March 5, 2026, 9:04 am

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
মাথাপিছু আয় থেকে শুরু করে বাজারে পণ্যের চাহিদা নিরূপণ—অর্থনীতির প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে জনমিতিক পরিসংখ্যান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দেশের প্রকৃত জনসংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তি লক্ষ্য করা যায়, কারণ বিভিন্ন সংস্থার পরিসংখ্যান একে অপরের সঙ্গে মেলে না।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ও নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তথ্যের মধ্যে বড় ফারাক রয়েছে। এছাড়া জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ) প্রতিবছর যে পরিসংখ্যান প্রকাশ করে, তা দেশের সংস্থাগুলোর তথ্যের সঙ্গে মিল না খাওয়ায় বিভ্রান্তি আরও বেড়ে যায়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য ইসি হালনাগাদ ভোটার তালিকা প্রণয়নে কাজ করছে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাদ পড়া বা নতুন ভোটারদের অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে এবং মৃতদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি দুই দফায় খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে; চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হবে ১৮ নভেম্বর।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইসি ভবনে সুশীল সমাজের সঙ্গে একটি সংলাপে নির্বাচন কমিশনার তাহমিদা আহমদ জানিয়েছেন, “নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা অনুযায়ী দেশের বর্তমান জনসংখ্যা ১৯ কোটি। এর মধ্যে রাজধানী ঢাকায় রয়েছে ১ কোটি ৫১ লাখ মানুষ। আমাদের তথ্য বাড়ি বাড়ি গিয়ে সংগ্রহ করা হয়েছে, তাই একে সঠিক ধরা হয়।”
অপরদিকে বিবিএসের জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুযায়ী দেশের জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৯৮ লাখ ৩০ হাজার। ২০২৩ সালের স্যাম্পল ভাইটাল রেজিস্ট্রেশন সিস্টেমের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে জনসংখ্যা ১৭ কোটি ২৯ লাখ ২০ হাজার এবং সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী ১৭ কোটি ৬৫ লাখ ৩১ হাজার। ইউএনএফপিএর প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০২৫ সালে জনসংখ্যা ১৭ কোটি ৫৭ লাখ।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, “পরিসংখ্যানের ওপর প্রশ্ন ছিল। সরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রকৃত ও বিশ্বাসযোগ্য তথ্য প্রকাশ করা প্রয়োজন। এতে বিভ্রান্তি কমে যাবে।”
অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জনমিতিক তথ্যের ভুল বা অসম্পূর্ণতা মাথাপিছু আয়, পণ্যের চাহিদা নিরূপণ, কৃষি উৎপাদন ও সরবরাহসহ অর্থনীতির প্রায় সব ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলে। এছাড়া বিবিএস শুধু দেশের অভ্যন্তরীণ জনগণকে অন্তর্ভুক্ত করেছে, প্রবাসী গণনা করা হয়নি। নির্বাচনে ভোটার তালিকায় প্রবাসীরাও অন্তর্ভুক্ত থাকায় সংস্থাগুলোর তথ্যের মধ্যে ফারাক দেখা দেয়।
বিবিএস মহাপরিচালক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, “নির্বাচন কমিশন যদি আমাদের তথ্যের কথা বলে, তাহলে হয়তো ২০২২ সালের জনশুমারি তথ্যের কথা বোঝাচ্ছে। তবে যে তথ্য তারা ব্যবহার করছে, তা আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে।”
পরিসংখ্যানের এই বৈপরীত্য দেশের জনমিতিক তথ্যের নির্ভুলতা নিয়ে নতুনভাবে আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে।