September 6, 2026, 2:06 pm

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
ভারতের উত্তরাখণ্ডে নির্ধারিত স্বীকৃতি ও শিক্ষার মানদণ্ড না মানা মাদ্রাসাগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছে রাজ্য সরকার। সর্বশেষ পাঁচটি মাদ্রাসার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পর রাজ্যজুড়ে বন্ধ হওয়া মাদ্রাসার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০টিতে। এর মধ্যে ১৭টি সিলগালা করা হয়েছে এবং বাকি তিনটির কর্তৃপক্ষ লিখিতভাবে জানিয়েছে, তারা কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস। প্রতিবেদনে বলা হয়, সর্বশেষ অভিযানটি দেহরাদুন ও হালদাওয়ানিতে পরিচালিত হয়েছে।
উত্তরাখণ্ডের সংখ্যালঘুবিষয়ক সচিব ড. পরাগ মধুকর ধাকাতে বলেন, নির্ধারিত স্বীকৃতির শর্ত ও শিক্ষার মানদণ্ড পূরণ না করা মাদ্রাসাগুলোর বিরুদ্ধে সরকারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নির্ধারিত বিধি ও স্বীকৃতির শর্ত পূরণ ছাড়া কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।
সর্বশেষ অভিযানে দেহরাদুনে তিনটি মাদ্রাসার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আজাদ কলোনির মাদ্রাসা জামিয়া-তুস-সালাম আল-ইসলামিয়াকে সিলগালা করা হয়েছে। একই এলাকার মাদ্রাসা দার-ই-আরকাম এবং মাজরার মাদ্রাসা দারুল উলুম রহিমিয়ার কর্তৃপক্ষ লিখিতভাবে জানায়, তারা প্রতিষ্ঠান দুটির কার্যক্রম বন্ধ করেছে।
হালদাওয়ানিতে আরও দুটি মাদ্রাসা সিলগালা করা হয়েছে। এগুলো হলো গৌজা জালি নর্থের শনি বাজার রোডের মাদ্রাসা জামিয়া নুরিয়া বারকাতে আমিনা এবং বানভুলপুরার ইন্দিরা নগরের একটি অননুমোদিত মাদ্রাসা। প্রয়োজনীয় স্বীকৃতির নথি উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হওয়ায় প্রতিষ্ঠান দুটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
বিলুপ্ত মাদ্রাসা বোর্ড, নতুন কর্তৃপক্ষ
উত্তরাখণ্ড সরকারের এ অভিযানকে রাজ্যের সংখ্যালঘু শিক্ষাব্যবস্থার বৃহত্তর সংস্কারের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত জুলাইয়ে রাজ্যটি আইনগতভাবে বিদ্যমান মাদ্রাসা বোর্ড বিলুপ্ত করে Uttarakhand State Authority for Minority Education (USAME) নামে নতুন কর্তৃপক্ষ গঠন করে।
নতুন কাঠামোর আওতায় শুধু মুসলিমদের পরিচালিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, খ্রিষ্টান, শিখ, পারসি, জৈন ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় সংখ্যালঘু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি, নিয়ন্ত্রণ এবং শিক্ষার মান নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
এর মাধ্যমে Uttarakhand Madrasa Education Board Act, 2016 এবং Uttarakhand Non-Government Arabic and Persian Madrasa Recognition Rules, 2019-এর পরিবর্তে Minority Education Act, 2025 এবং Uttarakhand Minority Educational Institutions Recognition Rules, 2026 কার্যকর করা হয়েছে।
আগেও সিলগালা হয়েছে ২০০টির বেশি মাদ্রাসা
রাজ্য সরকারের তথ্য অনুযায়ী, নতুন কাঠামো চালুর আগে উত্তরাখণ্ডে মাদ্রাসা বোর্ডের স্বীকৃত মাদ্রাসা ছিল ৪৫২টি। এর বাইরে স্বীকৃতির জন্য আবেদন না করা ২০০টিরও বেশি মাদ্রাসার বিরুদ্ধেও এর আগে অভিযান চালিয়ে সেগুলো সিলগালা করা হয়েছিল।
মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি বলেছেন, শিশুদের শিক্ষার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না এবং নির্ধারিত আইন ও বিধি যারা মানবে না, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।
উত্তরাখণ্ডের এ পদক্ষেপ এমন এক সময়ে এসেছে, যখন রাজ্যটি সংখ্যালঘু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নতুন নিয়ন্ত্রক কাঠামো কার্যকর করছে। এর আগে রাজ্যটি ভারতের প্রথম রাজ্য হিসেবে ইউনিফর্ম সিভিল কোড (UCC) বাস্তবায়ন করেছে।