April 15, 2026, 1:33 pm

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় আধ্যাত্মিক সাধু গুরু (পীর) আব্দুর রহমান শামীম ওরফে জাহাঙ্গীর (৫৭) হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন তার ভক্ত ও স্থানীয় এলাকাবাসী।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের ফিলিপনগর গ্রামে অবস্থিত নিহতের দরবারের সামনে এই কর্মসূচি পালিত হয়। এতে কয়েক শতাধিক ভক্ত, অনুসারী ও স্থানীয় মানুষ অংশ নেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, এই হত্যাকাণ্ড ছিল পূর্বপরিকল্পিত ও নৃশংস। একটি পুরোনো ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হয়, যার জেরে সংঘবদ্ধভাবে দরবারে হামলা চালানো হয়। তারা দাবি করেন, প্রকৃত ঘটনা যাচাই না করেই উসকানিমূলক প্রচারণার মাধ্যমে সহিংসতা ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
মানববন্ধন শেষে দরবার এলাকা থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি দারোগার মোড়, ইসলামপুর জিরো পয়েন্টসহ উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় দরবার প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়।
নিহতের ভক্তরা অবিলম্বে সব আসামিকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
“আমরা দেখেই আসছি দেশজুড়ে একের পর এক এ ধরনের ঘটনা ঘটলেও প্রশাসন তার কোন বিচার করে না,” বললেন নুরুন্নাহার নামের মিছিলে অংশ নেয়া এক বাউল ভক্ত।
দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, ঘটনার পর থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক ইউনিট আসামিদের গ্রেপ্তারে কাজ করছে।
উল্লেখ্য, সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাতে নিহতের বড় ভাই ফজলুর রহমান বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় জেলা ছাত্র শিবিরের সাবেক সভাপতি ও খেলাফত মজলিসের উপজেলা সভাপতিসহ চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১৮০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে ফিলিপনগর এলাকায় দরবারে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতার হামলায় দরবার প্রধান আব্দুর রহমান শামীম নিহত হন। ঘটনার পর থেকে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনসহ প্রশাসনের নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।