April 3, 2026, 12:13 pm

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা গুরুত্বপূর্ণ একাধিক অধ্যাদেশের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। সংসদের চলতি অধিবেশনে গণভোট, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার, দুর্নীতি দমন কমিশন এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশনসহ মোট ২০টি অধ্যাদেশ অনুমোদন পাচ্ছে না। ফলে সংবিধান অনুযায়ী নির্ধারিত সময়সীমা শেষে এগুলোর কার্যকারিতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সংসদ কর্তৃক গঠিত বিশেষ কমিটি বৃহস্পতিবার তাদের প্রতিবেদন উপস্থাপন করে জানায়, মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ১৬টি এখনই বিল আকারে সংসদে উত্থাপন না করে আরও যাচাই-বাছাই করে ভবিষ্যতে শক্তিশালী আকারে পুনরায় আনার সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্ট-সংক্রান্ত ৪টি অধ্যাদেশ সম্পূর্ণভাবে বাতিল বা রহিত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে ২০টি অধ্যাদেশ বর্তমান অধিবেশনে অনুমোদনের বাইরে থাকছে।
অন্যদিকে, কমিটি ৯৮টি অধ্যাদেশ হুবহু বিল আকারে পাস করার সুপারিশ করেছে এবং আরও ১৫টি অধ্যাদেশ সংশোধন করে সংসদে উপস্থাপনের পরামর্শ দিয়েছে। অর্থাৎ, অধিকাংশ অধ্যাদেশই কোনো না কোনোভাবে আইন হিসেবে রূপ নেওয়ার পথে থাকলেও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ আপাতত আটকে গেল।
স্থগিত হওয়া ১৬টি অধ্যাদেশের মধ্যে রয়েছে গণভোট আয়োজনের বিধান, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, দুর্নীতি দমন কমিশনের ক্ষমতা বৃদ্ধি, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের কাঠামোগত পরিবর্তন, রাজস্ব নীতি সংস্কার, তথ্য অধিকার সংশোধন এবং মাইক্রোফাইন্যান্স ব্যাংক প্রতিষ্ঠাসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এগুলো আরও পর্যালোচনা করে পরে নতুনভাবে সংসদে আনার সুপারিশ করা হয়েছে।
এছাড়া সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ ও সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠা সংক্রান্ত ৪টি অধ্যাদেশ বাতিলের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বিচার বিভাগকে আরও স্বাধীন ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে এসব অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল, যেখানে বিচারক নিয়োগে একটি স্বতন্ত্র কাউন্সিল গঠনের কথাও ছিল। তবে এখন সেগুলোর ভবিষ্যৎ ঝুলে গেছে।
সংবিধানের ৯৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদে উপস্থাপনের ৩০ দিনের মধ্যে কোনো অধ্যাদেশ অনুমোদন না পেলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায়। সেই হিসেবে আগামী ১০ এপ্রিলের মধ্যে অনুমোদন না পেলে এই ২০টি অধ্যাদেশ আর কার্যকর থাকবে না।
সংসদে বিশেষ কমিটির প্রতিবেদন উপস্থাপনের সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে দ্রুত সুপারিশকৃত অধ্যাদেশগুলো বিল আকারে উত্থাপনের আহ্বান জানান। তবে বিরোধী দল ও অন্যান্য রাজনৈতিক মহলে এ নিয়ে ভিন্নমত দেখা গেছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ কিছু অধ্যাদেশ স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তকে কেউ কেউ বিস্ময়কর বলে মন্তব্য করেছেন।
এদিকে, এই ২০টি অধ্যাদেশের বিষয়ে বিশেষ কমিটিতে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সদস্যরা ভিন্নমত বা ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়েছেন, যা বিষয়টিকে আরও রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল করে তুলেছে।
সার্বিকভাবে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ আইনগত উদ্যোগগুলোর একটি বড় অংশ এখন পুনর্বিবেচনার পর্যায়ে রয়েছে। সামনে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সিদ্ধান্ত না এলে এসব অধ্যাদেশ বাতিল হয়ে যাবে, যা আইন ও নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে।