August 10, 2026, 1:55 pm

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার কমেছে। এ বছর দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন। আর অকৃতকার্য হয়েছে ৬ লাখ ৯০ হাজার ৬০৮ জন।
গত বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গড় পাসের হার ছিল ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ২০ শতাংশ। একই সঙ্গে গত বছরের তুলনায় এবার অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যাও বেড়েছে। ২০২৫ সালে ফেল করেছিল ৬ লাখ ৬০ হাজার ৬৬০ জন।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১০টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল ঘোষণা করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
এবার ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। মোট ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।
সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোতে এবার পাসের হার ৬৪ দশমিক ০৫ শতাংশ। ২০২৫ সালে এ হার ছিল ৬৮ দশমিক ০৪ শতাংশ। অর্থাৎ সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার কমেছে ৩ দশমিক ৯৯ শতাংশ।
সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে এবার ছাত্রীদের ফলাফলও তুলনামূলকভাবে ভালো হয়েছে। উত্তীর্ণ ছাত্রের তুলনায় ১ লাখ ৭ হাজার ৯৮২ জন বেশি ছাত্রী পাস করেছে। একইভাবে ছাত্রদের তুলনায় ১১ হাজার ৪০১ জন বেশি ছাত্রী জিপিএ-৫ পেয়েছে।
জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যাও গত বছরের তুলনায় কমেছে। ২০২৫ সালে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে ১ লাখ ২৫ হাজার ১৮ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছিল। এবার এ সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার ৯ জনে। অর্থাৎ এক বছরে জিপিএ-৫ কমেছে ১৯ হাজার ৯ জন।
এবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পরীক্ষাকেন্দ্রের সংখ্যাও বেড়েছে। মোট প্রতিষ্ঠান বেড়েছে ৩০৩টি এবং কেন্দ্র বেড়েছে ২০১টি। তবে শূন্য পাসের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে।
৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে এবার ৫৭টি প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৪৮টি। মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠান বেড়ে হয়েছে ২২৬টি, যা গত বছর ছিল ৮৬টি। অন্যদিকে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে এবার ২৯টি প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করেনি; গত বছর এমন কোনো প্রতিষ্ঠান ছিল না।
ফল প্রকাশের পর শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সামগ্রিক পাসের হার ও জিপিএ-৫ কমে যাওয়ার পাশাপাশি শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়ে যাওয়া মাধ্যমিক শিক্ষার মান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফলের বৈষম্য নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে।