March 20, 2026, 2:01 pm

শুভব্রত আমান/
দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমের প্রবেশদ্বার দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ঈদের ঠিক আগের দিন নির্বিঘ্নেই পারাপার করতে পারছেন লাখ ঘরমুখো মানুষ। শুস্ক মৌসুমের প্রথম পর্যায় শুরু হবার কারনে ফেরি ও নৌরুট ঘিরে নানা আশঙ্কা ছিল।
শুক্রবার (২০ মার্চ) সকালে দৌলতদিয়া ঘাট এলাকা ঘুরে দেখা যায়, পাটুরিয়া থেকে ছেড়ে আসা প্রতিটি ফেরিতে বাস, প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলের পাশাপাশি যাত্রীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে লঞ্চযাত্রীদের চাপ ছিল তুলনামূলক কম।
ঘাট এলাকায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন উদ্যোগ। যাত্রীদের সুবিধার্থে বাস কাউন্টারগুলোতে ভাড়ার তালিকা টানানো হয়েছে, যাতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা না হয়। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রয়েছেন। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ টিমও সক্রিয় রয়েছে।
ঈদযাত্রায় বাড়ি ফেরা যাত্রীদের অভিজ্ঞতাও ছিল ইতিবাচক। নারায়ণগঞ্জের একটি গার্মেন্টসে কর্মরত রবিউল মোল্লা পরিবার নিয়ে মাগুরায় যাচ্ছেন। তিনি বলেন, “ভিড় থাকলেও ফেরির সংখ্যা বেশি থাকায় কোনো ভোগান্তি হয়নি। স্বাভাবিকভাবেই ঈদের সময় কিছুটা চাপ থাকে, তবে এবার সেটি নিয়ন্ত্রণেই আছে।”
একইভাবে, কুষ্টিয়াগামী বেসরকারি টেলিভিশনে চাকরিরত জিনিয়া খাতুন জানান, “এবার যাত্রীচাপ তুলনামূলক কম। অনেকেই পদ্মা সেতু ব্যবহার করছেন, ফলে এই রুটে ভিড় কমেছে। পরিবার নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে বাড়ি ফিরতে পারছি।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও বলছে, সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার ফলেই যাত্রীরা স্বস্তিতে পারাপার হতে পারছেন। বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাটের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মো. সালাহ উদ্দিন জানান, আমরা যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে পদক্ষেপ প্রহন করেছিলাম নেটা কার্যকর হয়েছে।
বর্তমানে এই নৌরুটে ছোট-বড় মিলিয়ে ১৭টি ফেরি চলাচল করছে। প্রয়োজন অনুযায়ী ফেরির সংখ্যা বাড়ানো ও সঠিক ব্যবস্থাপনার কারণে যাত্রীরা নির্বিঘ্নে গন্তব্যে পৌঁছাচ্ছেন। তবে গার্মেন্টস ছুটি শুরু হওয়ায় বিকালের দিকে যাত্রীচাপ কিছুটা বাড়তে পারে বলে তিনি জানান।
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাস বলেন, “ঘাট এলাকায় শৃঙ্খলা বজায় রাখা ও যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে প্রশাসন সার্বক্ষণিক কাজ করছে। চুরি, ছিনতাই, দালাল চক্র ও যানজট নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। সবাইকে স্বস্তির ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে।