April 11, 2026, 8:08 pm

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নে ধর্ম অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এক কথিত পীরকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে।
আজ শনিবার দুপুরে, পুলিশ উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও বিক্ষুব্ধ জনতার হামলায় শামীম রেজা (জাহাঙ্গীর) নামের ওই পীর ব্যক্তির মৃত্যু হয়। এ সময় তার আস্তানায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত শামীম রেজা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় একটি আস্তানা গড়ে ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন। সম্প্রতি তার কিছু বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের একটি অংশ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।
অভিযোগ ওঠে, তিনি ধর্মীয় বিষয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির সূত্রপাত একটি ভাইরাল ভিডিও থেকে, যা প্রাথমিকভাবে পুরোনো হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অথচ সেই ভিডিও যাচাইয়ের আগেই সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে—যা তথ্য যাচাইহীন আবেগপ্রবণ প্রতিক্রিয়ার ভয়াবহ পরিণতি নির্দেশ করে।
শনিবার সকালে উত্তেজনা তৈরি হওয়ার পর দুপুরে কয়েকশো মানুষ একত্রিত হয়ে ওই আস্তানায় হামলা চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এ সময় জাহাঙ্গীর ও তার অনুসারীদের উপর হামলা চালানো হয়। তাদেরকে বেধড়ক পেটানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফুর রহমান জানান, বিপুল সংখ্যক জনতার সামনে অল্পসংখ্যক পুলিশ সদস্য পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হন।
এই ঘটনা আবারও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রস্তুতি, গোয়েন্দা নজরদারি এবং দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। একই সঙ্গে এটি সমাজে বিচারবহির্ভূত সহিংসতার ক্রমবর্ধমান প্রবণতার দিকেও আঙুল তোলে।
উল্লেখ্য, এর আগেও ২০২১ সালে একই ধরনের অভিযোগে শামীম রেজার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল এবং তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। অর্থাৎ বিষয়টি নতুন নয়, তবুও কেন পরিস্থিতি এমন চরম পর্যায়ে পৌঁছাল—তা নিয়েও সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন উঠছে।
তবে প্রশ্ন উঠছে—কোনো অভিযোগ সত্য বা মিথ্যা প্রমাণের আগেই কেন জনতা নিজেরাই বিচারকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হলো? সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে এমন প্রাণঘাতী সহিংসতা, গুজব ও উসকানির বিপজ্জনক প্রভাবকেই সামনে নিয়ে আসে।
বর্তমানে এলাকায় পুলিশি নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।
তবে একটি জীবনহানি এবং আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার এই প্রবণতা—সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য কতটা বিপজ্জনক, তা নতুন করে ভাবনার দাবি রাখে।