September 6, 2026, 2:47 pm

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন পোর্টাল
সংবাদ শিরোনাম :
কুষ্টিয়ার কুলফি মালাই: এক হাঁড়ির পেছনে যে অর্থনীতি মাজারের খাদেম হত্যা: ২ জেএমবি সদস্যের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছে হাইকোর্ট ভারতের উত্তরাখণ্ডে ২০ মাদ্রাসার কার্যক্রম বন্ধ, ১৭টি সিলগালা কোভিড-এ বন্ধ হয়ে যাওয়া চীনা ভাষা শিক্ষা ও একাডেমিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগ কুষ্টিয়া সীমান্তে পৃথক অভিযানে ৬ লাখ টাকার ভারতীয় মাদক উদ্ধার উৎপাদন বাড়লেও কেজিতে ২০০ টাকা ছাড়াল সুগন্ধি চাল, রপ্তানি-মজুত নিয়ে প্রশ্ন জাতীয়করণের উদ্যোগে সামনে আসছে কুষ্টিয়ার প্রাচীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো রোগী সেজে দুদকের অভিযান, কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ‘টাকার বিনিময়ে মৃত্যু সনদ’! বেতন বাড়ার খবর বাজারে পৌঁছে গেছে সবুজ খোসার আড়ালে টকটকে লাল. হিজলাবটে তেঁতুলের অদ্ভুত রহস্য

মাজারের খাদেম হত্যা: ২ জেএমবি সদস্যের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছে হাইকোর্ট

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
রংপুরের কাউনিয়ায় মাজারের খাদেম রহমত আলী হত্যা মামলায় জেএমবির দুই সদস্যের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে নিম্ন আদালতে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আরও পাঁচ আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ এ রায় দেন।
বিচারপতি জাফর আহমেদ ও বিচারপতি সাথিকা হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা দুই আসামি হলেন—জেএমবির রংপুর অঞ্চলের কমান্ডার মাসুদ রানা ওরফে মামুন ওরফে মন্ত্রী এবং সংগঠনটির সদস্য লিটন মিয়া ওরফে রফিক।
অন্যদিকে হাইকোর্টে খালাস পেয়েছেন জেএমবির সদস্য ইছাহাক আলী, সাখাওয়াত হোসেন ওরফে রাহুল, সরওয়ার হোসেন সাবু ওরফে মিজান, উত্তরাঞ্চলের কমান্ডার বিজয় ওরফে আলী ওরফে দরজি এবং চান্দু মিয়া।

যেভাবে হত্যা করা হয় রহমত আলীকে

মামলার নথি ও আদালতের রায়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ১০ নভেম্বর রাতে বাড়ি ফেরার পথে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হন মাজারের খাদেম রহমত আলী। রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার মধুপুর ইউনিয়নের চৈতার মোড়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করা হয়।
নিহত রহমত আলীর বয়স ছিল ৬০ বছর। তিনি স্থানীয় একটি মাজার শরিফের খাদেম হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন।
ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরদিন, ১১ নভেম্বর, নিহতের ছেলে শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে কাউনিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় জেএমবির সদস্যদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ আনা হয়।

নিম্ন আদালতের রায়ে সাতজনের মৃত্যুদণ্ড

হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে রংপুরের বিশেষ জজ আদালত মামলার ১৩ আসামির মধ্যে সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড দেন।
রংপুরের বিশেষ জজ নরেশ চন্দ্র সরকার এ রায় ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে ছয় আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়।
নিম্ন আদালতে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া সাত আসামি হলেন—জেএমবির রংপুর অঞ্চলের কমান্ডার মাসুদ রানা ওরফে মামুন ওরফে মন্ত্রী, ইছাহাক আলী, লিটন মিয়া ওরফে রফিক, সাখাওয়াত হোসেন ওরফে রাহুল, সরওয়ার হোসেন সাবু ওরফে মিজান, উত্তরাঞ্চলের কমান্ডার বিজয় ওরফে আলী ওরফে দরজি এবং চান্দু মিয়া।
অন্যদিকে ওই আদালতে খালাস পাওয়া ছয় আসামি হলেন—জেএমবির সদস্য আবু সাঈদ, তৌফিকুল ইসলাম সবুজ, সাদাত ওরফে রতন মিয়া, জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে রাজিব গান্ধী, বাবুল আখতার ওরফে বাবুল মাস্টার এবং রাজিবুল ইসলাম মোল্লা ওরফে বাদল ওরফে বাঁধন।

হাইকোর্টে বদলে গেল সাজা

নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি হয়। শুনানি শেষে হাইকোর্ট সাত মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির মধ্যে মাত্র দুজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন।
মাসুদ রানা ওরফে মামুন ওরফে মন্ত্রী এবং লিটন মিয়া ওরফে রফিকের ক্ষেত্রে নিম্ন আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে।
অন্য পাঁচ আসামি—ইছাহাক আলী, সাখাওয়াত হোসেন ওরফে রাহুল, সরওয়ার হোসেন সাবু ওরফে মিজান, বিজয় ওরফে আলী ওরফে দরজি এবং চান্দু মিয়া—হাইকোর্টে খালাস পেয়েছেন।
অর্থাৎ, নিম্ন আদালতে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া সাতজনের মধ্যে পাঁচজনই উচ্চ আদালতে এসে খালাস পেলেন। ফলে মামলায় এখন দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকল।
১৩ আসামির দুজন এখনো পলাতক
মামলার ১৩ আসামির মধ্যে দুজন বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। তারা হলেন চান্দু মিয়া এবং রাজিবুল ইসলাম মোল্লা ওরফে বাদল ওরফে বাঁধন।
তবে হাইকোর্টের রায়ে চান্দু মিয়া খালাস পাওয়ায় তার বিরুদ্ধে নিম্ন আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড আর বহাল থাকছে না।
২০১৫ সালের হত্যাকাণ্ডের এক দশক পর হাইকোর্টের রায়
২০১৫ সালের নভেম্বরে রহমত আলী হত্যার পর দায়ের হওয়া মামলাটি তদন্ত, অভিযোগ গঠন ও সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে বিচারিক পর্যায়ে এগোয়। পরে রংপুরের বিশেষ জজ আদালত সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন। সেই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়।
প্রায় এক দশক পর রোববার হাইকোর্ট মামলাটির গুরুত্বপূর্ণ নিষ্পত্তি দিলেন। রায়ে হত্যাকাণ্ডের জন্য দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকলেও নিম্ন আদালতের দণ্ডপ্রাপ্ত অন্য পাঁচ আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
হাইকোর্টে আসামিদের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট এস এম শাহজাহান ও ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেন।
মামলাটির চূড়ান্ত পরিণতিতে এখন দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রয়েছে। তবে তাদের সাজা কার্যকর করতে উচ্চতর আদালতে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার বিষয়টি প্রযোজ্য হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.

পুরোনো খবর এখানে,তারিখ অনুযায়ী

MonTueWedThuFriSatSun
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930 
© All rights reserved © 2024 dainikkushtia.net
Maintenance By DainikKushtia.net