July 31, 2026, 7:18 pm

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন পোর্টাল
সংবাদ শিরোনাম :
সড়ক নির্মাণে ধীরগতি/ ঝিনাইদহ-মাগুরা মহাসড়কে থাকে সারাদিনই দীর্ঘ যানজট বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক/ বন্ধুত্বের ভিত্তি হোক আস্থা, সমতা ও সংলাপ সিআইডির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিলেন ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোছাইন কুষ্টিয়ায় ইউএনওকে এমপির ফুলেল শুভেচ্ছা নিয়ে বিতর্ক, নিরপেক্ষ বিশ্লেষণ কি বলে ! বাংলাদেশে পণ্যের দাম/‘রকেটস অ্যান্ড ফেদারস’ অর্থনীতির অদৃশ্য ফাঁদ ছয় বছরে মাত্র ২ শতাংশ অগ্রগতি, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন নিয়েও অনিশ্চয়তায় ঝিনাইদহ-যশোর ছয় লেন প্রকল্প আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রো-ভিসি ও ট্রেজারার নিয়োগের অধিকার বনাম জনগণের প্রত্যাশা /সমন্বয় সাধনই সর্বোত্তম পন্থা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপ- উপাচার্য ও ট্রেজারার, বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের অভিনন্দন পদ্মা সেতুতে ইলেকট্রনিক টোল আদায় ১০ কোটি টাকা ছাড়াল, বাড়ছে প্রযুক্তিনির্ভর সেবা

সড়ক নির্মাণে ধীরগতি/ ঝিনাইদহ-মাগুরা মহাসড়কে থাকে সারাদিনই দীর্ঘ যানজট

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক করিডর ঝিনাইদহ-মাগুরা মহাসড়ক। এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন ঢাকা, যশোর, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা ও ঝিনাইদহসহ বিভিন্ন জেলার যাত্রীবাহী বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান এবং পণ্যবাহী যান চলাচল করে। কিন্তু ঝিনাইদহের হাটগোপালপুর বাজার এলাকায় চলমান সড়ক পুনর্নির্মাণকাজের ধীরগতির কারণে গত দুই মাস ধরে ভয়াবহ যানজট ও দুর্ভোগের মুখে পড়েছেন হাজারো যাত্রী, চালক, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
প্রায় ৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৫৫০ মিটার সড়ক ঢালাইয়ের কাজ চলছে। নির্মাণকাজের জন্য এক পাশ বন্ধ রেখে অন্য পাশ দিয়ে দুই দিকের যান চলাচল করানো হচ্ছে। কিন্তু টানা বর্ষণে খোলা রাখা লেনজুড়ে বড় বড় গর্ত, কাদা ও পানি জমে চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে প্রতিদিন কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকছে দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, অ্যাম্বুলেন্স ও পণ্যবাহী যানবাহন। একই সঙ্গে বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও।
সরেজমিনে দেখা যায়, হাটগোপালপুর বাজারের এক পাশে ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে ঢালাইয়ের কাজ চলছে। অন্য পাশে একটি মাত্র সরু লেন দিয়ে উভয় দিকের যানবাহন চলাচল করছে। কোথাও কোথাও সড়কের গর্তে পানি জমে ছোট ডোবার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ভারী যানবাহন গর্তে পড়ে ধীরগতিতে চলতে বাধ্য হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।
স্থানীয়দের মতে, হাটগোপালপুর শুধু একটি বাজার নয়; এটি এ অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র। এখানে রয়েছে ধান-চালের আড়ত, অটো রাইস মিল, গুদাম এবং বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান। ফলে সড়কের এই দুরবস্থা শুধু যাত্রী পরিবহন নয়, পণ্য পরিবহন ও স্থানীয় অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় দুই মাস আগে মেহেরপুরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জহিরুল লিমিটেড কাজ শুরু করলেও অগ্রগতি খুবই ধীর। যথাযথ তদারকির অভাবে নির্মাণকাজ দীর্ঘায়িত হচ্ছে, আর দুর্ভোগ বাড়ছে সাধারণ মানুষের।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল হাকিম বলেন, “দুই মাস ধরে একই অবস্থা। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত যানজট লেগেই থাকে। রোগী নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সও আটকে থাকে। দ্রুত কাজ শেষ করা উচিত।”
স্কুলশিক্ষার্থী তানজিলা খাতুনের ভাষ্য, “রাস্তা পার হতে ভয় লাগে। কাদা, গর্ত আর যানজটের কারণে প্রায় প্রতিদিনই স্কুলে যেতে দেরি হয়।”
বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “পণ্যবাহী ট্রাক সময়মতো বাজারে ঢুকতে পারে না। অনেক ক্রেতাও যানজটের কারণে আসে না। বিক্রি কমে গেছে, প্রতিদিন লোকসান গুনতে হচ্ছে।”
ধান ব্যবসায়ী সাইদুর রহমান বলেন, “ধান ও চালের ট্রাক ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকে। সময়মতো মাল পৌঁছাতে না পারায় অতিরিক্ত পরিবহন ব্যয় দিতে হচ্ছে।”
বাসচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, “একটি ট্রাক গর্তে আটকে গেলেই পুরো রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। যাত্রীরা আমাদের দোষ দেয়, অথচ সমস্যাটা রাস্তার। এতে গাড়িরও ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।”
ট্রাকচালক মনির হোসেন বলেন, “গর্ত এড়িয়ে চলতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়। কয়েক দিন আগে একটি পিকআপ উল্টে যেতে দেখেছি। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”
অটোরিকশাচালক হেলাল উদ্দিন বলেন, “জ্যামে বসেই দিনের অনেক সময় চলে যায়। আগের মতো ট্রিপ দিতে পারি না। আয়ও অনেক কমে গেছে।”
এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জহিরুল লিমিটেডের ম্যানেজার আব্দুল হান্নান বলেন, কাজের মেয়াদ ডিসেম্বর পর্যন্ত থাকলেও মানুষের দুর্ভোগ কমাতে আগামী মাসের মধ্যেই এক পাশের ঢালাই শেষ করার চেষ্টা চলছে। তবে টানা বৃষ্টির কারণে কাজের গতি কিছুটা ব্যাহত হয়েছে।
ঝিনাইদহ সড়ক ও জনপথ বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী মো. আহসান উল কবীর বলেন, “মানুষের ভোগান্তির বিষয়টি আমরা জানি। বৃষ্টির কারণে খোলা লেনে গর্ত ও পানি জমে চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। দ্রুত গর্ত মেরামত এবং এক পাশের নির্মাণকাজ শেষ করে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

নিউজটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.

পুরোনো খবর এখানে,তারিখ অনুযায়ী

© All rights reserved © 2024 dainikkushtia.net
Maintenance By DainikKushtia.net