June 25, 2026, 2:05 pm

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন পোর্টাল
সংবাদ শিরোনাম :
আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও কমেছে, স্বস্তির আভাস জ্বালানি বাজারে ধানমন্ডি ৩২-এ জামায়াতের মিছিল শেষে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, আহত ১ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা/ ১,২০০ কোটি ডলার অবমুক্ত, হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন অগ্রগতি পাকশী রেলওয়ে জেলা পুলিশের মাসিক কল্যাণ ও অপরাধ সভা অনুষ্ঠিত ২৩ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে ঢাকাসহ ৬ জেলায় সেনা মোতায়েন বাংলাদেশ সীমান্তে ৭–৮টি আধুনিক স্থলবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা ভারতের বাংলাদেশের স্বার্থ/ ভারত ও চীনের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি জরুরী অনুকূল পরিবেশ হলে ভারত যাবেন প্রধানমন্ত্রী/বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বাস্তবতায় একটি নিরপেক্ষ বিশ্লেষণ যশোরে বিজিবির অভিযানে ৭ কোটি টাকার স্বর্ণের বারসহ দুই চোরাকারবারি আটক ইবিতে সচেতন খাদ্যাভ্যাস, স্বাস্থ্য ও স্বাস্থ্যবিধি বিষয়ে সচেতনতা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

এলপি গ্যাস: দাম ৫৯৯ টাকা বেড়ে ৫৫ টাকা কমেছে, আগের বৃদ্ধির চাপ কে সামলাবে

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
দেশে জ্বালানির দাম নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা-সমালোচনা চলছে। বিশেষ করে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপি গ্যাস) ও অটোগ্যাসের দামের ওঠানামা সরাসরি সাধারণ ভোক্তার জীবনে প্রভাব ফেলছে। একদিকে বারবার দামের বড় বৃদ্ধি, অন্যদিকে তুলনামূলক সামান্য হ্রাস—এই দুইয়ের মাঝে চাপে রয়েছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো।
সর্বশেষ বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ভোক্তা পর্যায়ে এলপি গ্যাসের দাম কিছুটা কমানোর ঘোষণা দিয়েছে। মঙ্গলবার (২ জুন) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ১২ কেজি এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের দাম ৫৫ টাকা কমিয়ে ১,৮৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতি লিটার অটোগ্যাসের দাম ২ টাকা ৫৭ পয়সা কমিয়ে ৮৬ টাকা ৯৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে এই সাম্প্রতিক মূল্যহ্রাসের আগে অল্প সময়ের ব্যবধানে হওয়া বড় মূল্যবৃদ্ধি ভোক্তাদের মধ্যে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে—এই সামান্য স্বস্তি কি আগের চাপ কমাতে যথেষ্ট?
পরিসংখ্যান বলছে, মাত্র কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে এলপি গ্যাসের দাম ব্যাপকভাবে বেড়েছিল। সর্বশেষ ১৯ এপ্রিল ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ২১২ টাকা বাড়িয়ে ১,৯৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এরও মাত্র ১৭ দিন আগে, ২ এপ্রিল বিইআরসি এক ধাপে ৩৮৭ টাকা বাড়িয়ে দাম নির্ধারণ করেছিল ১,৭২৭ টাকা। অর্থাৎ দুই দফায় মোট ৫৯৯ টাকা বৃদ্ধি পায়, যা স্বল্প আয়ের মানুষের ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি করে।
এই প্রেক্ষাপটে ৫৫ টাকা কমানোর সিদ্ধান্তকে অনেক ভোক্তা ‘প্রতীকী স্বস্তি’ হিসেবে দেখছেন। কারণ আগের দফার বড় মূল্যবৃদ্ধির তুলনায় এই হ্রাস অত্যন্ত সামান্য, যা বাস্তব ব্যয়ের ভার কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না বলে তাদের অভিযোগ।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দাম, ডলারের বিনিময় হার এবং আমদানি ব্যয়—এসব মিলিয়েই স্থানীয় বাজারে প্রভাব পড়ে। তবে তারা একই সঙ্গে বলছেন, বারবার ও অস্থির মূল্য সমন্বয় ভোক্তা পর্যায়ে আস্থার সংকট তৈরি করছে।
অন্যদিকে সাধারণ ভোক্তাদের অভিজ্ঞতা ভিন্ন। তাদের মতে, এলপি গ্যাস এখন শহর ও গ্রাম উভয় অঞ্চলের রান্নার প্রধান জ্বালানি হয়ে উঠেছে। ফলে দাম বাড়লে তা সরাসরি পরিবারের মাসিক খরচে প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে খাদ্য ও অন্যান্য ব্যয় কাটছাঁট করে গ্যাসের খরচ সামলাতে হচ্ছে।
শুধু গৃহস্থালি নয়, অটোগ্যাসের দাম ওঠানামার প্রভাব পরিবহন খাতেও পড়ছে। সিএনজি ও গ্যাসচালিত যানবাহনের পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় তার পরোক্ষ চাপ যাত্রীদের ওপরও পড়ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
অর্থনীতিবিদদের মতে, জ্বালানি খাতে স্থিতিশীল ও পূর্বানুমানযোগ্য মূল্যনীতি না থাকলে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়ে। খাদ্য, পরিবহন ও উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ার মাধ্যমে তা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়িয়ে দেয়।
সব মিলিয়ে সাম্প্রতিক মূল্যহ্রাস কিছুটা স্বস্তির বার্তা দিলেও, আগের বড় মূল্যবৃদ্ধির চাপ এখনো বহাল রয়েছে। ফলে বাজারে এক ধরনের অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নীতি-নির্ধারকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্বচ্ছ ও স্থিতিশীল মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থা গড়ে না তোলা গেলে এই ধরনের ওঠানামা অব্যাহত থাকবে।
ফলে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—৫৫ টাকার এই হ্রাস কি সত্যিই স্বস্তি, নাকি ৫৯৯ টাকার আগের চাপের সামনে এটি কেবলই সামান্য সাময়িক সমন্বয়?

নিউজটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.

পুরোনো খবর এখানে,তারিখ অনুযায়ী

© All rights reserved © 2024 dainikkushtia.net
Maintenance By DainikKushtia.net