May 16, 2026, 1:43 pm

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন পোর্টাল
সংবাদ শিরোনাম :
জুনের আগে নিয়ন্ত্রণে আসছে না হাম, উদ্বেগে স্বাস্থ্যখাত জ্যৈষ্ঠের প্রথম দিনে/রাজশাহীতে আম অর্থনীতির চাকা ঘুরতে শুরু একদিনে ১০ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন ভাইস চ্যান্সেলর, ইবিতে প্রফেসর মতিনুর রহমান গাংনীতে ভূমি অফিস ও সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে চুরির অপচেষ্টা, ভাঙচুর ও তছনছ খোকসায় খাল খনন প্রকল্পের এক্সকেভেটরে অগ্নিসংযোগ, দুটি মেশিন পুড়ে গেছে মানচিত্র প্রকাশ করে ট্রাম্প বললেন ভেনেজুয়েলা, ‘যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম রাজ্য’ ! একনেকে অনুমোদন পেল ৩৫ হাজার কোটি টাকার পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত: বাড়ছে জামানত, বাদ যাচ্ছে দলীয় প্রতীক নীরব শিশু মৃত্যুর মিছিলে সামিল সবাই? দায় খোঁজার দায়হীন এক সমাজ ঈদ উপলক্ষে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে দোকান-বিপণিবিতান

কঠিন চাপে পেট্রল পাম্প—বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা, বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ সংকট

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
দেশজুড়ে জ্বালানি তেলের ঘাটতি ও নিরাপত্তাহীনতাকে কেন্দ্র করে পেট্রল পাম্পগুলোর কার্যক্রম নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। পাম্প মালিকদের সংগঠন বলছে, পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি না হলে যেকোনো সময় সারা দেশের পেট্রল পাম্প বন্ধ হয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে বিভিন্ন জেলায় ইতোমধ্যে তেল সংকটের বাস্তব চিত্রও সামনে আসছে।
বাংলাদেশ পেট্রল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন রবিবার (২২ মার্চ) রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বর্তমানে ডিপো থেকে যে পরিমাণ জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে, তা দিয়ে ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণ সম্ভব হচ্ছে না। ফলে পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন, ভিড় ও বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন সাধারণ গ্রাহক ভোগান্তিতে পড়ছেন, অন্যদিকে পাম্পের কর্মীরাও অতিরিক্ত চাপের মধ্যে কাজ করছেন।
সংগঠনটির দাবি, স্বাভাবিক সময়ে কয়েকদিন চলার মতো জ্বালানি মজুত থাকলেও ঈদকে কেন্দ্র করে হঠাৎ বাড়তি চাহিদা ও অনিয়ন্ত্রিত বিক্রির কারণে অল্প সময়েই তা শেষ হয়ে যাচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে একই ব্যক্তি দিনে একাধিকবার তেল সংগ্রহ করছেন এবং তা বেশি দামে বিক্রির অভিযোগও উঠেছে। এতে প্রকৃত প্রয়োজনীয় গ্রাহকরা বঞ্চিত হচ্ছেন।
নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংগঠনটি। তাদের অভিযোগ, পাম্পগুলোতে তেল বিক্রির সময় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা না থাকায় অনেক স্থানে বিশৃঙ্খলা, এমনকি জোরপূর্বক তেল নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে। কোথাও কোথাও গভীর রাতে সংঘবদ্ধভাবে এসে পাম্প খুলে তেল নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে পাম্প মালিক ও কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
পাম্প মালিকদের আরও আশঙ্কা, ডিপো থেকে জ্বালানি পরিবহনের সময় ট্যাংকারগুলোও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে তারা তেল উত্তোলন (লিফটিং) বন্ধ করে দিতে বাধ্য হতে পারেন বলে সতর্ক করেছেন।
এদিকে, দেশের বিভিন্ন এলাকায় ইতোমধ্যে জ্বালানি সংকটের প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠছে। কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলায় রোববার সকাল থেকে পেট্রোল ও অকটেনের তীব্র সংকট দেখা গেছে। স্থানীয় বাজার থেকে শুরু করে নিকটবর্তী পাম্পগুলোতেও জ্বালানি না পেয়ে চালকদের খালি হাতে ফিরতে হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, খুচরা দোকানগুলোতে তেল না থাকায় অনেকেই প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরের লাকসাম উপজেলার একটি ফিলিং স্টেশনে গেলেও সেখানেও মজুত শেষ থাকার কারণে তেল পাননি। সংশ্লিষ্ট পাম্প কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ডিপো থেকে নতুন সরবরাহ না আসা পর্যন্ত বিক্রি বন্ধ থাকবে।
সংকটের কারণে পরিবহন চলাচল আংশিকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল ও ছোট যানবাহনের চালকেরা বেশি সমস্যায় পড়ছেন। পাশাপাশি হাসপাতালসহ জরুরি সেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সার্বিক পরিস্থিতিতে পেট্রল পাম্প মালিকদের সংগঠন দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করা এবং পাম্পগুলোতে কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.

পুরোনো খবর এখানে,তারিখ অনুযায়ী

© All rights reserved © 2024 dainikkushtia.net
Maintenance By DainikKushtia.net