিকে ফলাফল সংগ্রহ ও পরিবেশন কেন্দ্র থেকে তিনি এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ভোটার উপস্থিতি কম হতে পারে কিংবা সহিংসতার আশঙ্কা ছিল—এমন ধারণা বাস্তবে সত্য হয়নি। সামান্য কিছু অভিযোগ ছাড়া ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিয়েছেন এবং প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
মেহেরপুর–২ আসনে মোট ভোটার ২,৬৭,৫৬৩ জন, ভোটকেন্দ্র ৯০টি। মোট প্রাপ্ত ভোট ১,৮৬,৮৬৪, বাতিল ভোট ৪,৯৬৩।