July 21, 2026, 9:33 pm

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
বাংলাদেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোলকে কেন্দ্র করে বহুদিনের প্রত্যাশিত যশোর-বেনাপোল রেললাইন ডাবল ট্র্যাকিং প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে আরেক ধাপ এগিয়েছে। ২০২৪ সালে শুরু হওয়া প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই (ফিজিবিলিটি স্টাডি) এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে। চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর প্রকল্পটি বাস্তবায়নের বিষয়ে সরকারি সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, প্রায় ৩৮ কিলোমিটার দীর্ঘ যশোর-বেনাপোল রুটটি বর্তমানে একক লাইনে পরিচালিত হওয়ায় যাত্রী ও পণ্যবাহী ট্রেনকে প্রায়ই একে অপরকে ক্রসিং দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হয়। এতে সময় নষ্টের পাশাপাশি ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের সবচেয়ে ব্যস্ত আন্তর্জাতিক রেল করিডোরগুলোর একটি হওয়া সত্ত্বেও লাইনের সক্ষমতার সীমাবদ্ধতায় নতুন ট্রেন চালু করাও সম্ভব হচ্ছে না।
‘কানেক্টিভিটি ইমপ্রুভমেন্ট প্রিপারেটরি ফ্যাসিলিটি’ কর্মসূচির আওতায় ২০২৪ সালে প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাই শুরু হয়। এরই অংশ হিসেবে সম্প্রতি বাংলাদেশ রেলওয়ের উচ্চপর্যায়ের একটি দল যশোর রেলওয়ে জংশন, বেনাপোল স্টেশন, বিদ্যমান রেললাইন, সেতু ও অন্যান্য অবকাঠামো সরেজমিন পরিদর্শন করেছে। বর্তমানে কারিগরি, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত দিক মূল্যায়নের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
যশোর রেলওয়ে জংশনের স্টেশন মাস্টার সাইদুজ্জামান জানান, বিদ্যমান অবকাঠামোর সক্ষমতা, স্টেশন সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা এবং নতুন লাইনের সম্ভাব্য নকশা নিয়ে বিস্তারিত মূল্যায়ন করা হয়েছে।
রেলওয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, ডাবল ট্র্যাক নির্মাণ হলে ঢাকা-যশোর-বেনাপোল রুটে ট্রেন চলাচলের সময় ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট পর্যন্ত কমতে পারে। একই সঙ্গে ট্রেনের সময়সূচি আরও নিয়মিত হবে এবং ঢাকা, খুলনা, চট্টগ্রাম ও উত্তরাঞ্চল থেকে অতিরিক্ত যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী ট্রেন চালানোর সুযোগ সৃষ্টি হবে। এতে বিশেষ করে ভারতগামী যাত্রীদের দীর্ঘদিনের টিকিট সংকট অনেকটাই লাঘব হতে পারে।
দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোল দিয়ে প্রতিদিন উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আমদানি-রপ্তানি পণ্য রেলপথে পরিবহন করা হয়। একক লাইনের কারণে পণ্যবাহী ট্রেনকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। ডাবল ট্র্যাক নির্মিত হলে ট্রেন দ্রুত বন্দরে প্রবেশ ও ফিরে যেতে পারবে। এতে পরিবহন ব্যয়, সময় এবং ডেমারেজ কমবে, যা সামগ্রিকভাবে বাণিজ্যিক কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রেলওয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, যশোর-বেনাপোল রুটটি ট্রান্স-এশিয়ান রেলওয়ে নেটওয়ার্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ-ভারত রেল যোগাযোগ আরও শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে উপ-আঞ্চলিক রেলভিত্তিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের সুযোগও তৈরি হবে।
রয়েছে কিছু চ্যালেঞ্জও
তবে প্রকল্প বাস্তবায়নে কিছু প্রকৌশলগত ও পুনর্বাসনসংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বিদ্যমান লাইনের পাশেই নতুন ট্র্যাক নির্মাণের পরিকল্পনা থাকলেও কিছু এলাকায় সীমিত পরিসরে জমি অধিগ্রহণ প্রয়োজন হতে পারে। এছাড়া ঝিকরগাছায় কপোতাক্ষ নদের ওপর বিদ্যমান রেলসেতুর পাশে নতুন ব্রডগেজ সেতু নির্মাণের বিষয়টি প্রকল্পের অন্যতম বড় কারিগরি চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ফিজিবিলিটি স্টাডি দলের সদস্য ও বাংলাদেশ রেলওয়ের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) হাবিবুর রহমান বলেন, সম্ভাব্যতা যাচাই শেষ করে দ্রুত সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। সরকারের অনুমোদন মিললে পরবর্তী ধাপে নির্মাণ পরিকল্পনা ও অর্থায়নের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে শুধু যাত্রীসেবা নয়, বেনাপোল স্থলবন্দরকেন্দ্রিক আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য, আন্তর্জাতিক রেল যোগাযোগ এবং দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।