September 24, 2026, 7:40 pm

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন পোর্টাল
সংবাদ শিরোনাম :
ব্ল্যাক সি সংকটে আবারও ভারতের গমে ফিরছে বাংলাদেশ, কেজিতে খরচ প্রায় ৩৮-৪০ টাকা কুষ্টিয়া যুবদলের নতুন কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে বুধবার আনন্দ মিছিল বিশ্লেষণ/বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমলেও বাংলাদেশে কেন বাড়ল পদ্মার অববাহিকায় ইলিশের আকাল, হাহাকার জেলেদের ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যারিয়ার হাব স্থাপনের লক্ষ্যে ব্র্যাকের সাথে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তঃবিভাগ ও আন্তঃহল ফুটবল টুর্নামেন্ট উদ্বোধন নতুন পে-স্কেল/ স্বস্তির অঙ্কের আড়ালে যে বড় প্রশ্নগুলো ইবিতে ‘সামাজিক সংকট নিরসনে আল-কুরআনের রূপরেখা’ শীর্ষক সেমিনার নবম পে-স্কেলের গেজেট জারি, কার্যকর ১ জুলাই থেকে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে সদ্য নিযুক্ত উপাচার্যদের ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ইউট্যাবের সংবর্ধনা

ব্ল্যাক সি সংকটে আবারও ভারতের গমে ফিরছে বাংলাদেশ, কেজিতে খরচ প্রায় ৩৮-৪০ টাকা

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন /
কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চলে গম সরবরাহ ও পরিবহনে নতুন করে বিঘ্ন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার প্রেক্ষাপটে আবারও ভারত থেকে বড় পরিসরে গম কিনছে বাংলাদেশ। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের ২৩ সেপ্টেম্বরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত গম রপ্তানির বিধিনিষেধ শিথিল করার পর বাংলাদেশি আমদানিকারকেরা ইতোমধ্যে দুই লাখ টনের বেশি ভারতীয় গমের বুকিং দিয়েছেন। ২০২২ সালে ভারত রপ্তানি সীমিত করার পর এটিই বাংলাদেশে ভারতীয় গমের প্রথম উল্লেখযোগ্য বাণিজ্যিক চালান।
ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনটি পরদিন Business Standard ও Business Today-সহ একাধিক মাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এসব প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের রপ্তানি বিধিনিষেধ আগস্টের শেষ দিকে শিথিল হওয়ার পরই বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা নতুন করে ভারতীয় গমের দিকে ঝুঁকেছেন।
টনপ্রতি ৩০৫-৩২৬ ডলার
ব্লুমবার্গের উদ্ধৃত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তথ্য অনুযায়ী, ভারতের গম বাংলাদেশে পৌঁছানোর পর প্রতি টনের দাম ৩০৫ থেকে ৩২৬ ডলারের মধ্যে হতে পারে। বেশিরভাগ গম রেলপথে বাংলাদেশে আনার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ২৪ সেপ্টেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, ডলারের রেফারেন্স রেট ছিল প্রতি ডলার ১২৩ দশমিক ২০ টাকা (সকাল ১১টা পর্যন্ত)।
এই হার ধরে হিসাব করলে—
৩০৫ ডলার/টন ≈ ৩৭ হাজার ৬০০ টাকা/টন
অর্থাৎ প্রতি কেজি ≈ ৩৭ দশমিক ৬ টাকা
৩২৬ ডলার/টন ≈ ৪০ হাজার ১০০ টাকা/টন
অর্থাৎ প্রতি কেজি ≈ ৪০ দশমিক ১ টাকা
অর্থাৎ, ব্লুমবার্গে উল্লেখ করা দর অনুযায়ী বাংলাদেশে পৌঁছানো ভারতীয় গমের মূল্য আনুমানিক ৩৭ দশমিক ৬ থেকে ৪০ দশমিক ১ টাকা কেজি হতে পারে।
তবে এটি আমদানিকারকের ক্রয়/ডেলিভারি পর্যায়ের আনুমানিক মূল্য। এর সঙ্গে দেশে খালাস, বন্দর ও পরিবহন ব্যয়, মজুত, মিলিং, ব্যবসায়িক মার্জিন এবং অন্যান্য খরচ যোগ হলে ভোক্তা পর্যায়ে আটা বা গমের দাম আরও বেশি হবে।
কেন আবার ভারতের দিকে ঝুঁকছে বাংলাদেশ?
বাংলাদেশ প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ গম আমদানি করে। USDA-এর ২০২৬ সালের বাংলাদেশবিষয়ক প্রতিবেদনে ২০২৫/২৬ বিপণন বছরে বাংলাদেশের গম আমদানি প্রায় ৭ দশমিক ৪ মিলিয়ন টন হয়েছে বলে অনুমান করা হয়েছে।
২০২২ সালের আগে ভারত ছিল বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ গম সরবরাহকারী। ভারতীয় গমের ক্ষেত্রে ভৌগোলিক নৈকট্যের কারণে পরিবহন সময় ও ব্যয় তুলনামূলক কম—বিশেষ করে রেল ও স্থলপথ ব্যবহার করা যায়। USDA-এর আগের তথ্যেও দেখা যায়, ২০২১/২২ বিপণন বছরের প্রথম সাত মাসে ভারত বাংলাদেশে প্রায় ২ দশমিক ৮ মিলিয়ন টন গম সরবরাহ করেছিল, যা ওই সময়ের মোট আমদানির প্রায় ৬৬ শতাংশের সমান ছিল।
কিন্তু ২০২২ সালের মে মাসে অভ্যন্তরীণ বাজারে দাম বৃদ্ধি এবং খাদ্যনিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে ভারত গম রপ্তানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করে। এরপর বাংলাদেশকে আর্জেন্টিনা, কানাডা, রাশিয়া, ইউক্রেনসহ অন্যান্য উৎসের ওপর বেশি নির্ভর করতে হয়।
কৃষ্ণসাগরের সংকট কেন গুরুত্বপূর্ণ?
রাশিয়া ও ইউক্রেন বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ গম উৎপাদন ও রপ্তানিকারক দেশ। কৃষ্ণসাগর দিয়ে এসব দেশের বিপুল পরিমাণ শস্য আন্তর্জাতিক বাজারে যায়। যুদ্ধ ও সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা ও পরিবহন সমস্যার কারণে ওই অঞ্চলের সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন তৈরি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে গমের দাম বাড়ার চাপ তৈরি হয়।
বাংলাদেশও এর প্রভাব থেকে পুরোপুরি মুক্ত নয়। USDA-এর তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের গম আমদানির একটি বড় অংশ কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চলসহ আন্তর্জাতিক বাজারনির্ভর উৎস থেকে এসেছে।
এই পরিস্থিতিতে ভারতীয় গমের সরবরাহ পুনরায় উন্মুক্ত হওয়ায় বাংলাদেশের আমদানিকারকদের জন্য কাছের একটি বিকল্প উৎস তৈরি হয়েছে।
শ্রীলঙ্কাও কিনেছে ভারতীয় গম
শুধু বাংলাদেশ নয়, দক্ষিণ এশিয়ার আরেক দেশ শ্রীলঙ্কার আমদানিকারকেরাও সম্প্রতি ভারত থেকে গম কিনেছে। ব্লুমবার্গের উদ্ধৃত তথ্য অনুযায়ী, শ্রীলঙ্কার আমদানিকারকেরা প্রায় ৬০ হাজার টন ভারতীয় গম কিনেছেন। জাহাজে তোলার আগে এর দাম ছিল প্রায় ৩২৫ ডলার প্রতি টন।
চার বছর পর ভারতের গম রপ্তানিতে পরিবর্তন
২০২২ সালে রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পর ভারত নিয়মিত বাণিজ্যিকভাবে গম রপ্তানি প্রায় বন্ধ করে দেয়। তবে ২০২৬ সালে নির্দিষ্ট কোটা ও অনুমোদনের আওতায় সীমিত পরিমাণে রপ্তানির সুযোগ আবার তৈরি হয়েছে।
ভারতের রপ্তানি নীতির পরিবর্তন বাংলাদেশের মতো বড় আমদানিকারকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ কমে গেলে কাছের ভারতীয় উৎস থেকে দ্রুত গম আনার সুযোগ পাওয়া যায়।
আটার দামেও চাপ
গম আমদানির এই নতুন প্রবণতার সময় দেশের বাজারে আটার দামও বাড়ছে। ব্লুমবার্গের উদ্ধৃত বাংলাদেশ সরকারের ট্রেডিং করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকায় পরিশোধিত গমের আটার দাম সাম্প্রতিক এক মাসে ১৭ শতাংশ বেড়েছে।
বাংলাদেশে গম চালের পর অন্যতম প্রধান খাদ্যশস্য। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে গমের দাম বাড়লে শুধু আটা-ময়দার বাজারেই নয়, খাদ্য মূল্যস্ফীতিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
সরবরাহের চেয়ে বড় প্রশ্ন দাম নিয়ে
S&P Global Energy-এর এশিয়া-প্যাসিফিক কৃষিপণ্য গবেষণা বিভাগের প্রধান ভ্লাদিমির জিনকোভস্কি ব্লুমবার্গকে বলেছেন, বাংলাদেশের জন্য গমের সরবরাহ পাওয়া নিয়ে যতটা না উদ্বেগ, তার চেয়ে বড় বিষয় হলো সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে গম ও গমজাত পণ্যের দাম রাখা।
তার মতে, গমের দাম আরও বাড়লে ভোক্তাদের একটি অংশ গমের পরিবর্তে চালের দিকে ঝুঁকতে পারে।
ভারতের গমে ফেরার অর্থ কী?
বাংলাদেশের জন্য ভারতীয় গমের বড় সুবিধা হলো ভৌগোলিক নৈকট্য। সমুদ্রপথের পাশাপাশি রেল ও স্থলপথে দ্রুত সরবরাহের সুযোগ থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার সময় ভারত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প উৎস হতে পারে।
তবে ভারতীয় গমের এই নতুন আমদানি আন্তর্জাতিক বাজারের দাম পুরোপুরি কমিয়ে দেবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। কারণ বাংলাদেশের মোট প্রয়োজনের তুলনায় বর্তমানে বুকিং দেওয়া দুই লাখ টনের বেশি গম একটি সীমিত পরিমাণ। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারের দাম, কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চলের সরবরাহ, ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজার এবং রপ্তানি নীতির পরবর্তী পরিবর্তনের ওপরও আমদানি ব্যয় নির্ভর করবে।
সব মিলিয়ে, চার বছর পর বাংলাদেশি আমদানিকারকদের ভারতীয় গমের দিকে ফিরে যাওয়া দক্ষিণ এশিয়ার গমবাজারে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। তবে এর সরাসরি সুফল ভোক্তা পর্যায়ে কতটা পৌঁছাবে, তা নির্ভর করবে আমদানি ব্যয়ের পাশাপাশি পরিবহন, মিলিং ও বাজার ব্যবস্থাপনার ওপর।
তথ্য যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন: আপনার দেওয়া প্রতিবেদনে ১২৩ টাকা/ডলার ধরে কেজিপ্রতি ৩৭.৫২–৪০.১০ টাকা বলা হয়েছে—হিসাবটি মোটামুটি ঠিক। তবে ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর বাংলাদেশ ব্যাংকের রেফারেন্স রেট ১২৩.২০ টাকা হওয়ায় হালনাগাদ হিসাবে তা প্রায় ৩৭.৬–৪০.১ টাকা/কেজি। �
Bangladesh Bank
আরেকটি বিষয় হলো, ৩০৫–৩২৬ ডলার/টনকে সরাসরি “বাংলাদেশের বাজারে খুচরা গমের দাম” বলা ঠিক হবে না। এটি ব্লুমবার্গের সূত্র অনুযায়ী বাংলাদেশে পৌঁছানোর সম্ভাব্য আমদানি/ডেলিভারি মূল্য; এর সঙ্গে পরবর্তী খরচ যোগ হবে। �
Business Today

নিউজটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.

পুরোনো খবর এখানে,তারিখ অনুযায়ী

© All rights reserved © 2024 dainikkushtia.net
Maintenance By DainikKushtia.net