June 16, 2026, 11:06 am

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন পোর্টাল
সংবাদ শিরোনাম :
কুষ্টিয়ায় চিকিৎসকের অপেক্ষায় তালাবদ্ধ স্বাস্থ্যকেন্দ্র, সেবা না পেয়ে ফিরে যান গ্রামের মানুষ তদন্তে মেলেনি জামায়াত নেতার জমির দাবির সত্যতা, সামনে এলো চাঁদা দাবির অভিযোগ পুশইন-পুশব্যাক/ সীমান্তে মানবিক সংকট, কূটনৈতিক উদ্যোগই সমাধানের পথ শূন্যরেখায় তিন দিন আটকে থাকা ১২ জনকে পতাকা বৈঠকের পর ফেরত নিয়েছে বিএসএফ শূন্যরেখায় মানবিক সংকট/ অসুস্থ ১২ জন, জ্বরে কাতর আড়াই বছরের শিশু; ৩ দফা পুশইনের অভিযোগ দর্শনা সীমান্তে ১১ জনকে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির সতর্কতায় ব্যর্থ মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশে নামানো/অস্বস্তিকর সত্যের চ্যালেঞ্জ ও প্রত্যাশার সমীকরণ কুষ্টিয়া সীমান্তে ১২ জনকে পুশইনের চেষ্টা, শূন্যরেখায় অবস্থান বিজিবি–বিএসএফ সীমান্ত সম্মেলন: ১১ সিদ্ধান্তে শান্তি, নিরাপত্তা ও সহযোগিতা জোরদারের অঙ্গীকার বাংলাদেশ-ভারত জনগণের সম্পর্ক আমার একমাত্র অগ্রাধিকার: দীনেশ ত্রিবেদী

কুষ্টিয়ায় চিকিৎসকের অপেক্ষায় তালাবদ্ধ স্বাস্থ্যকেন্দ্র, সেবা না পেয়ে ফিরে যান গ্রামের মানুষ

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
কুষ্টিয়ার কুমারখালীর চাপড়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি এলাকার হাজারো নিম্নআয়ের মানুষের একমাত্র ভরসা। জ্বর, সর্দি, গর্ভকালীন সেবা কিংবা শিশুর চিকিৎসার জন্য প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এখানে ছুটে আসেন। কিন্তু সেই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এসে অনেককেই ফিরতে হচ্ছে খালি হাতে।
সোমবার (১৫ জুন) সকালে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও কেন্দ্রের প্রধান ফটকে ঝুলছে তালা। সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত কোনো সেবা কার্যক্রম শুরু হয়নি। চিকিৎসার আশায় আসা রোগীরা অপেক্ষা করতে করতে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এটি কোনো একদিনের ঘটনা নয়। দীর্ঘদিন ধরেই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে নিয়মিত উপস্থিত থাকেন না সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কেউ কেউ। অনেক সময় রোগীরা এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও চিকিৎসক পান না। আবার কর্মঘণ্টা শেষ হওয়ার আগেই সেবা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, শুধু জনবল সংকটই নয়, অব্যবস্থাপনাও প্রকট। কয়েকটি কক্ষ ময়লা-আবর্জনায় ভরে আছে। রোগীদের বসার বেঞ্চ, টেবিল-চেয়ারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম অযত্নে পড়ে রয়েছে। একটি সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের এমন চিত্র দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
ভাড়রা গ্রামের ভ্যানচালক হারুনুর রশিদ আসকারী বলেন, “গরিব মানুষ প্রাইভেট ক্লিনিকে যেতে পারে না। তাই সরকারি হাসপাতালে আসে। কিন্তু এখানে এসে যদি ডাক্তারই না পাওয়া যায়, তাহলে মানুষ কোথায় যাবে?”
স্থানীয় আব্দুল মান্নান মাস্টারের কণ্ঠেও একই হতাশা। তিনি বলেন, “অসুস্থ মানুষ চিকিৎসার আশায় আসে, কিন্তু অনেক সময় কাউকে পায় না। এতে সবচেয়ে বেশি কষ্ট পোহাতে হয় দরিদ্র মানুষদের।”
এদিকে উপসহকারী কমিউনিটি স্বাস্থ্য কর্মকর্তা শারমিন আক্তার জানিয়েছেন, অসুস্থতার কারণে তিনি সেদিন দেরিতে এসেছিলেন। একই সঙ্গে তিনি ফার্মাসিস্টের অনিয়মিত উপস্থিতি ও কেন্দ্রের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের বিষয়েও অভিযোগ করেছেন।
অন্যদিকে ফার্মাসিস্ট নাসির উদ্দিন নিজের মানসিক ও শারীরিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন।
তবে প্রশ্ন উঠেছে, একজন কর্মকর্তা অসুস্থ হলে বা জনবল সংকট থাকলে তার দায় কি সাধারণ রোগীদের বহন করতে হবে? যে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি গ্রামের মানুষের মৌলিক চিকিৎসাসেবার অন্যতম ভরসা, সেখানে নিয়মিত সেবা নিশ্চিত করার দায়িত্ব কার?
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শামীমা আক্তার কেন্দ্রটির নাজুক অবস্থার কথা স্বীকার করে বলেছেন, জনবল সংকট ও কর্মীদের অসুস্থতার কারণে সেবা ব্যাহত হচ্ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
তবে স্থানীয়দের প্রত্যাশা, তদন্ত করে যদি দায়িত্বে অবহেলা, কর্মস্থলে অনুপস্থিতি বা সেবাদানে গাফিলতির অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক। কারণ একটি তালাবদ্ধ স্বাস্থ্যকেন্দ্র শুধু একটি প্রশাসনিক ব্যর্থতার গল্প নয়; এটি চিকিৎসার অপেক্ষায় থাকা অসহায় মানুষের বঞ্চনার প্রতিচ্ছবি।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.

পুরোনো খবর এখানে,তারিখ অনুযায়ী

MonTueWedThuFriSatSun
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930 
© All rights reserved © 2024 dainikkushtia.net
Maintenance By DainikKushtia.net